Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২০২৫ সালের গঙ্গাসাগর মেলা ঘিরে রাজ্য সরকারের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে (Gangasagar Mela)। প্রতিবছরই রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ এবং গুরুত্বপূর্ণ এই ধর্মীয় সমাবেশকে ঘিরে লক্ষাধিক মানুষের আগমন ঘটে সাগরদ্বীপে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। সেই কারণে মেলার নিরাপত্তা, পরিকাঠামো, পরিবহণ এবং অন্যান্য দফতরের সমন্বয়ের বিষয়টি পর্যালোচনা করতে নবান্নে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডাকলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কুম্ভমেলার প্রেক্ষাপটে নতুন দায়িত্ব (Gangasagar Mela)
এ বছরের শুরুতে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে অনুষ্ঠিত কুম্ভমেলায় পদপিষ্ট হয়ে ৩০ জন পুণ্যার্থীর মৃত্যু বড় প্রশ্ন তুলেছিল আয়োজকদের বিরুদ্ধে। সেই দুর্ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী কড়া সমালোচনা করে কুম্ভকে ব্যঙ্গ করে বলেন “মহাকুম্ভ নয়, মৃত্যুকুম্ভ।” এবার সেই অভাবনীয় ভিড় এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার প্রকৃত পরীক্ষাই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সামনে। কারণ ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে পুণ্যস্নানের সময়কাল, যার কেন্দ্রবিন্দু হবে গঙ্গাসাগর মেলা।
মুখ্যমন্ত্রীর ডাক নবান্ন বৈঠক (Gangasagar Mela)
নবান্নের তরফে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে যে ১৫ ডিসেম্বর বিকেল ৪.৩০-এ মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন সভাঘরে গঙ্গাসাগর মেলার সার্বিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে বৈঠক করবেন। এই বৈঠকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, ভারপ্রাপ্ত ডিজি রাজীব কুমার, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রী ও সচিব যেমন, জনস্বাস্থ্য কারিগরি (PHE), সুন্দরবন উন্নয়ন, পূর্ত, পরিবহণ, বিদ্যুৎ, খাদ্য, দমকল, পরিবেশ, বিপর্যয় মোকাবিলা ইত্যাদি মেলার প্রস্তুতিতে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের ভূমিকা ৮০%, তাই মন্ত্রী পুলক রায় এবং তাঁর দফতরের সচিবকেও বিশেষভাবে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতির নির্দেশ (Gangasagar Mela)
গঙ্গাসাগর মেলা সরাসরি সাগরদ্বীপ ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের উপর প্রভাব ফেলে। সেই কারণে বৈঠকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে, মথুরাপুর লোকসভার সাংসদ বাপি হালদার, প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী, প্রাক্তন সাংসদ মণীশ গুপ্ত, সাগর লাগোয়া বিধানসভার সমস্ত বিধায়ক, এতে মেলার আগে স্থানীয় সমস্যাগুলি সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।
পুণ্যস্নানের দিন (Gangasagar Mela)
২০২৫ সালে ১০ থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সাগরদ্বীপে বসবে গঙ্গাসাগর মেলার আসর। এর মধ্যে ১৪ জানুয়ারি পুণ্যস্নানের মূল দিন, যেদিন সবচেয়ে বেশি ভিড় প্রত্যাশিত। দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রী এসে স্নান করেন গঙ্গা ও সমুদ্রের মিলনস্থলে।
আরও পড়ুন: South Kolkata Fire: গভীর রাতে দক্ষিণ কলকাতার বিধ্বংসী আগুন
নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো
প্রতিবছর গঙ্গাসাগর মেলা পরিচালনা করতে, বিশাল সংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ, RAF ও সিভিল ডিফেন্স মোতায়েন, অস্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র, পানীয় জলের ব্যবস্থা, পরিবহণে বিশেষ লঞ্চ, জাহাজ, বাস পরিষেবা, বর্জ্য নিষ্পত্তি, পরিবেশ সংরক্ষণ উদ্যোগ, দমকল বাহিনী ও বিপর্যয় মোকাবিলা ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখা, ডিজিটাল নজরদারির জন্য CCTV ক্যামেরা বসানো, এগুলি রাজ্য সরকারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল প্রস্তুতি।



