Last Updated on [modified_date_only] by Ananya Dey
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : নিউটাউনের দত্তাবাদে (Calcutta High Court) স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনে অন্যতম অভিযুক্ত রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে নিম্ন আদালতের মঞ্জুর করা আগাম জামিন খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। জামিনের বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল পুলিশ। সেই আবেদনেই সোমবার সাড়া দিল হাইকোর্ট। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রশান্ত বর্মনকে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের।
৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রশান্ত বর্মনকে আত্মসমর্পনের নির্দেশ (Calcutta High Court)
বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বক্তব্য, খুনের মতো ঘটনায় জামিন বা আগাম জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতকে (Calcutta High Court) অভিযুক্তের যে যে বিষয়গুলি খতিয়ে দেখতে হয়, তার কোনোটাই বিধাননগর কোর্ট দেখেনি। তিনি বাস্তব, গুরুতর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রমাণ অস্বীকার করে জামিন দিয়েছেন। তাই নিম্ন আদালতের নির্দেশ খারিজ করা হল। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রশান্ত বর্মনকে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
অপহরণ করে খুনের অভিযোগ (Calcutta High Court)
পশ্চিম মেদিনীপুরের দিলামাটিয়ার বাসিন্দা নিহত স্বর্ণ ব্যবসায়ীর নাম স্বপন কামিল্যা গত ১০-১৫ বছর ধরে দত্তাবাদে দোকান ভাড়া করে ব্যবসা করেন। পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত বিডিও প্রশান্ত বর্মনের বাড়ি থেকে কিছু গহনা চুরি হয়। এবং সেই গহনা স্বপন কামিল্যার দোকানে বিক্রি করা হয় বলে দাবি করেন বিডিও (Calcutta High Court)। সেই বিষয়ে খোঁজখবর করতে স্বপনবাবুর দোকানে আসেন প্রশান্ত বর্মন। এই নিয়ে দু’জনের মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়। গত ২৮ অক্টোবর একটি নীলবাতি গাড়ি নিয়ে আবারও গহনার দোকানে আসেন বিডিও। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিলেন বলেই দাবি স্বর্ণব্যবসায়ীর পরিবারের। ওই গাড়িতে করেই স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। পরের দিন নিউটাউনের যাত্রাগাছির বাগজোলা খালপাড় এলাকার ঝোপ থেকে তাঁর স্বপন কামিল্যার উদ্ধার হয়। তাঁকে অপহরণ করে খুন করার অভিযোগ তোলে পরিবার।
আরও পড়ুন : Humayun Kabir: হুমায়ুনকে জাত তুলে অপমান! তারপরই বড় সিদ্ধান্ত!
ভুয়ো নথি দেখিয়ে আগাম জামিন অভিযুক্তের
এরপরই কিছুদিনের জন্য গা ঢাকা দেন অভিযুক্ত বিডিও প্রশান্ত বর্মন। পরে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বারাসত জজ কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন প্রশান্ত। তাঁর আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করে আদালত। পরে বিধানগর মহকুমা আদালতে হাজিরা দিয়ে তা কার্যকর করেন তিনি। কিন্তু বিধাননগর পুলিশের দাবি, ভুয়ো নথি দেখিয়ে আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়েছেন প্রশান্ত। আদালতে প্রশান্তর আইনজীবী দাবি করেন, ঘটনার দিন তাঁর মক্কেল নিউটাউনের ফ্ল্যাটে ছিলেন না। একটি গেস্ট হাউজে ছিলেন। সেই গেস্ট হাউজের একটি রশিদও আদালতে দেখান তিনি। কিন্তু পুলিশের দাবি, গেস্ট হাউজের সেই রশিদ ভুয়ো। এই তথ্যকে হাতিয়ার করেই প্রশান্তর আগাম জামিন খারিজ করতে তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশ। পুলিশের দাবি, স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ করে প্রশান্তর নিউটাউনের ফ্ল্যাটেই নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ঘটনার দিন প্রশান্ত তাঁর ফ্ল্যাটেই ছিলেন। অভিযুক্ত বিডিও আদালতে মিথ্যে বলে জামিন নিয়েছেন। তাই বারাসত আদালতের জামিন মঞ্জুরের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট।
আরও পড়ুন : Mamata Banerjee: নেতাজি ইন্ডোরে বৈঠক, বিএলএ-দের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিলেন মমতা!
আগাম জামিন খারিজ আদালতের
গত শুনানিতেই অভিযুক্ত বিতর্কিত বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে নিম্ন আদালতের জামিন দেওয়ার নির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। কেস ডায়রি থাকা সত্ত্বেও তাতে ভরসা না করে কী করে নিম্ন আদালতের বিচারক সরকারি কৌঁসুলির কথায় জামিন দিলেন, প্রশ্ন তোলে হাইকোর্ট। এরপরই প্রশান্ত বর্মনের আইনজীবীর বক্তব্য হলফনামা আকারে তলব করেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। গত শুক্রবার সেই রিপোর্ট আদালতে জমা পড়ে। সব পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারপতি অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মনকে নিম্ন আদালতের মঞ্জুর আগাম জামিন খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।


