Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দিন বদলালেও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের সঙ্গে হিংসার নাম যেন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে (Election Commission)। ভোটের দিন হোক কিংবা ভোট-পরবর্তী সময় রক্তপাত, অশান্তি ও অভিযোগের ছবি বারবার সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বিগ্ন নির্বাচন কমিশন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাংলার ভোটকে ঘিরে হিংসার মাত্রা জাতীয় স্তরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সেই কারণেই আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কৌশলগত বদলের পথে হাঁটতে চাইছে কমিশন।

দফা কমানোর ভাবনা (Election Commission)
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল সাত দফায়। একইভাবে, সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনও বাংলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে সাত দফায়। দীর্ঘ সময় ধরে ভোট চলার ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর উপর চাপ বাড়ে, পাশাপাশি ভোট-পরবর্তী হিংসার আশঙ্কাও দীর্ঘস্থায়ী হয়। এই অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষা নিয়ে এ বার নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রস্তাব এসেছে দুই থেকে তিন দফার মধ্যেই পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করার। কম দফায় ভোট মানে একদিকে যেমন দ্রুত নির্বাচন সম্পন্ন করা, অন্যদিকে তেমনই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ কমানো। কমিশনের একাংশের মতে, কম সময়ে বেশি বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা তুলনামূলক ভাবে সহজ।
কেন্দ্রীয় বাহিনী বাড়ানোর প্রস্তাব (Election Commission)
দফা কমানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজনীয়তাও। সূত্রের খবর, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল দিল্লির বৈঠকে স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছেন কম দফায় নির্বাচন করতে হলে বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োজন। উল্লেখযোগ্য ভাবে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ১,০৯৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে সেই সংখ্যা ছিল ১,১০০ কোম্পানিরও বেশি। এ বারও প্রায় একই বা তার চেয়ে বেশি বাহিনী চাওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজ্য পুলিশের সীমাবদ্ধতা (Election Commission)
নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে উঠে এসেছে রাজ্য পুলিশের সক্ষমতার কথাও। বৈঠক সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য পুলিশ সর্বোচ্চ প্রায় ৩৫ হাজার বাহিনী ভোটের কাজে দিতে পারবে। কিন্তু শুধুমাত্র রাজ্য পুলিশের উপর নির্ভর না করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানোই কমিশনের মূল লক্ষ্য। কারণ, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে ভোটারদের আস্থা তুলনামূলক ভাবে বেশি থাকে।
বেআইনি লেনদেন রুখতে কড়া নজরদারি (Election Commission)
ভোট মানেই কালো টাকা, মদ ও মাদকের অবাধ ব্যবহার এই অভিযোগ নতুন নয়। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে শুধু ১ মার্চ থেকে ১৩ এপ্রিলের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে উদ্ধার হয়েছিল প্রায় ২১৯ কোটি টাকার মদ ও মাদক। বাজেয়াপ্ত হয়েছিল ১৩ কোটি টাকার হিসেববহির্ভূত নগদ অর্থ। এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এ বার আরও কড়া নজরদারির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হবে। নাকা চেকিংয়ের সময় বাধ্যতামূলক ভাবে ওয়েবকাস্টিংয়ের মাধ্যমে নজরদারির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

দিল্লির বৈঠক ও কমিশনের ব্লুপ্রিন্ট (Election Commission)
সোমবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিক, পশ্চিমবঙ্গের সিইও মনোজ আগরওয়াল এবং রাজ্য পুলিশের নোডাল অফিসার আনন্দ কুমার। ওই বৈঠকে শুধুমাত্র বাংলা নয়, আগামী বছর যেসব রাজ্যে বিধানসভা ভোট রয়েছে তামিলনাড়ু, কেরালা, অসম ও পুদুচেরি সেগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আলোচনায় আসে। কমিশন সূত্রের খবর, সিইও একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। সেখানে অতীত নির্বাচনে কত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হয়েছিল, রাজ্য পুলিশের শক্তি কতটা, এবং কোন কোন এলাকায় বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন সবই উল্লেখ রয়েছে।
আরও পড়ুন: Kolkata Air Pollution: শহরে শীতের দাপট, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দূষণ!
ভোটকে উৎসবে পরিণত করার চ্যালেঞ্জ
নির্বাচন কমিশনের কর্তাদের একাংশ মনে করেন, এক সময় বিহার বা উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যেও ভোট মানেই হিংসা ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেখানে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপে ভোট অনেকটাই শান্তিপূর্ণ হয়েছে, উৎসবের রূপ নিয়েছে গণতন্ত্রের এই প্রক্রিয়া। বাংলার ক্ষেত্রেও কমিশনের লক্ষ্য একটাই হিংসামুক্ত, ভয়মুক্ত নির্বাচন। দফা কমানো, বাহিনী বাড়ানো, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি সব মিলিয়ে সেই লক্ষ্য পূরণেরই প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন।



