Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুধু উপমহাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলায়নি (India-Bangladesh Border), ভারতীয় সেনার ইতিহাসেও এক অনন্য অধ্যায় সৃষ্টি করেছিল। সেই যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীকে প্রশিক্ষণ, রণকৌশল ও গোয়েন্দা সহায়তা দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় ভারতীয় সেনার একাধিক রেজিমেন্ট। পাঁচ দশক পর, সেই মুক্তিযুদ্ধ–অভিজ্ঞ সেনা রেজিমেন্টের জওয়ানদের আবার উত্তর–পূর্ব ভারতের ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে মোতায়েন করা ঘিরে নতুন করে কৌশলগত জল্পনা শুরু হয়েছে।

কোন রেজিমেন্ট, কোথায় মোতায়েন? (India-Bangladesh Border)
সেনা সূত্রে খবর, পূর্বাঞ্চলীয় সেনা সদর দফতরের অধীনে থাকা ৩৩ নম্বর কোরের ২০ নম্বর মাউন্টেন ডিভিশনের বাহিনী ইতিমধ্যেই ত্রিপুরা, মিজোরাম সহ উত্তর–পূর্ব ভারতের একাধিক সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া ৪, ৬ ও ৮ মাউন্টেন ডিভিশনের কিছু অংশকেও সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় সক্রিয় রাখা হয়েছে বলে সেনা সূত্রের দাবি। এই ডিভিশনগুলির জওয়ানরা মুক্তিযুদ্ধের সময় সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে অংশগ্রহণের পাশাপাশি মুক্তিবাহিনীকে গেরিলা যুদ্ধ, পাহাড়ি এলাকায় অপারেশন, সীমান্ত পেরিয়ে দ্রুত আঘাত হানা ও প্রত্যাবর্তনের কৌশল শেখানোর দায়িত্বে ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা আজও কেন গুরুত্বপূর্ণ? (India-Bangladesh Border)
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মুক্তিযুদ্ধের সময় গড়ে ওঠা যৌথ অপারেশন, সীমান্ত–কেন্দ্রিক যুদ্ধকৌশল ও স্থানীয় ভূপ্রকৃতি ব্যবহার করে যুদ্ধ চালানোর অভিজ্ঞতা আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। উত্তর–পূর্ব ভারতের ঘন জঙ্গল, পাহাড়ি এলাকা, নদী–বেষ্টিত সীমান্ত এবং জনবসতিপূর্ণ অঞ্চল এই সমস্ত ভৌগোলিক বাস্তবতা ১৯৭১ সালের যুদ্ধক্ষেত্রের সঙ্গে বহু ক্ষেত্রে মিল রাখে। আজও উত্তর–পূর্ব ভারতের একাধিক সেনা প্রশিক্ষণ ছাউনিতে মুক্তিযুদ্ধকালীন কৌশল ও অপারেশনের পাঠ দেওয়া হয়। সেই অভিজ্ঞতাকে বাস্তবে কাজে লাগাতেই এই বিশেষ রেজিমেন্টগুলিকে সীমান্তে মোতায়েন করা হয়েছে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।

ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন উদ্বেগ (India-Bangladesh Border)
সাম্প্রতিক সময়ে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত ঘিরে একাধিক কৌশলগত উদ্বেগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা স্তরে ঘনিষ্ঠতা, সীমান্তের অদূরে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের আধিকারিকদের আনাগোনা, উত্তর–পূর্বে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান সংক্রান্ত আশঙ্কা, এই সমস্ত বিষয় ভারতকে নতুন করে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকরা।
চিকেন নেক করিডর: ভারতের ‘লাইফলাইন’ (India-Bangladesh Border)
উত্তর–পূর্ব ভারতের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগ রক্ষাকারী চিকেন নেক করিডর বা শিলিগুড়ি করিডর ভারতের কৌশলগত দিক থেকে অন্যতম সংবেদনশীল এলাকা। এই করিডর সুরক্ষিত রাখতে ইতিমধ্যেই, তিনটি নতুন সেনা ছাউনি তৈরি, ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের মোতায়েন, এস–৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সক্রিয়, এছাড়াও, মিজোরামে উত্তর–পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় সেনা ছাউনি গড়ে তোলার কাজ চলছে।

আরও পড়ুন: Sealdah South Division: অফিস টাইমেই অচল হয়ে পড়ছে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখা
‘মাস্টার স্ট্রোক’?
সামরিক বিশারদদের মতে, শুধুমাত্র আধুনিক অস্ত্র নয়, অভিজ্ঞতা ও ইতিহাসভিত্তিক কৌশলই আসল শক্তি। মুক্তিযুদ্ধের সময় যে রেজিমেন্টগুলি সীমান্ত–অতিক্রমী অপারেশন, স্থানীয় বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা অর্জন করেছিল, তাদের বর্তমান সীমান্ত পরিস্থিতিতে কাজে লাগানো প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি সুপরিকল্পিত “মাস্টার স্ট্রোক”। এই মোতায়েন একদিকে যেমন প্রতিরোধমূলক বার্তা দিচ্ছে, তেমনই প্রয়োজনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতির ইঙ্গিতও বহন করছে।



