Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতার রাজনৈতিক ও আইনি মহলে নজিরবিহীন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে চলমান সংঘাত (IPAC Case High Court)। ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের সল্টলেক অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি অভিযানের সূত্র ধরে এই সংঘাত পৌঁছেছে কলকাতা হাই কোর্ট পর্যন্ত। শুধু রাজনৈতিক তরজাই নয়, এই মামলায় যুক্ত হয়েছে সাংবিধানিক ক্ষমতা, তদন্তে হস্তক্ষেপ, আদালতের এখতিয়ার এবং বিচার প্রক্রিয়ার শৃঙ্খলা সংক্রান্ত গুরুতর প্রশ্ন।

মামলায় পক্ষ করার আবেদন ইডির (IPAC Case High Court)
শুক্রবার কলকাতা হাই কোর্টে ইডির তরফে এক গুরুত্বপূর্ণ আবেদন জানানো হয় (IPAC Case High Court)। ইডির আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী আদালতে জানান, তিনি ইলেকট্রনিক ফাইলিং ছাড়া সরাসরি পিটিশন জমা দেওয়ার অনুমতি চান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই মামলায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পক্ষভুক্ত করা জরুরি। ইডির অভিযোগ, তদন্ত চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিজের প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছেন। ইডির দাবি, এই ঘটনাগুলি মিডিয়া ফুটেজে স্পষ্টভাবে নথিবদ্ধ রয়েছে। তদন্তে এই ধরনের অনধিকার হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। এছাড়াও, তৃণমূল কংগ্রেসের দায়ের করা মামলার সঙ্গে ইডির এই আবেদন যুক্ত করে একসঙ্গে শুনানির আর্জিও জানানো হয়।
অল ইন্ডিয়া লইয়ার্স ইউনিয়নের হস্তক্ষেপ (IPAC Case High Court)
এই মামলায় নতুন মোড় নেয় অল ইন্ডিয়া লইয়ার্স ইউনিয়নের হস্তক্ষেপে। সংগঠনের তরফে আইনজীবী শামীম আহমেদ আদালতে আবেদন জানিয়ে মামলার মেন্টেনেবিলিটি বা গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের যুক্তি তিনটি স্তরে বিভক্ত, প্রথমত, ইডি নিজেই জানিয়েছে যে এটি পিএমএলএ আইনের আওতাভুক্ত মামলা। সেক্ষেত্রে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা বা তদন্ত সংক্রান্ত প্রশ্ন যে আদালতের বিচার্য, এই আদালত সেই এখতিয়ার রাখে না। দ্বিতীয়ত, মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে তদন্ত প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, অল ইন্ডিয়া লইয়ার্স ইউনিয়নের দাবি, ইডি যেভাবে তদন্ত চালাচ্ছে, তাতেও তারা সন্তুষ্ট নয়। অর্থাৎ, কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এই সংগঠন।

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ভোটকুশলী সংস্থা (IPAC Case High Court)
আইপ্যাক তথা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের পরামর্শদাতা সংস্থা হিসেবে কাজ করছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে আইপ্যাকের কাছে দলের কৌশলগত নথি, ভোট-সংক্রান্ত তথ্য ও অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনা থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে তৃণমূল। শাসকদলের অভিযোগ, বিজেপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইডিকে ব্যবহার করে এই সংবেদনশীল তথ্য হাতানোর চেষ্টা করছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে দাবি করেন, এটি নিছক তদন্ত নয়, বরং ভোটের রণকৌশল ও প্রার্থী তালিকা চুরির ষড়যন্ত্র। পালটা ইডির বক্তব্য, এই অভিযান সম্পূর্ণভাবে কয়লা পাচার মামলার সূত্রে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়।
আদালতের এজলাসে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা (IPAC Case High Court)
শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে ইডি ও তৃণমূলের দুটি মামলার একসঙ্গে শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শুনানি শুরু হতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন, এমন বহু ব্যক্তি এজলাসে ঢুকে পড়েন। বিচারপতি একাধিকবার এজলাস খালি করার নির্দেশ দেন। এমনকি কোর্ট অফিসাররাও অনুরোধ জানান। কিন্তু তুমুল হট্টগোল, চিৎকার-চেঁচামেচির মধ্যে বিচারক কার্যত অসহায় হয়ে পড়েন। শেষপর্যন্ত চেয়ার ছেড়ে এজলাস ত্যাগ করেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। এই অভূতপূর্ব ঘটনার জেরে মামলার শুনানি স্থগিত করে আগামী ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতুবি রাখা হয়। ওই দিনই ইডি ও তৃণমূলের দায়ের করা দুটি মামলার একসঙ্গে শুনানি হবে বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: Iran: ইরানে আর্থিক সঙ্কট, দেশজুড়ে বিক্ষোভ: সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে টলমল খামেইনির চেয়ার
আইনি লড়াইয়ের বাইরে সাংবিধানিক প্রশ্ন
এই মামলার মাধ্যমে শুধু রাজনৈতিক সংঘাত নয়, সামনে এসেছে একাধিক সাংবিধানিক প্রশ্ন। একজন মুখ্যমন্ত্রী তদন্তস্থলে গিয়ে প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন কি না, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার কাজের পরিধি কোথায় শেষ হয়, এবং আদালতের শৃঙ্খলা ভঙ্গ হলে বিচার ব্যবস্থার মর্যাদা কীভাবে রক্ষা করা হবে এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যতের রাজনীতি ও প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



