Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে ফের নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল আন্তর্জাতিক মহলে (Russian President Putin)। রাশিয়ার দাবি, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবন লক্ষ্য করে ইউক্রেন ড্রোন হামলার চেষ্টা চালিয়েছে। যদিও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। দুই দেশের পরস্পরবিরোধী দাবিকে ঘিরে কূটনৈতিক স্তরে জটিলতা আরও বেড়েছে।

৯১টি ড্রোন ধ্বংস (Russian President Putin)
সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সার্গেই লাভরভ জানান, ইউক্রেনের তরফে পাঠানো ৯১টি ড্রোন রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবন ছিল হামলার লক্ষ্য। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং পুতিন সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছেন। রুশ প্রশাসনের মতে, এই হামলা সরাসরি রাষ্ট্রপ্রধানকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নিয়ম ও যুদ্ধনীতির গুরুতর লঙ্ঘন।
‘রাশিয়ার মিথ্যাচার’ (Russian President Putin)
রাশিয়ার এই দাবিকে একেবারে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি। তাঁর বক্তব্য, কিভে সাম্প্রতিক হামলার দিক থেকে নজর ঘোরাতেই রাশিয়া এই ধরনের মিথ্যা প্রচার করছে। একই সঙ্গে জ়েলেনস্কির দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যে শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, তা ভেস্তে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই রাশিয়া এই অভিযোগ তুলছে। ইউক্রেনের মতে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কোনও পদক্ষেপ নেবে না, যা শান্তি আলোচনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া (Russian President Putin)
ঘটনাটি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমনটাই সূত্রের খবর। যদিও তাঁর তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি, তবে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক মহলে এই ঘটনায় উদ্বেগ স্পষ্ট। শান্তি আলোচনার মধ্যেই এই ধরনের দাবি সামনে আসায় মার্কিন প্রশাসন বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে মনে করছে।
শান্তির পক্ষে কূটনৈতিক বার্তা (Russian President Putin)
এই ঘটনার পর মঙ্গলবার এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ একটি পোস্ট করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি লেখেন, “রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের বাসভবন লক্ষ্য করে হামলার রিপোর্ট অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সংঘর্ষ থামিয়ে শান্তি ফেরাতে আমাদের ক্রমাগত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে। সকল পক্ষকে অনুরোধ, এই উদ্যোগেই মনোনিবেশ করতে এবং এমন কোনও পদক্ষেপ না নিতে, যা শান্তির প্রয়াসকে ব্যর্থ করে।” প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যে ভারতের দীর্ঘদিনের ‘শান্তি ও সংলাপ’-এর কূটনৈতিক অবস্থানই আবার স্পষ্ট হল।
আরও পড়ুন: Winter Hunger: শীত এলেই খিদে কেন বেড়ে যায়?
আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন চাপ
রাশিয়া ও ইউক্রেনের পরস্পরবিরোধী দাবির মাঝেই গোটা বিশ্বের নজর এখন তদন্তের দিকে। সত্যিই হামলার চেষ্টা হয়েছিল কি না, নাকি এটি কৌশলগত প্রচারযুদ্ধ তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। তবে একথা অনস্বীকার্য, এই ঘটনা শান্তি আলোচনার পথকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।



