Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলাদেশের রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও ভারতবিরোধী বিক্ষোভ দেশের জাতীয় নির্বাচনের আগে ভয় ও অস্থিরতার পরিবেশ তৈরি করতে পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল(Bangladesh Election)। মনে করা হচ্ছে এই অস্থিরতার মূল উদ্দেশ্য নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া এবং সেই সুযোগে দেশে ইসলামপন্থী শক্তিগুলিকে সংগঠিত ও শক্তিশালী করা।
ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের নিরাপত্তার অবনতি (Bangladesh Election)
সূত্রের দাবি, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে, যাতে একটি বয়ান তৈরি হয় যে বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন করা নিরাপদ নয়। নির্বাচন পিছিয়ে গেলে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলি নিজেদের অবস্থান মজবুত করার আরও সময় পাবে।
বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হাদি (Bangladesh Election)
গত সপ্তাহে ঢাকায় অজ্ঞাত বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন শরিফ ওসমান হাদি। তিনি ছিলেন গত বছরের জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মুখ, যার জেরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ঘটে এবং মুহাম্মদ ইউনুস দেশের অনির্বাচিত শাসক হিসেবে উঠে আসেন। হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সন্ত্রাস ছড়িয়ে পড়ে।
নিশানায় ভারত-হাসিনা-সংবাদমাধ্যম (Bangladesh Election)
এই সন্ত্রাসের ঘটনায় ভারতীয় কূটনীতিক, শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লিগ এবং সংবাদমাধ্যমগুলিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য করা হয়েছে। চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনে হামলা, সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, রাজশাহীতে আওয়ামি লিগের দফতর ভাঙচুর এবং প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকার কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সন্ত্রাস নাকি রাজনৈতিক অস্ত্র?
উল্লেখযোগ্যভাবে, হাদির মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগেই বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন ও ‘জুলাই চার্টার’ নিয়ে গণভোটের ঘোষণা করে। সূত্রের মতে, এই সন্ত্রাস একটি ‘ম্যানেজড ইনস্টেবিলিটি’-র অংশ, যেখানে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ও মৃত্যুকে দ্রুত রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করে বড় আকারের বিক্ষোভের রূপ দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশে বাড়ছে কট্টরপন্থী শক্তির প্রভাব
গত এক বছরে মহম্মদ ইউনুসের শাসনকালে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর হামলা, সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর আক্রমণ এবং কট্টরপন্থীদের মুক্তির ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ করা হয়েছে দেশের বৃহত্তম দল আওয়ামি লিগকে, আর শক্তিশালী করা হয়েছে জামায়াতে ইসলামি-সহ অন্যান্য কট্টরপন্থী শক্তিকে। এর ফলে বিএনপি-সহ মূলধারার দলগুলিও ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছে।
নির্বাচনে বিলম্ব মানে ইসলামপন্থীদের শক্তিবৃদ্ধি (Bangladesh Election)
সূত্রের মতে, নির্বাচন বিলম্বিত হলে এই ইসলামপন্থী শক্তিগুলি আরও সুসংগঠিত হয়ে উঠবে এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।



