Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলার রাজনীতিতে ফের চর্চার কেন্দ্রে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা মেদিনীপুরের প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিতি, তার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বেফাঁস মন্তব্য আর তার পরিণতিতে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ বন্ধ রাখার ঘোষণা। প্রশ্ন উঠছেই, দিলীপ ঘোষ কি নিজেই পরিস্থিতির আঁচ পেয়ে পিছু হটলেন, নাকি শীর্ষ নেতৃত্বের কড়া বার্তার জেরেই এই সিদ্ধান্ত?

শাহের বৈঠকেই ইঙ্গিত? (Dilip Ghosh)
বুধবারের সেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দিলীপ ঘোষের উপস্থিতিকে বিজেপির অন্দরমহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধরা হয়েছিল। মেদিনীপুরের প্রাক্তন সাংসদের আবারও সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে তখনই জল্পনা শুরু হয়। তবে সেই বৈঠকেই দলের নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন অমিত শাহ, সংবাদমাধ্যমে অহেতুক মন্তব্য নয়, দলীয় শৃঙ্খলাই সবার আগে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, বৈঠকের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাম মন্দির ও মন্দির-মসজিদ রাজনীতি নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে বসেন দিলীপ ঘোষ।
রাম মন্দির প্রসঙ্গেই বিপত্তি (Dilip Ghosh)
বৃহস্পতিবার দিলীপ ঘোষের বক্তব্য ছিল, “মন্দির-মসজিদ ইস্যু ভোটের ফলাফল নির্ধারণ করে না।” উদাহরণ টানতে গিয়ে তিনি অযোধ্যার রাম মন্দির এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ফৈজাবাদ আসনে বিজেপির পরাজয়ের কথা তুলে ধরেন। এমনকি ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় মন্দির তৈরি করলেও তৃণমূলের জয় নিশ্চিত—এমন ধারণাকে তিনি ভুল বলে উল্লেখ করেন। দিলীপের এই মন্তব্যে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে মোটেই স্বস্তিতে ছিল না, তা দলীয় সূত্রেই স্পষ্ট হয়ে যায়।

শমীকের কাছে ‘শাহী বার্তা’ (Dilip Ghosh)
দিলীপের মন্তব্যের রেশ গড়ায় শুক্রবার অমিত শাহ ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সাক্ষাতেও। দলীয় সূত্রের দাবি,
সংবাদমাধ্যমে অতিরিক্ত মুখ খোলা থেকে দিলীপকে বিরত রাখার বার্তা সরাসরি পৌঁছে যায় শমীকের কাছে। নরেন্দ্র মোদীর ডেপুটি নাকি স্পষ্ট করেই বুঝিয়ে দেন দিলীপ ঘোষ কী বলেছেন, কেন বলেছেন, সব তথ্যই শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে রয়েছে। এই বার্তার পরই দিলীপকে ‘সতর্ক’ করা হয়েছিল বলেও দাবি সূত্রের।
‘যা বলার সকালে বলেছি’ (Dilip Ghosh)
শুক্রবার বিকেলে সল্টলেকের বিজেপি দফতরে ঢোকার সময় দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, “যা বলার সকালে বলেছি।” তবে বাস্তবে দেখা যায়, তারপরেও সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে পিছপা হননি তিনি। শনিবারও একাধিক প্রশ্নের উত্তর দেন দিলীপ। তাতেই আরও জোরালো হয় প্রশ্ন তবে কি তিনি পরিস্থিতি ‘জল মাপছিলেন’?

আরও পড়ুন: Train : সপ্তাহের শুরুর দিনেই যাত্রী ভোগান্তি, হাওড়া ডিভিশনে বাতিল একজোড়া লোকাল
খড়গপুরে চা-চক্র, চূড়ান্ত ঘোষণা
সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে খড়গপুরে চা-চক্র পর্বে সাংবাদিকদের সামনে কার্যত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন দিলীপ ঘোষ। সাফ বলেন, আর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ক্যামেরার সামনে কথা বলবেন না। রাজনৈতিক মহলের মতে, পরিস্থিতির চাপ বুঝেই কি এই সিদ্ধান্ত? নাকি দলীয় নেতৃত্বের স্পষ্ট নির্দেশেই মুখ বন্ধ রাখার পথে হাঁটলেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি?



