Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বড়দিনের আনন্দের ঠিক আগের রাতে কর্নাটকের চিত্রদুর্গ জেলায় নেমে এল এক ভয়াবহ বিপর্যয় (Karnataka)। উৎসবের আলো-উৎসাহের মুহূর্তে দেশবাসী যখন আনন্দে মেতে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই দিল্লি–চেন্নাই ৪৮ নম্বর জাতীয় সড়কে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, যা মুহূর্তের মধ্যে কেড়ে নিল বহু মানুষের প্রাণ। নিয়ন্ত্রণহীন একটি লরির সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে জ্বলন্ত চিতায় পরিণত হয় গোটা বাসটি। ঘটনাস্থলেই ঝলসে মৃত্যু হয় অন্তত ১৭ জনের, গুরুতর জখম হন আরও বহু যাত্রী।

গভীর রাতের সেই ভয়াল মুহূর্ত (Karnataka)
বুধবার গভীর রাত, সময় প্রায় ২টো। চিত্রদুর্গ জেলার হিরিয়ুর গ্রামীণ পুলিশ এলাকার গোরলাথু ক্রসিং—চারদিক নিস্তব্ধ, জাতীয় সড়কে ছুটে চলা ভারী যান ছাড়া কোথাও কোনও শব্দ নেই। সেই সময় বেঙ্গালুরু থেকে শিভামোগ্গার উদ্দেশে রওনা দেওয়া ‘সি বার্ড’ নামে একটি বেসরকারি বাস জাতীয় সড়ক ধরে এগোচ্ছিল। বাসে চালক ও কন্ডাক্টর-সহ মোট ৩২ জন যাত্রী ছিলেন। দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তিতে প্রায় সকলেই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। হঠাৎই বিপরীত দিক থেকে আসা একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডার টপকে ঢুকে পড়ে বাসের লেনে। মুহূর্তের মধ্যেই সজোরে ধাক্কা লাগে বাসটির সঙ্গে। সংঘর্ষের অভিঘাত এতটাই প্রবল ছিল যে লরিটি কার্যত বাসের ভিতরে ঢুকে যায়।
অসহায় আর্তনাদ (Karnataka)
সংঘর্ষের সঙ্গে সঙ্গেই ঘটে তীব্র বিস্ফোরণ। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ধরে যায় বাস ও লরিতে। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে গোটা বাসটি। ভয়াবহ আগুনের তাপে ঘুম ভেঙে আতঙ্কে চিৎকার শুরু করেন যাত্রীরা। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। সংঘর্ষের অভিঘাতে বাসের দরজা ও জানালা বিকৃত হয়ে যায়। আগুন, ধোঁয়া ও ভয়াল তাপে অধিকাংশ যাত্রী বাস থেকে বেরোতেই পারেননি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই যাত্রীবাহী বাসটি পরিণত হয় এক বিশাল আগুনের গহ্বরে। ঘটনাস্থলেই ঝলসে মৃত্যু হয় অন্তত ১৭ জনের। প্রাণ হারান লরি চালকও। স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে এগিয়ে এলেও আগুনের তীব্রতায় কাছে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
উদ্ধার অভিযানে দমকল (Karnataka)
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় হিরিয়ুর গ্রামীণ থানার পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। গভীর রাতেই শুরু হয় ব্যাপক উদ্ধার অভিযান। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং বাসের ভিতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করতে দমকল কর্মীদের দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই চালাতে হয়। বাসের একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে দ্রুত হিরিয়ুর ও চিত্রদুর্গের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকেরা তাঁদের প্রাণ বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
জাতীয় সড়কে স্তব্ধ যান চলাচল (Karnataka)
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার জেরে দেশের অন্যতম ব্যস্ত দিল্লি–চেন্নাই ৪৮ নম্বর জাতীয় সড়কে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। দু’দিকেই তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট। পরে পুলিশ ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রাথমিক তদন্ত ও পুলিশের বক্তব্য (Karnataka)
রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন চিত্রদুর্গের পুলিশ সুপার রঞ্জিত। তিনি সাংবাদিকদের জানান, হিরিয়ুর গ্রামীণ থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। ফরেনসিক ও কারিগরি বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, লরি চালক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বলেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হবে।
প্রত্যক্ষদর্শী নন, তবু সাক্ষী কন্ডাক্টর (Karnataka)
বাসের কন্ডাক্টর মহম্মদ সেলিম পুলিশকে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় তিনিও ঘুমিয়ে ছিলেন। ফলে ঠিক কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটল, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি। তাঁর এই বক্তব্য দুর্ঘটনার ভয়াবহতা ও যাত্রীদের অসহায় অবস্থার কথাই তুলে ধরে।
উৎসবের রাতে শোকের ছায়া
বড়দিনের ঠিক আগের রাতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বহু পরিবার মুহূর্তের মধ্যে সর্বস্ব হারিয়েছে। আনন্দের উৎসব বদলে গিয়েছে কান্না ও আর্তনাদে। প্রশাসনের তরফে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার সমস্ত খরচ বহনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।



