Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে একাধিক বিতর্কিত নীতি ও ঘোষণা এসেছে (Greenland)। এর মধ্যে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ নিয়ে তাঁর আগ্রহও বিশেষভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। যদিও এটি প্রথমে অদ্ভুত বা অস্বাভাবিক মনে হতে পারে, তথ্যমতে ট্রাম্পের প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনার ছক কষে রেখেছিল।

সামরিক অভিযান ও সেনার দ্বন্দ্ব (Greenland)
ডেইলি মেল সংবাদমাধ্যমের বরাত অনুযায়ী, মার্কিন সেনার ‘জয়েন্ট স্পেশাল অপারেশন’ ইউনিটকে গ্রিনল্যান্ডে হামলার জন্য সমস্ত পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে এই পরিকল্পনায় সব ধরনের সহযোগিতা পাননি তিনি। জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফদের মধ্যে অনেকেই এই নির্দেশের কার্যকর বাস্তবায়নের বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, গ্রিনল্যান্ডে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেআইনি এবং মার্কিন কংগ্রেসও কখনও এই ধরনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করবে না।
সেনা কর্মকর্তাদের অভ্যন্তরীণ কৌশল ছিল, প্রেসিডেন্টের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়া। কখনও তাঁকে আটলান্টিক মহাসাগরে রুশ জাহাজের আনাগোনা দেখানো হচ্ছে, কখনও ইরানে হামলার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে আলাপ করা হচ্ছে। এভাবেই তাঁরা মূলত গ্রিনল্যান্ড অভিযান ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।

স্টিফেন মিলার এবং ট্রাম্পের আগ্রহ
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের রাজনৈতিক উপদেষ্টা স্টিফেন মিলারই গ্রিনল্যান্ডে আক্রমণের সবচেয়ে বেশি পক্ষপাতী। মিলারের আগ্রহের সূত্রপাত মূলত ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বন্দিত্ব ও অপহরণের ঘটনা থেকে। মিলার মনে করেন, যদি মার্কিন প্রশাসন এখনই পদক্ষেপ না নেয়, রাশিয়া ও চীন ভবিষ্যতে গ্রিনল্যান্ডে প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
এমনকি ব্রিটিশ এক কূটনীতিকের দাবি, ট্রাম্পও একইভাবে গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রতি আগ্রহী। কূটনীতিকের মতে, মূল্যবৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক মন্দার কারণে দেশটির সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছে। প্রেসিডেন্ট চাইছেন, দেশের মনোযোগ ঘোরানোর জন্য বড় কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। এই প্রসঙ্গে তিনি মাঝে মাঝে ভেনেজুয়েলা, ইরান কিংবা গ্রিনল্যান্ডকে লক্ষ্য করে সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবছেন।

আরও পড়ুন : Bangladesh: বিএনপির চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমান: নির্বাচনের আগে পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ, দাবি রাজনৈতিক মহলের
নির্বাচনের প্রেক্ষাপট
২০২৬ সালের শেষদিকে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। দেশের অর্থনৈতিক মন্দা এবং জনগণের ক্ষোভের কারণে ট্রাম্প আশঙ্কা করছেন, ভোটের ফলাফল ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে যেতে পারে। তাই নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার উদ্দেশ্যে তিনি বড় কিছু সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন। এভাবে গ্রিনল্যান্ড বা অন্যান্য দেশের উপর সামরিক হুঁশিয়ারি ও পরিকল্পনা তাঁকে নির্বাচনী সুবিধা দিতে পারে বলে মনে হচ্ছে।



