Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট একটি যুগান্তকারী দিন (Tarique Rahman)। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মাধ্যমে শুধু একটি সরকারের অবসান হয়নি, শুরু হয়েছে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়। সেই ধাক্কা এখনও পুরোপুরি সামলে উঠতে পারেনি আওয়ামী লিগ। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় স্পষ্ট, আওয়ামী লিগকে বাদ দিয়েই এগোচ্ছে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

দেশে ফিরলেন তারেক রহমান (Tarique Rahman)
এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্যেই নাটকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটল বিএনপি’র কার্যনির্বাহী চেয়ারপারসন তারেক রহমানের। দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে বৃহস্পতিবার তিনি বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান।
সিলেট থেকে ঢাকা (Tarique Rahman)
সকালে তারেক রহমানকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। স্বল্প যাত্রাবিরতির পর তিনি সরাসরি ঢাকায় পৌঁছান। ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে তাঁকে সংবর্ধনা জানান বিএনপি’র বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী। দীর্ঘদিন পর দলের শীর্ষ নেতাকে এক ঝলক দেখতে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে দলীয় কর্মীরা।

৩০০ ফিটে বিশাল সংবর্ধনা (Tarique Rahman)
তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে ঢাকার ৩০০ ফিট এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় বিশাল সংবর্ধনা সভা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিএনপি নেতা-কর্মীরা সেখানে জড়ো হন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয় পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র্যাবের একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বলয়। বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
শহীদ জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা (Tarique Rahman)
সংবর্ধনা শেষে তারেক রহমান প্রথমে ঢাকার একটি হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থ মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। এরপর গুলশানের বাসভবনে যান। দলীয় সূত্রের খবর, শুক্রবার তিনি তাঁর পিতা, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন। পাশাপাশি জাতীয় স্মৃতিসৌধেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

আন্দোলনের আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ (Tarique Rahman)
শনিবার হাদির সমাধিস্থলে যাওয়ার পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনে আহতদের দেখতে পঙ্গু হাসপাতালে যাওয়ার কর্মসূচি রয়েছে তারেক রহমানের। একই দিনে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে যাওয়ার কথাও রয়েছে তাঁর।
ভেঙে পড়ল ‘মাইনাস ফোর ফর্মুলা’ (Tarique Rahman)
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লিগের নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে কার্যত অনুপস্থিতি ও শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ফলে ভেঙে পড়েছে তথাকথিত ‘মাইনাস ফোর ফর্মুলা’। শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, সজীব ওয়াজেদ জয় ও তারেক রহমান—এই চারজনকে রাজনীতির বাইরে রাখার ধারণা আপাতত বাস্তবতা হারিয়েছে।
বিএনপির নিজস্ব বলয়ের ভাবনা (Tarique Rahman)
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সামনে এসেছে নিরাপত্তা প্রশ্ন। তিনি কতটা স্বাধীন ও নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশে কাজ করতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বিএনপির অন্দরমহলেই। সরকার সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস দিলেও দলীয়ভাবে আলাদা নিরাপত্তা বলয় গঠনের চিন্তাভাবনা করছে বিএনপি।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা (Tarique Rahman)
দীর্ঘদিন ধরেই গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়া চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেও সক্রিয় রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। তবুও রাজনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় তাঁকে তিনটি আসনে প্রার্থী করেছে বিএনপি। একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন তারেক রহমান। দল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ক্ষমতায় এলে প্রধানমন্ত্রী হবেন তারেক রহমান।
ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জ (Tarique Rahman)
২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন ‘হাওয়া ভবন’ কেন্দ্রিক সমান্তরাল প্রশাসন, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে বিতর্কে জড়ান তারেক রহমান। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাঁকে গ্রেফতার করে। চিকিৎসার অজুহাতে লন্ডনে গিয়ে আর দেশে ফেরেননি তিনি।
দেশে ফেরার আইনি বাধা কাটল (Tarique Rahman)
শেখ হাসিনা সরকারের আমলে একাধিক মামলায় দণ্ডিত হওয়ায় তাঁর দেশে ফেরা সম্ভব হয়নি। এমনকি গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাও হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ অগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উচ্চ আদালত তাঁকে সব মামলা থেকে খালাস দেয়। ফলে দেশে ফিরতে আর কোনও আইনি বাধা রইল না।

নতুন অধ্যায়, কিন্তু পথ কণ্টকাকীর্ণ
রাজনৈতিক মহলের দাবি, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন নিয়ে সেনাবাহিনীর একটি প্রভাবশালী অংশের মধ্যেও আপত্তি রয়েছে। অতীতের অভিযোগ ও বিতর্কই ভবিষ্যতে তাঁর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে, দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেও সেই পথ যে মোটেই মসৃণ নয়, তা বলাই বাহুল্য।



