Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মধ্যপ্রাচ্যের অশান্ত আকাশে ফের যুদ্ধের দামামা শোনা যাচ্ছে (Saudi Arabia)। দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের আবহে এবার নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল ইয়েমেনের বন্দর শহর মুকাল্লাকে কেন্দ্র করে। গভীর রাতে সেখানে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর না মিললেও, এই হামলার রাজনৈতিক ও কৌশলগত তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

গভীর রাতে আকস্মিক হামলা (Saudi Arabia)
ইয়েমেনের বিভিন্ন সূত্রের দাবি, রাতের অন্ধকারে কোনওরকম পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই মুকাল্লা বন্দরে বড়সড় বিমান হামলা চালানো হয়। হামলার মূল লক্ষ্য ছিল বন্দর এলাকা ও সেখানে নোঙর করা একাধিক জাহাজ। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আঘাতের পরপরই দাউ দাউ করে জ্বলতে শুরু করে বেশ কয়েকটি জাহাজ, যার ফলে গোটা এলাকা কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রের চেহারা নেয়। এই হামলা যে ইচ্ছাকৃত এবং পরিকল্পিত, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছে ইয়েমেন প্রশাসন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরকে পঙ্গু করতেই এই আক্রমণ।
হাউথিদের কড়া প্রতিক্রিয়া (Saudi Arabia)
এই হামলার পরপরই ইয়েমেনের হাউথি বিদ্রোহীদের তরফে গোটা দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি, সৌদি আরবের সঙ্গে পূর্বে হওয়া সব ধরনের সামরিক সমঝোতা ও চুক্তি বাতিলের ঘোষণা করা হয়েছে। হাউথি নেতৃত্বের দাবি, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও যুদ্ধবিরতি চুক্তির সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। তাদের মতে, এটি শুধু ইয়েমেন নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার উপর সরাসরি আঘাত।
‘অস্ত্রভর্তি জাহাজ ধ্বংসই ছিল লক্ষ্য’ (Saudi Arabia)
অন্যদিকে, সৌদি আরব এই বিমান হামলার কথা স্বীকার করেছে। সৌদি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানানো হয়েছে, মুকাল্লা বন্দরে যে জাহাজগুলিতে হামলা চালানো হয়েছে, সেখানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত ছিল। সৌদির গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এই অস্ত্র ব্যবহার করে শীঘ্রই সৌদি ভূখণ্ডে হামলার পরিকল্পনা করছিল হাউথিরা। সৌদি প্রশাসনের দাবি, কোনও সাধারণ নাগরিককে লক্ষ্য করা হয়নি, হামলা ছিল সম্পূর্ণ নির্দিষ্ট ও কৌশলগত, শুধুমাত্র সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি দূর করাই উদ্দেশ্য

আরও পড়ুন: Amit Shah: শাহের মুখে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলেন রবীন্দ্রনাথ সান্যাল
নতুন করে যুদ্ধ ছড়ানোর আশঙ্কা
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়েমেন-সৌদি সংঘাত নতুন মাত্রা পেতে পারে, ইরান, আমেরিকা ও উপসাগরীয় দেশগুলির ভূমিকা আরও জটিল হতে পারে, লোহিত সাগর ও আরব সাগরের সামুদ্রিক বাণিজ্যও বিপদের মুখে পড়তে পারে, বিশেষ করে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যপথের উপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।



