Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রবিবার সকালে ঘন বিষাক্ত ধোঁয়াশার ভয়াল (Delhi Smog) চাদরে ঢাকা পড়ে ঘুম থেকে ওঠে দিল্লি ও সংলগ্ন জাতীয় রাজধানী অঞ্চল। ভোরের আলো ফোটার আগেই রাজধানী এবং আশপাশের শহরগুলির আকাশ ঢেকে যায় ধোঁয়া ও সূক্ষ্ম ধূলিকণায়। দৃশ্যমানতা নেমে আসে বিপজ্জনক স্তরে, যার জেরে ভোর থেকেই ব্যাহত হয় যান চলাচল, অফিস যাতায়াত এবং দৈনন্দিন জীবন।
দিল্লির একিউআই (Delhi Smog)
কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (সিপিসিবি)-র প্রকাশিত তথ্য (Delhi Smog) অনুযায়ী, রবিবার সকাল ৬টায় দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) রেকর্ড করা হয় ৪৯১। এই মাত্রা ‘সিভিয়ার প্লাস’ শ্রেণিভুক্ত, যা বায়ুদূষণের সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্যায় হিসেবে ধরা হয়। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দিল্লি-এনসিআরে এটি সর্বোচ্চ দূষণের রেকর্ড। শনিবার দিল্লির একিউআই ছিল ৪৩১, যা আগেই ‘মারাত্মক’ পর্যায়ে ছিল। কিন্তু মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দূষণের মাত্রা আরও বেড়ে রবিবার তা বিপজ্জনক সীমা ছাড়িয়ে যায়। শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় সামগ্রিক একিউআই ছিল ৪৪৮, যেখানে বিকেল ৪টায় ২৪ ঘণ্টার গড় ছিল ৩৪৯—অর্থাৎ ‘খুব খারাপ’। রাতের বেলা বাতাসের গতি কমে যাওয়া এবং তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়ায় দূষণ আটকে পড়ে, ফলে রবিবার সকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
ঘন ধোঁয়াশা ছড়িয়ে পড়ে (Delhi Smog)
দিল্লির পাশাপাশি গুরুগ্রাম, নয়ডা, গাজিয়াবাদ এবং ফরিদাবাদ—এনসিআরের (Delhi Smog) প্রায় প্রতিটি এলাকায় ঘন ধোঁয়াশা ছড়িয়ে পড়ে। বহু জায়গায় কয়েক মিটারের বেশি দূরত্বে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। জাতীয় সড়ক, ফ্লাইওভার ও আবাসিক এলাকায় যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একিউআই ২০১ থেকে ৩০০ হলে তা ‘খারাপ’, ৩০১ থেকে ৪০০ হলে ‘খুব খারাপ’ হিসেবে চিহ্নিত হয়। সূচক ৪০১ পেরোলেই বায়ুর মান ‘মারাত্মক’ স্তরে পৌঁছে যায়। আর একিউআই ৪৫০-এর উপরে গেলে তা ‘সিভিয়ার প্লাস’ হিসেবে ধরা হয়, যা সবচেয়ে বিপজ্জনক বিভাগ। এই অবস্থায় শিশু, প্রবীণ, গর্ভবতী মহিলা এবং শ্বাসযন্ত্র বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। এমনকি সুস্থ ব্যক্তিরাও শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা, মাথা ঘোরা এবং বুকে অস্বস্তির মতো সমস্যায় ভুগতে পারেন।
দূষণের অন্যতম বড় উৎস (Delhi Smog)
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি (Delhi Smog) ম্যানেজমেন্ট (সিএকিউএম) অবিলম্বে সমগ্র দিল্লি-এনসিআর জুড়ে গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান (গ্র্যাপ)-এর চতুর্থ ও সর্বোচ্চ পর্যায় কার্যকর করে। একিউআই ৪৫০ ছাড়ালেই এই স্তরের বিধিনিষেধ চালু করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং দূষণের আরও বৃদ্ধি রোধ করা। গ্র্যাপ স্টেজ-৪-এর আওতায় দিল্লি-এনসিআর জুড়ে সমস্ত নির্মাণ, ভাঙার কাজ, পাথর ভাঙার কল এবং খনি সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, এই ধরনের কাজ থেকে উৎপন্ন ধুলো ও সূক্ষ্ম কণাই দূষণের অন্যতম বড় উৎস। আগেই গ্র্যাপ স্টেজ-I, II ও III-এর অধীনে কিছু বিধিনিষেধ ছিল, এবার তার সঙ্গে যোগ হলো সর্বোচ্চ স্তরের কড়াকড়ি।
হাইব্রিড পদ্ধতিতে ক্লাস চালানোর নির্দেশ
শিশুদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সমস্ত স্কুলকে হাইব্রিড পদ্ধতিতে ক্লাস চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, অনলাইন ও অফলাইন-দুই পদ্ধতির সমন্বয়ে পড়াশোনা চলবে, যাতে পড়ুয়াদের শারীরিক উপস্থিতি কমানো যায়। পাশাপাশি, স্থানীয় পরিস্থিতির ভিত্তিতে ষষ্ঠ থেকে নবম এবং একাদশ শ্রেণির সরাসরি ক্লাস সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও রাজ্য সরকার এবং দিল্লি সরকারের হাতে রাখা হয়েছে। দূষণ কমাতে পরিবহন ব্যবস্থাতেও ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। গ্র্যাপ-৪ অনুযায়ী দিল্লিতে ট্রাক প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী এবং অত্যাবশ্যক পণ্য পরিবহনকারী ট্রাক এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
চার চাকার গাড়ির চলাচল কঠোরভাবে সীমিত
এলএনজি, সিএনজি, বৈদ্যুতিক এবং বিএস-৬ ডিজেল চালিত ট্রাক ও যানবাহন চলাচলের অনুমতি পাবে। দিল্লি ও এনসিআরের বিভিন্ন এলাকায় বিএস-৩ পেট্রোল এবং বিএস-৪ ডিজেল চার চাকার গাড়ির চলাচল কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছে।যানজট ও বায়ুদূষণ কমানোর লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি সমস্ত অফিসকে ৫০ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাকি কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে। এই নির্দেশ পরিবেশ (সুরক্ষা) আইন, ১৯৮৬-এর ধারা ৫ অনুযায়ী জারি করা হয়েছে। কেন্দ্র সরকার প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সরকারি অফিসগুলির জন্যও বাড়ি থেকে কাজের সময়সীমা বাড়াতে পারে।
আরও পড়ুন: Brown University Firing: ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দুক হামলা, গুলিতে নিহত ২, গুরুতর আহত ৮!
চিকিৎসক ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশু, প্রবীণ নাগরিক, গর্ভবতী মহিলা এবং হাঁপানি, সিওপিডি বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না বেরোনো উচিত। বাইরে বেরোলে এন-৯৫ বা সমমানের মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


