Last Updated on [modified_date_only] by Suparna Ghosh
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নাগরাকাটার বিস্তীর্ণ অঞ্চল হঠাৎ ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত হয়েছিল। গৃহহীন হয়ে পড়েছিলেন প্রায় দু’হাজার পরিবার। প্রবল জলস্রোতে ভেসে যায় এলাকার একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম—গাঠিয়া নদীর উপর নির্মিত টানাটানি সেতু(Nagrakata Bridge)। সেতু ভেঙে পড়ার ফলে বামনডাঙ্গা, টুন্ডু, খ্যারকাটা ও মডেল ভিলেজ-সহ গোটা অঞ্চল এক প্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। স্কুল-কলেজ, বাজার, স্বাস্থ্য পরিষেবা—সব কিছুই থমকে যায়। নদী পারাপার করতে হত বুকসমান জল পেরিয়ে বা কর্মচারীদের সহায়তায় নৌকায় ভর করে। আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটছিল এলাকাবাসীর।
মুখ্যমন্ত্রীর পরিদর্শন ও জরুরি নির্দেশ(Nagrakata Bridge)
বন্যার পর পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে নাগরাকাটা পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষতিগ্রস্ত সেতু ও বাঁধ দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট মত ছিল—সেতু(Nagrakata Bridge) ভেঙে থাকার ফলে বন্যাত্রস্ত মানুষের কাছে খাবার, ওষুধ এবং অন্যান্য জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে। তাই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় অবিলম্বে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জেলা প্রশাসন, পিডব্লিউডি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দফতর সমন্বয়ে দ্রুত কাজ শুরু করে। এক মাসেরও কম সময়ে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন টানাটানি ব্রিজ এবং নদীবাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন হয়।
২০ হাজার মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফেরা(Nagrakata Bridge)
গত ৫ অক্টোবর নারগাকাটা থেকে বামনডাঙ্গা চা-বাগান এলাকার একমাত্র ব্রিজ(Nagrakata Bridge) ভেঙে যাওয়ার ফলে প্রায় কুড়ি হাজার মানুষ বিপদের মুখে পড়েছিলেন। এলাকাবাসীর বড় অংশই চা-বাগানের শ্রমিক। তাঁদের দৈনন্দিন বাজার, কাজের জায়গা, স্কুল-কলেজ ও হাসপাতালের একমাত্র নির্ভরতা ছিল এই সেতু। সেতু ভেঙে যাওয়ার পর নদী পারাপার কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে, সৃষ্টি হয় দুর্ভোগের পাহাড়।
বন্যা-পরবর্তী পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—দেড় মাসের মধ্যে নতুন সেতু হয়ে যাবে। ঠিক সময়সীমার মধ্যেই কাজ শেষ করে জেলা প্রশাসন। জলপাইগুড়ির জেলাশাসক শামা পারভিন জানান, “মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সব দফতর একযোগে কাজ করায় এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।”

আরও পড়ুন: Mamata Banerjee: আজ জনসভায় বিশেষ নির্দেশিকা দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী
নতুন সেতুতে স্বস্তির হাসি
ইতিমধ্যেই নতুন সেতু খুলে দেওয়া হয়েছে মানুষের জন্য। স্বস্তিতে ভরতি মুখ চা-বাগানের শ্রমিকদের। তাঁদের কথায়—“ব্রিজ না থাকলে আমরা পুরোপুরি আটকে পড়তাম। মুখ্যমন্ত্রী কথা রেখেছেন, তাই আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছি।”

আরও পড়ুন: Patties Seller Beaten: গীতাপাঠের মাঠে প্যাটিস ফেলে দিয়ে বিক্রেতাকে মার, গ্রেফতার ৩!
অক্টোবরে হঠাৎ বন্যার ধাক্কায় ক্ষতবিক্ষত অঞ্চল নতুন টানাটানি সেতু পাওয়ার পর আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। যোগাযোগ সহজ হয়েছে, নিরাপত্তা ফিরেছে, আর মানুষের জীবনে যোগ হয়েছে নতুন আশার আলো।

