Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নববর্ষ উদযাপনের আনন্দ মুহূর্তেই বদলে গেল (New Year Death) শোক ও আতঙ্কে। নিউ ইয়ার পার্টিতে দেদার খাওয়াদাওয়া এবং মদ্যপানের পর মৃত্যু হলো এক প্রৌঢ়ের। গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আরও অন্তত ১১ জন। বুধবার গভীর রাতে হায়দরাবাদের জগদগিরিগুটা এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ভেজাল মদ অথবা খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণেই এই বিপর্যয় ঘটে থাকতে পারে।
পাশাপাশি চলে দেদার মদ্যপান (New Year Death)
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে জগদগিরিগুটার (New Year Death) একটি কমিউনিটি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা একত্রিত হয়েছিলেন। নিজেরাই আয়োজন করেন ভোজের। রুটি, চিকেন বিরিয়ানি এবং মাছের ঝোল রান্না করা হয়। পাশাপাশি চলে দেদার মদ্যপান। রাতভর চলা হুল্লোড় ও উৎসবের পর বৃহস্পতিবার ভোরে সকলে যে যার বাড়িতে ফিরে যান। কিন্তু আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয় শারীরিক অসুস্থতা। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিক থেকে একাধিক ব্যক্তির পেটে তীব্র যন্ত্রণা ও বমির উপসর্গ দেখা দেয়। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে হঠাৎ করেই ৯ জন অচেতন হয়ে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় তাঁদের তড়িঘড়ি মল্লা রেড্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আরও দু’জনকে গুরুতর অবস্থায় রাম দেব হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু (New Year Death)
রাম দেব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় রমেন (New Year Death) পান্ডু নামে এক প্রৌঢ়ের। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হচ্ছিল। যদিও চিকিৎসকদের সর্বাত্মক চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বাকি আক্রান্তদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে পৌঁছান বালানগরের সহকারী পুলিশ কমিশনার নরেশ রেড্ডি এবং সার্কল ইন্সপেক্টর গড্ডাম মল্লেশ। তাঁরা আহতদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসকদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি তদন্তকারীদের একটি দল কমিউনিটি হলেও যায়। সেখানে থাকা অবশিষ্ট খাবার এবং মদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

নমুনা ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে
পুলিশ জানিয়েছে, ওই সব নমুনা ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে জানান, রান্নার সময় লঙ্কাগুঁড়ো, হলুদগুঁড়োসহ কয়েকটি প্রয়োজনীয় উপকরণ ফুরিয়ে গিয়েছিল। সেগুলি কাছের একটি দোকান থেকে কিনে আনা হয়। সেই সব উপকরণে কোনওরকম ভেজাল ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী দল।
আরও পড়ুন: Brutal Attack in Bangladesh: বাংলাদেশে আরও এক হিন্দু যুবককে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা!
বালানগরের সহকারী পুলিশ কমিশনার নরেশ রেড্ডি বলেন, “প্রাথমিকভাবে খাদ্যে বিষক্রিয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে ভেজাল মদ থেকেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে। দুই দিক থেকেই তদন্ত করা হচ্ছে। ফরেনসিক ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
নববর্ষের উৎসবকে ঘিরে এমন ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দুটোই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, রিপোর্টের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে


