Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দিকে পা বাড়াতেই বাংলার রাজনীতিতে ফের চড়েছে উত্তাপ (Mithun On Lakshmir Bhandar)। আকাশে-বাতাসে এখন শুধুই ভোটের গন্ধ। একই দিনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে তৃণমূলের শক্তি প্রদর্শন এবং উত্তরবঙ্গে কোচবিহারে বিজেপির পালটা সভা এই দুই ঘটনার মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয়ে গেল, ছাব্বিশের লড়াই আর কেবল ভবিষ্যতের গল্প নয়, বরং বর্তমানের বাস্তবতা। বারুইপুরের সভা থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বিজেপিকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, ঠিক সেই দিনেই কোচবিহারে বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী তুলে ধরলেন বাংলার মানুষের বর্তমান অবস্থার এক কঠোর রাজনৈতিক ভাষ্য।

‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার খারাপ নয়, কিন্তু…’ (Mithun On Lakshmir Bhandar)
মিঠুন চক্রবর্তীর বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রসঙ্গ। একদিকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করেন, এই প্রকল্প “খারাপ নয়”। বরং তিনি বলেন, “যারা পাচ্ছেন নিশ্চয়ই নেবেন, কারণ এটা আপনাদেরই টাকা, আপনাদের ট্যাক্সের টাকা।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি তৃণমূল সরকারের জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্পকে সরাসরি অস্বীকার না করে, তার সীমাবদ্ধতাকেই সামনে আনেন। এখানেই তাঁর রাজনৈতিক কৌশল ভাতা বনাম ভবিষ্যৎ।

ভাতার রাজনীতি বনাম কর্মসংস্থান (Mithun On Lakshmir Bhandar)
মিঠুন চক্রবর্তীর মূল প্রশ্নটি ছিল গভীর ও মৌলিক, ভাতা পেলেই কি জীবনের সমস্ত সমস্যা মেটে? তিনি প্রশ্ন তোলেন সেই পরিবারগুলোর কথা ভেবে, যাদের সন্তান দুর্নীতি করতে চায় না বলে বেকার বসে আছে, যাদের স্বামী সৎ থাকার মূল্য হিসেবে চাকরি হারিয়েছে বা পায়নি, যাদের বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি অসুস্থ, অথচ সরকারি স্বাস্থ্যসুরক্ষা থেকে বঞ্চিত, এই জায়গায় দাঁড়িয়েই তিনি ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর সঙ্গে ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর তুলনা টানেন।
আয়ুষ্মান ভারত বনাম রাজ্য সরকার (Mithun On Lakshmir Bhandar)
মিঠুনের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষিত আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প যেখানে প্রতি পরিবার ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পাওয়ার কথা তা বাংলায় কার্যকর হতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নাম বেড়ে যাবে এই ভয়েই আয়ুষ্মান ভারত চালু করতে দিচ্ছে না।” এই বক্তব্যে রাজনৈতিক অভিযোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগকেও সামনে আনেন তিনি। তাঁর মতে, রাজনৈতিক কৃতিত্বের লড়াইয়ে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: Dilip Ghosh: ‘ঘরছাড়া’ দিলীপই কি ফের ছাব্বিশে বিজেপির তুরুপের তাস?
‘আরও ভোট দিন, আরও পাবেন না’ (Mithun On Lakshmir Bhandar)
তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ করতে গিয়ে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, “আপনারা পান না কেন? আরও ভোট দিয়ে আনুন, তাহলে আরও পাবেন না।” এই বাক্যে স্পষ্ট ব্যঙ্গ ভোটের বিনিময়ে ভাতা পেলেও, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন, চাকরি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুযোগ মিলছে না—এই অভিযোগই তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে।
তীব্র আদর্শিক আক্রমণ (Mithun On Lakshmir Bhandar)
সবচেয়ে আক্রমণাত্মক অংশে মিঠুন চক্রবর্তী সরাসরি তৃণমূলের কার্যকর্তাদের একাংশকে নিশানা করেন। বিশেষ করে তিনি ‘বিবেক’ শব্দটিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, চুরি করলেও বিবেক নেই, দুর্নীতি করলেও বিবেক নেই, উদ্যোগ নেই, কারখানা নেই, চাকরি নেই, শিক্ষা নেই, স্বাস্থ্য নেই, তার মতে, এই রাজ্যে “দুর্নীতি ছাড়া কিছুই নেই” এ এক চরম অভিযোগ, যা ছাব্বিশের নির্বাচনে বিজেপির মূল প্রচারের সুর হতে পারে।

বিজেপির ভেতরের বার্তাও স্পষ্ট
এই সভা শুধু তৃণমূল-বিরোধী মঞ্চই ছিল না, বিজেপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দিকেও স্পষ্ট বার্তা দেন মিঠুন। তিনি বলেন, “কারও সঙ্গে মনোমালিন্য থাকলেও, দয়া করে ইলেকশন পর্যন্ত সব মিটিয়ে নিন।” এই বক্তব্যে স্পষ্ট, বিজেপির ভেতরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও অসন্তোষকে দূরে সরিয়ে রেখে এক ছাতার নীচে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ছাব্বিশের লড়াইয়ে ঐক্যই যে বিজেপির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, তা কার্যত স্বীকার করে নেওয়া হল।



