Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শীত পড়তেই শহরের আবহাওয়ায় (Dust Allergy) স্পষ্ট পরিবর্তন। তাপমাত্রা ক্রমশ নামছে এবং আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েক দিনে আরও ঠান্ডা বাড়তে পারে। এই সময় ভাইরাল জ্বর, সর্দি-কাশির পাশাপাশি যাঁরা অ্যালার্জিতে ভোগেন, তাঁদের সমস্যাও বেড়ে যায়। বিশেষ করে শীতের শুষ্ক বাতাস ও বাড়তে থাকা দূষণের কারণে ডাস্ট অ্যালার্জির ঝুঁকি অনেকটাই বেশি থাকে। একটু অসতর্ক হলেই হাঁচি, কাশি, শ্বাসকষ্টে নাজেহাল হতে পারেন অনেকে।
শ্বাসনালিতে সংক্রমণ (Dust Allergy)
শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় (Dust Allergy) ধুলো, পরাগরেণু ও দূষণকণা সহজেই ভেসে বেড়ায়। শ্বাস নেওয়ার সময় এই কণাগুলি শরীরে ঢুকে অ্যালার্জির উপসর্গ তৈরি করে। শুধু বাইরের পরিবেশ নয়, ঘরের ভিতরেও সমস্যা কম নয়। ঠান্ডার কারণে জানলা-দরজা বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকে, ফলে বাতাস চলাচল কমে যায়। এর ফলে কার্পেট, পর্দা, সোফা, বিছানাপত্রে জমে থাকা ধুলো এবং ডাস্ট মাইট ঘরের মধ্যেই ঘোরাফেরা করে। এই ডাস্ট মাইট অত্যন্ত সূক্ষ্ম জীব, যা কম্বল, লেপ কিংবা উলের পোশাকে বাসা বাঁধে এবং শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে ঢুকে শ্বাসনালিতে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
ডাস্ট অ্যালার্জির প্রধান লক্ষণ (Dust Allergy)
ডাস্ট অ্যালার্জির প্রধান লক্ষণ হল একটানা হাঁচি, নাক দিয়ে (Dust Allergy) জল পড়া, কাশি ও শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া। অনেক ক্ষেত্রে চোখ জ্বালা করা বা অনবরত জল পড়তেও দেখা যায়। দীর্ঘদিন অবহেলা করলে অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। শুধু শ্বাসযন্ত্রই নয়, ত্বকেও এর প্রভাব পড়ে। ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে ফেটে যাওয়া, চুলকানি, খসখসে ভাব কিংবা ফোস্কার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে, যাকে চিকিৎসা পরিভাষায় অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস বলা হয়।
সতর্কতা খুব জরুরি
এই ধরনের অ্যালার্জি থেকে বাঁচতে কিছু সতর্কতা খুব জরুরি। বাইরে বেরোলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, যাতে ধুলোবালি নাক-মুখ দিয়ে শরীরে ঢুকতে না পারে। ঘর পরিষ্কার করার সময়ও নাক-মুখ ঢেকে রাখা দরকার। বাড়ির ভিতর যতটা সম্ভব আলো ও বাতাস ঢোকার ব্যবস্থা রাখুন। নিয়মিত রোদ ঢুকলে ঘরের ভিতরের জীবাণু ও ধুলো অনেকটাই কমে।

সমস্যা আরও বাড়তে পারে
ঠান্ডা লেগে সর্দি-কাশি হলে অ্যালার্জির সমস্যা আরও বাড়তে পারে। তাই শরীর বেশি ঠান্ডা করা এড়িয়ে চলুন। সামান্য সর্দি-কাশি শুরু হলেই নুন-গরম জলে গার্গল এবং নিয়মিত গরম জলের ভাপ নেওয়া উপকারী। ঠান্ডা পানীয় বা প্যাকেটজাত জুস এই সময় এড়িয়ে চলাই ভালো।
আরও পড়ুন: Kolkata Metro Rail: ফের মেট্রোর সামনে ঝাঁপ, ব্যাহত পরিষেবা!
খাবারের ক্ষেত্রেও সতর্কতা জরুরি। বেকারির খাবার, কিছু বাদাম কিংবা নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের সবজি অ্যালার্জির সমস্যা বাড়াতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা মেনে চলা সবচেয়ে নিরাপদ। পাশাপাশি আদা, গোলমরিচ, দারচিনি বা লবঙ্গ দিয়ে তৈরি চা এবং প্রতিদিন অল্প পরিমাণ মধু অ্যালার্জির উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে।


