Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোট আর কয়েক মাস দূরে (Mamata Banerjee)। এই সময়েই রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দান ক্রমশ উষ্ণ হয়ে উঠছে। শাসক দল হোক বা বিরোধী সবাই নিজেদের মতো করে জনসংযোগ, সংগঠন মজবুত করা এবং রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কাজে নেমে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক জনসংযোগ কর্মসূচি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

কালীঘাট থেকে এসএসকেএম (Mamata Banerjee)
বুধবার দুপুরে কালীঘাটের নিজের বাসভবন থেকে বেরিয়ে আচমকাই এসএসকেএম হাসপাতালের সামনে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। পূর্বঘোষণা ছাড়াই তিনি নেমে পড়েন হাসপাতাল চত্বরে থাকা ‘মা ক্যান্টিন’-এর সামনে। মুখ্যমন্ত্রীকে সামনে দেখে মুহূর্তেই তৎপর হয়ে ওঠে প্রশাসন। সাধারণ মানুষও কিছুটা হকচকিয়ে যান এই আকস্মিক উপস্থিতিতে।
‘মা ক্যান্টিন’-এ মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে নিজেই কথা বলা শুরু করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্যান্টিনের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে চান, সেদিন কী কী খাবার দেওয়া হচ্ছে। কর্মীরা জানান, প্রতিদিনের মতোই ভাত, ডাল, তরকারির সঙ্গে একটি করে সিদ্ধ ডিম দেওয়া হচ্ছে। কেবল প্রশ্ন করেই থেমে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী। ক্যান্টিন কর্মীদের অনুরোধে কয়েক জন সাধারণ মানুষের হাতে নিজে খাবারের থালা তুলে দেন তিনি। পাশাপাশি, খাবারের মান নিয়ে সরাসরি খোঁজ নেন উপভোক্তাদের কাছ থেকে। কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলার পরেই তিনি নিজের পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন।
সরকারের সামাজিক উদ্যোগ (Mamata Banerjee)
উল্লেখ্য, তৃতীয়বার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর অর্থ দফতরের উদ্যোগে রাজ্যের নানা প্রান্তে ‘মা ক্যান্টিন’ চালু করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মাত্র পাঁচ টাকার বিনিময়ে এখানে প্রতিদিন দুপুরে ডাল, ভাত, তরকারি এবং সিদ্ধ ডিম পাওয়া যায়। বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত চালু থাকে এই সরকারি ক্যান্টিন। শহরের শ্রমজীবী মানুষ, রোগীর আত্মীয়স্বজন এবং দরিদ্র মানুষের কাছে এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই এক বড় ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে।
ভবানীপুর ও ভোটের অঙ্ক (Mamata Banerjee)
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রীও শেষ পর্যন্ত একজন নির্বাচনী প্রার্থী। তাঁকেও সাধারণ মানুষের কাছেই ভোট চাইতে হয়। তাই নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে জনসংযোগ শুরু করাটা স্বাভাবিক রাজনৈতিক কৌশল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ছেড়ে নন্দীগ্রামে লড়াই করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবছর অনেক আগেই ইঙ্গিত মিলেছে, তিনি ফের ভবানীপুর থেকেই প্রার্থী হতে পারেন। সম্প্রতি দলের বিএলএ-দের নিয়ে নিজের বাসভবনে এসআইআর সংক্রান্ত বৈঠকও করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: CM Mamata Banerjee: ব্যবসায়ীদের সমস্যা-সমাধানে একাধিক পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রীর
জনসংযোগ না কি রাজনৈতিক বার্তা?
এই পরিস্থিতিতে এসএসকেএম হাসপাতালের সামনে ‘মা ক্যান্টিন’-এ মুখ্যমন্ত্রীর আচমকা উপস্থিতিকে নিছক প্রশাসনিক পরিদর্শন হিসেবে দেখছেন না অনেকেই। বরং ভোটের আগে ভবানীপুরে নিজের উপস্থিতি জোরালো করার এক কৌশল হিসেবেই বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।



