Last Updated on [modified_date_only] by Ananya Dey
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া নিয়ে সংঘাতে জড়ায় রাজ্যের শাসক ও বিরোধী দল। মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) পূর্ববর্তী নির্দেশ অমান্য করেই মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় বিশেষ নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে প্রবেশ করেছেন বলে অভিযোগ তুলে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানি হয় বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে।
চরম বিরক্তি প্রকাশ বিচারপতির (Calcutta High Court)
বিরোধী দলনেতার পদ সাংবিধানিক নয় বলে শুনানিতে দাবি রাজ্যের। এই বিষয় নিয়ে আদালতে মামলা হওয়ায় চরম বিরক্তি প্রকাশ করেন বিচারপতি। এতে আদালতের সময় নষ্ট হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন বিচারপতি। নির্দিষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) বিধানসভায় নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে প্রবেশ করেছিলেন, তা হলফনামা আকারে বিধানসভার অধ্যক্ষেরর থেকে রিপোর্ট তলব আদালতের। আগামী ৯ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি। ওইদিন আদালতে (Calcutta High Court) রিপোর্ট জমা দিতে হবে অধ্যক্ষকে। আগামী ১৬ জানুয়ারির মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি করার কথা জানালেন বিচারপতি সিনহা। সেই সঙ্গে এই সংক্রান্ত বিষয়গুলি বিধানসভার অভ্যন্তরেই মিটিয়ে নেওয়ার আবেদনও করেছেন বিচারপতি।
শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবীর দাবি (Calcutta High Court)
এদিন শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী বিল্লদল ভট্টাচার্য্য আদালতে শুনানিতে বলেন, এর আগে এই মামলায় আদালতের রায় ছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে। গত ৪ নভেম্বর আদালতের নির্দেশ অমান্য করে মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভার ভিতরে তাঁর নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে প্রবেশ করেন। এর আগে আদালতে (Calcutta High Court) নির্দেশ ছিল বিরোধী বা শাসক দলের কোনও বিধায়ক বা মন্ত্রী ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে বিধানসভার ভিতরে প্রবেশ করতে পারবে না। সেই নির্দেশ অবমাননা করা হয়েছে।
রাজ্যের আইনজীবীর দাবি
তার উত্তরে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত দাবি করেন, এটা কোনভাবেই আদালত অবমাননার মামলা নয়। কারণ, এখানে যে নির্দেশের কথা বলা হচ্ছে সেই নির্দেশটি দিয়েছিলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ।
‘বিরোধী দলনেতার পদ সাংবিধানিক নয়’
তখন বিচারপতি এজি-কে প্রশ্ন করেন, আপনি যে অর্ডারের কথা বলছেন সেটি আদালতের নয়! অধ্যক্ষের? তার জবাবে এজি বলেন, ‘হ্যাঁ। কারণ আদালত অধ্যক্ষকে হলফনামা দিয়ে জানাতে বলেছিল, বিধানসভার ভিতরে নিরাপত্তার বিষয়টি। তার জবাবে অধ্যক্ষ জানিয়েছিলেন বিধানসভার ভিতরে কাউকেই নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এক্ষেত্রে নিয়ম সকলের জন্য সমান। সেই নিয়মের কথাই উল্লেখ করা হয়েছিল অর্ডারে। তাই এটা আদালত অবমাননার মামলা নয়। দ্বিতীয়ত, এখানে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রবেশ করার কথা বলা হচ্ছে। এটা কোনও ভাবেই রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার বিষয় হতে পারে না। কারণ, মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর পদগুলো হচ্ছে সাংবিধানিক পদ। সাংবিধানিক পদ হিসেবে বিরোধী দলনেতার পদের কোনও উল্লেখ নেই। তাই মুখ্যমন্ত্রীকে বিশেষ নিরাপত্তা নিয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
‘আদালতের সময় নষ্ট হচ্ছে’ : বিচারপতি
বিচারপতি সিনহা তখন এজি-এর উদ্দেশ্যে বলেন, তাহলে সেদিন নিরাপত্তা বিষয়ক কোনও বিষয় ছিল। সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রীকে নিরাপত্তা নিয়ে বিধানসভায় ঢুকতে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল? তাতে সম্মতি জানান এজি।
শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী তখন বলেন, সামনেই শীতকালীন অধিবেশন রয়েছে বিধানসভায়। তাই এই বিষয়ে আদালত একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিক। তখনই বিচারপতি বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, এই ধরনের মামলায় আদালতের সময় নষ্ট হচ্ছে। তখন এজি জানান, মামলাটি পরেও শুনানি হতে পারে।
সুস্পষ্ট নির্দেশের দাবি বিরোধী দলনেতার আইনজীবীর
কিন্তু বিরোধী দলনেতার আইনজীবী এই নিয়ে আদালতের নির্দেশ দাবি করে বলেন, যেহেতু সামনেই বিধানসভায় শীতকালীন অধিবেশন রয়েছে এবং আদালতেরও শীতকালীন ছুটি পড়ে যাবে, তাই এই নিয়ে আদালত সুস্পষ্ট নির্দেশ দিক। বিচারপতি তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও হুমকি কি রয়েছে?’ তার উত্তরে শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী বলেন, ‘আমরা আদালতকে আগেই জানিয়েছি, আমাদের উপর গত ২২ মে হামলা হয়েছে।’ এজি-ও সেই কথা স্বীকার করে নিয়ে জানান, তারপর এরকম কিছু আর ঘটেনি।
৯ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি
তারপরই বিচারপতি অমৃতা সিনহা নির্দেশ দেন, গত ৪ নভেম্বর মুখ্যমন্ত্রীকে বিশেষ নিরাপত্তা নিয়ে বিধানসভায় প্রবেশের অনুমতি কেন দেওয়া হয়েছিল তা হলফনামা আকারে বিধানসভার অধ্যক্ষকে রিপোর্ট দিতে হবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ৯ জানুয়ারি। ওই দিন আদালতে রিপোর্ট দিতে হবে অধ্যক্ষকে। আগামী ১৬ জানুয়ারি মামলার নিষ্পত্তি করা হবে বলেও জানান বিচারপতি। সেইসঙ্গে রাজ্যকে বিচারপতি অনুরোধ করেন, এই বিষয়টি যেন বিধানসভার অভ্যন্তরেই মিটিয়ে নেওয়া হয়।


