Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে একটি বেসরকারি রাজনৈতিক কনসালটেন্সি সংস্থার অফিসে ইডির হানার পরেই রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হল প্রবল উত্তেজনা (ED Raid)। অভিযানের খবর ছড়াতেই আচমকা সেখানে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বেরিয়ে এসে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা এবং বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, এই অভিযানকে তিনি নিছক আইনগত প্রক্রিয়া হিসেবে নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত বলেই দেখছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর গুরুতর অভিযোগ (ED Raid)
ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে এসে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ইডি শুধুমাত্র তদন্তের নামে নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে একটি রাজনৈতিক দলের তথ্য ও নির্বাচনী রণকৌশল লুঠ করেছে। তাঁর দাবি, অফিস থেকে সমস্ত ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, হার্ডডিস্ক এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এমনকি ফরেন্সিক টিম এনে সকাল থেকেই তথ্য ট্রান্সফারের কাজ চলেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “টেবিল খালি পড়ে আছে। সব কাগজপত্র, ফোন, হার্ডডিস্ক নিয়ে চলে গিয়েছে। এটা তদন্ত নয়, এটা তথ্য লুঠ।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই সমস্ত তথ্যের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কৌশল ও সাংগঠনিক পরিকল্পনার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় রয়েছে।
বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ (ED Raid)
ইডি অভিযানের নেপথ্যে সরাসরি বিজেপির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপিকে ‘গণতন্ত্রের হত্যাকারী দল’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বাংলায় নির্বাচনে জিততে না পেরে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে রাজ্য দখলের চেষ্টা চলছে। মমতার কটাক্ষ, “বাংলায় জিততে চাইলে রাজনৈতিক ভাবে লড়াই করুক। গায়ের জোরে, ফোর্সফুলি সব দখল করতে চাইছে বিজেপি।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন তাদের পার্টি অফিসে ইডি বা সিবিআই অভিযান চালানো হয় না। তাঁর কথায়, “বিজেপি এত বড় ডাকাত, তবু ওদের বিরুদ্ধে কিছু হচ্ছে না কেন?”

তৃণমূলের অধিকার ও আইনি প্রশ্ন (ED Raid)
মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস একটি রেজিস্টার্ড রাজনৈতিক দল, যারা নিয়মিত আয়কর দেয় এবং আইনের মধ্যে থেকেই কাজ করে। সেই দলের তথ্য ও নথিপত্র জোর করে নিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি বলেই তাঁর দাবি। তিনি অভিযোগ করেন, “এসআইআর-এর নামে হয়রানি করা হচ্ছে। আমার দলের তথ্য, ভোটের স্ট্র্যাটেজি পাচার করা হচ্ছে। এটা অপরাধ।” মমতার আশঙ্কা, এই তথ্য পাচারের ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে, যা সরাসরি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর আঘাত।
নির্বাচনকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত আঘাত? (ED Raid)
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে নির্বাচনের প্রসঙ্গ। তাঁর মতে, ভোটের আগে এই ধরনের অভিযান কোনওভাবেই কাকতালীয় নয়। অফিস থেকে সমস্ত নথিপত্র নিয়ে যাওয়ার ফলে নতুন করে সব কাগজপত্র তৈরি করতে গেলে নির্বাচনই পেরিয়ে যাবে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, “এটা স্পষ্ট ভাবে তৃণমূলের নির্বাচনী রণকৌশল নষ্ট করার চেষ্টা।” এই বক্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: Sealdah South Division: অফিস টাইমেই অচল হয়ে পড়ছে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখা
রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ডাক
ইডি অভিযানের প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিকেল চারটে থেকে প্রতিটি ব্লক ও ওয়ার্ডে মিছিল করার নির্দেশ দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এটি শুধুমাত্র একটি অফিসে অভিযান নয়, বরং তৃণমূল কংগ্রেস ও বাংলার মানুষের উপর আক্রমণ। মমতার স্পষ্ট বার্তা, “তৃণমূলকে অ্যাটাক করা ও বিজেপির এই লুঠের বিরুদ্ধে আন্দোলন হবে। বাংলার মানুষ এর যোগ্য জবাব দেবে।”



