Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘায় অবস্থিত জগন্নাথধাম ধীরে ধীরে শুধু একটি তীর্থস্থান নয়, বরং সুশৃঙ্খল ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে (Digha Jagannath Temple)। সেই পথেই আরও এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছুঁতে চলেছে এই মন্দির। জগন্নাথধামের ভোগ প্রসাদকে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে দিল্লিতে অবস্থিত FSSAI-র কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠানো হল ভোগের নমুনা ও সংশ্লিষ্ট সমস্ত নথি।

দিল্লিতে পাঠানো হল চূড়ান্ত রিপোর্ট (Digha Jagannath Temple)
বুধবার দিঘার জগন্নাথধামে সম্পন্ন হল ভোগ প্রস্তুতির চূড়ান্ত অডিট। নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্যজেলার খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক বিশ্বজিৎ মান্নার উপস্থিতিতে এবং FSSAI-র দুই সদস্যের বিশেষ টিমের তত্ত্বাবধানে রান্না করা ভোগের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে এই বিস্তৃত পর্যবেক্ষণ ও নথিভুক্তিকরণ পর্ব। এই অডিটের মাধ্যমে সংগৃহীত সমস্ত রিপোর্ট ও নমুনা পাঠানো হয়েছে দিল্লিতে FSSAI-র কেন্দ্রীয় দপ্তরে। সেখানে চূড়ান্ত মূল্যায়নের পর দিঘা জগন্নাথধাম পাবে ‘BHOG (Blissful Hygienic Offering to God)’ শংসাপত্র।
ভোগ প্রস্তুতিতে কী কী খতিয়ে দেখা হল (Digha Jagannath Temple)
চূড়ান্ত অডিটে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিশেষ নজর দেন আধিকারিকরা। রান্নার জন্য ব্যবহৃত জলের গুণমান, রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা, কাঁচামালের সংরক্ষণ, রান্নার পদ্ধতি এবং রাঁধুনিদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি সব কিছুই খুঁটিয়ে দেখা হয়। রাঁধুনিরা মাস্ক, হেডকভার ও পরিষ্কার পোশাক ব্যবহার করছেন কি না, রান্নার সময় হাত ধোয়ার নিয়ম মানা হচ্ছে কি না এবং রান্না শেষে ভোগ সংরক্ষণের পদ্ধতি কতটা নিরাপদ এসব বিষয়ও অডিটের আওতায় আসে।

আগেই হয়েছিল প্রি-অডিট ও প্রশিক্ষণ (Digha Jagannath Temple)
উল্লেখযোগ্যভাবে, মাসখানেক আগেই খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের তরফে জগন্নাথধামের ভোগ ব্যবস্থার প্রি-অডিট করা হয়েছিল। সেই সময় রাঁধুনিদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেন খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকরা। কীভাবে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে রান্না করতে হবে, কোন কোন সুরক্ষাবিধি অবশ্যই মানতে হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশ দেওয়া হয়। এই প্রশিক্ষণের পরই চূড়ান্ত অডিটের পথে এগোয় জগন্নাথধাম কর্তৃপক্ষ।
ভক্তদের জন্য বসে ভোগ খাওয়ার ব্যবস্থা (Digha Jagannath Temple)
গত ডিসেম্বর মাস থেকেই জগন্নাথধামে ভক্তদের জন্য বসে ভোগ প্রসাদ গ্রহণের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। প্রতিদিন কয়েকশো ভক্ত কুপন কেটে মন্দির প্রাঙ্গণেই জগন্নাথদেবের ভোগ গ্রহণ করছেন। ভক্তদের মধ্যে এই ব্যবস্থার জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাড়ছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক ভক্তকে এই ভোগ প্রসাদ দেওয়ার লক্ষ্যে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। সেই কারণেই স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: Oppo New Phone: বাজারে আসতে চলেছে ওপ্পোর নতুন ফোন, থাকছে বিশেষ ক্যামেরা
শংসাপত্র পেলেই বাড়বে আস্থা
নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্যজেলার খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক বিশ্বজিৎ মান্না জানান, “জগন্নাথধামের ভোগের ফাইনাল অডিট করা হয়েছে। ভক্তরা যাতে ভোগ প্রসাদ খেয়ে কোনওভাবেই অসুস্থ না হন, সে জন্য স্বাস্থ্যসম্মত প্রস্তুতির বিষয়টি বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছে। সমস্ত রিপোর্ট দিল্লিতে FSSAI-র কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠানো হবে।” আগামী এক মাসের মধ্যেই এই রিপোর্টের ভিত্তিতে দিঘা জগন্নাথধাম পেতে চলেছে FSSAI অনুমোদিত BHOG শংসাপত্র। এই স্বীকৃতি শুধু ভক্তদের আস্থা বাড়াবে না, বরং দেশের অন্যতম আদর্শ তীর্থভোগ ব্যবস্থার তালিকায় দিঘা জগন্নাথধামকে বিশেষ জায়গায় পৌঁছে দেবে।



