Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: এখন আর ফেরার দেশের বাসিন্দা নন তিনি (Zubeen Garg)। সময়ের নিয়ম মেনে কেটে গিয়েছে প্রায় তিনটি মাস। কিন্তু সময় যতই এগোক, জুবিন গর্গের স্মৃতি যেন ততই গাঢ় হয়ে উঠছে তাঁর পরিবার, অনুরাগী এবং গোটা সঙ্গীতজগতের কাছে। শিল্পীর শারীরিক অনুপস্থিতি মেনে নেওয়া গেলেও, তাঁর সৃষ্টি ও ভাবনার শূন্যতা আজও ভরাট হয়নি। সেই শূন্যতাকেই অর্থবহ করে তুলতে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলেন জুবিনের স্ত্রী গরিমা।

স্মৃতিরক্ষায় ট্রাস্ট গঠনের ঘোষণা (Zubeen Garg)
শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে গরিমা জানান, জুবিন গর্গের নামে একটি ট্রাস্ট গঠন করা হবে। এই ট্রাস্ট শুধুমাত্র স্মৃতিচারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সক্রিয়ভাবে সমাজের নানা ক্ষেত্রে কাজ করবে। মূল লক্ষ্য একটাই জীবিত অবস্থায় জুবিন যে সব কাজ করার স্বপ্ন দেখতেন, যেগুলি অপূর্ণ রয়ে গিয়েছে, সেগুলিকে বাস্তব রূপ দেওয়া।
প্রকৃতিপ্রেমী শিল্পীর স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার (Zubeen Garg)
জুবিন গর্গ প্রকৃতির প্রতি গভীরভাবে অনুরাগী ছিলেন। পাহাড়, নদী, বন এই সমস্ত কিছু তাঁর সৃষ্টিশীল মনকে আলোড়িত করত। সেই কারণেই প্রস্তাবিত ট্রাস্টের অন্যতম প্রধান কাজ হবে প্রকৃতি সংরক্ষণ। পরিবেশ রক্ষা, সবুজায়ন এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মতো নানা উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন গরিমা। জুবিনের ভাবনায় প্রকৃতি ছিল কেবল সৌন্দর্যের উৎস নয়, বরং জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
উদীয়মান প্রতিভাদের পাশে দাঁড়ানো (Zubeen Garg)
শুধু নিজে প্রতিষ্ঠিত শিল্পী হয়েই থেমে থাকেননি জুবিন। নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান শিল্পীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি ভাবতেন। কীভাবে তাঁদের সঠিক দিশা দেখানো যায়, কীভাবে সুযোগ তৈরি করা যায় এই প্রশ্নগুলো তাঁকে ভাবাত। সেই ভাবনাকেই বাস্তবে রূপ দিতে ট্রাস্টের আওতায় উদীয়মান শিল্পীদের প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহায়তা ও মেন্টরশিপের ব্যবস্থা করা হবে।

সৃষ্টির বৈজ্ঞানিক সংরক্ষণ ও গবেষণা (Zubeen Garg)
এই ট্রাস্টের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল জুবিন গর্গের সৃষ্টির বৈজ্ঞানিক সংরক্ষণ। তাঁর গান, সুর, লেখা এবং শিল্পীসত্তাকে পদ্ধতিগতভাবে সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি একটি পৃথক গবেষণা শাখা গড়ে তোলা হবে, যেখানে জুবিনের কাজ নিয়ে নানামুখী গবেষণা চলবে সংগীত, সংস্কৃতি ও সমাজের প্রেক্ষাপটে তাঁর অবদান বিশ্লেষণ করা হবে।
অনুরাগীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ (Zubeen Garg)
জুবিন গর্গের ফ্যান ক্লাব শুধু অনুরাগের জায়গা নয়, বরাবরই একটি আবেগঘন পরিবার ছিল। সেই কারণেই ট্রাস্টের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকবেন ফ্যান ক্লাবের সদস্যরা। তাঁদের অংশগ্রহণেই ট্রাস্টের কাজ আরও বিস্তৃত ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।
আগের সংস্থাগুলির একত্রে পথচলা (Zubeen Garg)
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, জীবিত অবস্থায় জুবিন নিজেই ‘কলাগুরু আর্টিস্ট ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংস্থা তৈরি করেছিলেন। পাশাপাশি তাঁর প্রয়াত বোনের স্মৃতিতেও একটি পৃথক সংস্থা গড়ে তুলেছিলেন। এবার থেকে এই তিনটি সংস্থা নতুন ট্রাস্টসহ একসঙ্গে মিলেমিশে কাজ করবে। লক্ষ্য একটাই, জুবিনের রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজগুলি সম্পূর্ণ করা।

অসমের ভূমিপুত্র থেকে জাতীয় স্তরের শিল্পী (Zubeen Garg)
জুবিন গর্গ ছিলেন অসমের ভূমিপুত্র। কিন্তু তাঁর শিল্পীসত্তা কখনওই কোনও ভৌগোলিক সীমানায় আটকে থাকেনি। বলিউডে তাঁর পরিচিতি ছিল আকাশচুম্বী। ‘ফিজা’, ‘গ্যাংস্টার’, ‘রাজ’, ‘থ্রিডি’, ‘কৃষ থ্রি’র মতো জনপ্রিয় ছবিতে তাঁর গান আজও শ্রোতাদের মনে দাগ কেটে আছে। বাংলা চলচ্চিত্রেও তিনি সমান জনপ্রিয় ‘রংবাজ’, ‘খিলাড়ি’, ‘খোকা ৪২০’-এর মতো ছবিতে তাঁর কণ্ঠ দর্শককে মুগ্ধ করেছে। অসমিয়া ছবিতে শুধু গান নয়, অভিনয়েও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: Train : সপ্তাহের শুরুর দিনেই যাত্রী ভোগান্তি, হাওড়া ডিভিশনে বাতিল একজোড়া লোকাল
রহস্যে মোড়া মৃত্যু
গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান জুবিন গর্গ। তাঁর মৃত্যু আজও রহস্যে ঘেরা। নিছক দুর্ঘটনা, না কি এর নেপথ্যে রয়েছে কোনও ষড়যন্ত্র এই প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। কিন্তু এই বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে একটাই সত্য সামনে আসে জুবিনের মতো এক বিস্ময় প্রতিভাকে হারানো ভারতীয় সঙ্গীতজগতের অপূরণীয় ক্ষতি।



