Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার চমক। শুক্রবার সকালে টলিপাড়া ও রাজনৈতিক মহলে একসঙ্গে আলোড়ন ফেলে দিল অভিনেত্রী পার্ণো মিত্রের দলবদলের খবর (Parno Mitra)। একসময়ের বিজেপি প্রার্থী পার্ণো এবার আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে তাঁর এই সিদ্ধান্তকে নিছক দলবদল নয়, বরং সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

দিনভর জল্পনার অবসান (Parno Mitra)
শুক্রবার সকাল থেকেই টলিমহল সূত্রে গুঞ্জন ছড়াতে শুরু করে বিজেপির প্রাক্তন অভিনেত্রী-প্রার্থী পার্ণো মিত্র নাকি শাসকদলে যোগ দিতে চলেছেন। বেলা বাড়তেই সেই জল্পনা সত্যি প্রমাণিত হয়। তৃণমূল ভবনে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে নাম লেখান পার্ণো। এর মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল।
বিজেপি থেকে দূরত্ব (Parno Mitra)
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন পার্ণো মিত্র। সেই সময় একঝাঁক টলিউড তারকার সঙ্গে তিনিও গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বরানগর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। তবে তৃণমূল প্রার্থী তাপস রায়ের কাছে পরাজিত হতে হয় অভিনেত্রীকে। নির্বাচনের পর থেকেই বিজেপির সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ছিল বলে রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল। ঘনিষ্ঠ মহলের কাছে তিনি নাকি দলের ভূমিকা ও অভ্যন্তরীণ অবস্থান নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করেছিলেন। সেই দীর্ঘদিনের অস্বস্তিরই পরিণতি হিসেবে দেখা হচ্ছে তৃণমূলে তাঁর যোগদানকে।

‘ভুল শুধরে নেওয়ার সময় এসেছে’ (Parno Mitra)
তৃণমূলে যোগদানের পর নিজের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পার্ণো মিত্র স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আজ আমার জন্য খুব বড় দিন। আমার নতুন পথে যাত্রা শুরু হল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আমি এগিয়ে যেতে চাই। ছয় বছর আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু যে ভাবে ভেবেছিলাম, সে ভাবে বিষয়টি এগোয়নি। মানুষ ভুল করেই থাকে। সেই ভুল সংশোধনের সময় এসে গিয়েছে।” এই বক্তব্যে তাঁর রাজনৈতিক উপলব্ধির পরিবর্তন যেমন স্পষ্ট, তেমনই শাসকদলের নেতৃত্বের প্রতি আস্থার কথাও প্রকাশ পেয়েছে।
ছাব্বিশের ভোট ও পার্ণোর সম্ভাব্য ভূমিকা (Parno Mitra)
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন এখন দোরগোড়ায়। এই সময়ে পার্ণো মিত্রের তৃণমূলে যোগদান নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতি নির্বাচনের আগেই টলিপাড়ার কোন কোন পরিচিত মুখ রাজনৈতিক ময়দানে নামবেন, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল থাকে। পার্ণোর এই দলবদল ফের সেই জল্পনাকে উসকে দিল। তিনি কি আবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হবেন? হলে কোন কেন্দ্র থেকে? তৃণমূল কি তাঁকে ভোটের ময়দানে নামাতে চলেছে? এই প্রশ্নগুলিই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।

আরও পড়ুন:Govinda: ‘অবতার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’-এর আগেই কেন চর্চায় গোবিন্দা?
তারকামুখ ও বাংলার রাজনীতি
বাংলার রাজনীতিতে তারকাদের অংশগ্রহণ নতুন নয়। তৃণমূল কংগ্রেস বরাবরই সংস্কৃতি ও বিনোদন জগতের পরিচিত মুখদের রাজনীতির মূল স্রোতে এনেছে। পার্ণো মিত্রের যোগদান সেই ধারারই এক নতুন সংযোজন। তাঁর জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এই দুই মিলিয়ে তৃণমূলের কৌশলে তিনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন, সেটাই এখন দেখার।



