Last Updated on [modified_date_only] by Ananya Dey
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দেশের পার্লামেন্ট লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘বঙ্কিম দা’ সম্বোধন এবং ‘বন্দেমাতরম’ নিয়ে যখন তুমুল রাজনৈতিক জলঘোলা, ঠিক সেই সময় হুগলির চুঁচুড়ার জোড়ঘাটে অবস্থিত সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের (Bankim Chandra Chatterjee) স্মৃতিবিজড়িত ‘বন্দেমাতরম ভবন’-এর হাল দেখলে হতাশ হতে হয়। যে ঐতিহাসিক বাড়িতে বসে তিনি সৃষ্টি করেছিলেন ভারতের রাষ্ট্র গীত ‘বন্দেমাতরম’, সার্ধশতবর্ষ উদযাপনের মুখে সেই বাড়িটি আজও চরম অনাদরে।
অনাদরে ঐতিহাসিক ভবন (Bankim Chandra Chatterjee)
ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (Bankim Chandra Chatterjee) আর তাঁর অমর সৃষ্টি ‘বন্দেমাতরম’কে নিয়ে শাসক তৃণমূল এবং দেশ শাসক বিজেপির মধ্যে চলছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। সাহিত্য সম্রাটের আবক্ষ মূর্তিও ছিল খোলা আকাশের নীচে অনাদরে। পরে এক পুলিশকর্মী ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাতে আচ্ছাদন দেন।
১৮৭৬ সালে হুগলির ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদে যোগ দিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নৈহাটির কাঁঠালপাড়া থেকে চুঁচুড়ার জোড়ঘাটের এই বাড়িতে এসেছিলেন। এই বাড়িতে থাকাকালীনই প্রকাশিত হয় ‘রজনী’, ‘উপকথা’, ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ এবং তাঁর কালজয়ী উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’। স্থানীয় ইতিহাস ও সাহিত্য গবেষকদের মতে, এই বাড়িতেই ‘আনন্দ মঠ’-এর বীজমন্ত্র ‘বন্দেমাতরম’ লেখা হয়েছিল।
ধ্বংসের মুখে ‘বন্দেমাতরম ভবন’ (Bankim Chandra Chatterjee)
১৯৯২ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ‘বন্দেমাতরম ভবন’টি অধিগ্রহণ করে। তবে সংস্কারের অভাবে এর অবস্থা প্রায় ধ্বংসের মুখে পৌঁছায়। ১৯৯৮ সালে একবার সংস্কার হলেও বর্তমানে ফের বাড়িটির রক্ষণাবেক্ষণের অভাব প্রকট। সাহিত্য সম্রাটের (Bankim Chandra Chatterjee) সৃষ্টি নিয়ে একটি সংগ্রহশালা তৈরির দাবি দীর্ঘদিনের হলেও তা আজও পূরণ হয়নি।
পুলিশকর্মীর মানবিক উদ্যোগ
ভবনের সামনে বঙ্কিমচন্দ্রের আবক্ষ মূর্তিটি ছিল সম্পূর্ণ খোলা আকাশের নীচে। স্থানীয় পুরসভা বা প্রশাসনের কেউ উদ্যোগী না হওয়ায় শেষমেশ চন্দননগর পুলিশের কর্মী সুকুমার উপাধ্যায় ওই আবক্ষে একটি আচ্ছাদনের ব্যবস্থা করে দেন। মালা পরানোর জন্য সিঁড়ির ব্যবস্থাও করেন তিনি।
রাজনীতিতে দায় ঠেলাঠেলি
‘বন্দেমাতরম’ নিয়ে লোকসভা থেকে রাজ্যের রাস্তায় রাজনীতি চললেও, বাড়িটির বেহাল দশা নিয়ে শাসক এবং বিরোধী, দুই পক্ষই একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে।
তৃণমূলের অভিযোগ
চুঁচুড়ার তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার লোক দেখানো আলোচনা করছে বন্দেমাতরম নিয়ে। বিজেপি বাংলা বিরোধী, বাঙালি বিরোধী। যে ভবনে বঙ্কিমচন্দ্র থাকতেন, সেটার আজ যে অগ্নপ্রায় অবস্থা, তা নিয়ে কেন্দ্রের কোনো মাথাব্যথা নেই। যা মাথাব্যথা তা হুগলি-চুঁচুড়া পুরসভা এবং রাজ্য সরকারের। এটা ভোটের আগে একটা চমক। ২০২১ সালে ডানলপে প্রধানমন্ত্রী সভা করতে এসে বন্দেমাতরম ভবন নিয়ে অনেক কথা বলে গিয়েছিলেন, সবই ছিল ছেলে ভোলানো কথা, তোতা পাখির বুলির মতো।”
বিজেপির পাল্টা জবাব
বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমরা তপন শিকদারকে নিয়ে বন্দেমাতরম ভবন বাঁচানোর জন্য আন্দোলন, অনশন করেছিলাম। এটা খুবই দুর্ভাগ্য যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মস্থান দেবানন্দপুরের একই দশা। আর যে স্বাধীনতার বীজমন্ত্র ‘বন্দেমাতরম’ নিয়ে বিপ্লবীরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, সেই বন্দেমাতরম ভবনের আজও পর্যন্ত কোনো উন্নতি হয়নি। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে কিছু করার উদ্যোগ নেওয়া হলে সেটা করতে দেওয়া হয় না, টাকা এলে সেই টাকা চুরি হয়ে যায়। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে কাজ করবে।”
আরও পড়ুন : Mamata Banerjee: কৃষ্ণনগরের মঞ্চ থেকে কেন্দ্রকে একহাত মমতার!
ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতি এমন চরম উদাসীনতা এবং রাজনৈতিক দায় ঠেলাঠেলির মাঝে, চুঁচুড়ার বন্দেমাতরম ভবনটি আজও উপেক্ষিত থেকে গেল, যা বঙ্কিমচন্দ্রের অমর সৃষ্টির সার্ধশতবর্ষ উদযাপনের আবহে এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন।


