Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : ইরান জুড়ে কার্যত তাণ্ডবের ছবি। শনিবার রাত থেকে একের পর এক শহরে ছড়িয়ে পড়েছে সহিংস বিক্ষোভ (Donald Trump)। সরকারি দপ্তর, প্রশাসনিক ভবন, বাস ও ট্রেনে আগুন ধরিয়ে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভকারীরা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একাধিক ভিডিয়ো ফুটেজে পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের গুলি চালানোর অভিযোগও উঠেছে। এই উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেই ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দমনপীড়নের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামা জনতা (Donald Trump)
গত কয়েক দিন ধরেই ইরান জুড়ে যৌথ অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনী। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ধরপাকড়, নজরদারি এবং শক্তি প্রয়োগ বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে শনিবার রাতে ফের রাস্তায় নামেন হাজার হাজার মানুষ। প্রথমে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে দাঁড় করানো বাসে আগুন ধরানো হয়। পরে ক্ষোভের লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠে রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতীক সরকারি দপ্তর ও প্রশাসনিক ভবন। আন্দোলনকারীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে ইরানের একাধিক শহরের রাজপথ।
গেরিলা কায়দায় সংঘর্ষ (Donald Trump)
বিক্ষোভ ঠেকাতে রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড বসায় পুলিশ। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে গেরিলা কায়দায় নিরাপত্তাবাহিনীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা। অভিযোগ, পাল্টা কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বহুতল আবাসন থেকে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এই সংঘর্ষে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে অনুমান করা হলেও প্রকৃত সংখ্যা এখনও সামনে আসেনি।
মৃতের সংখ্যা বাড়ছে (Donald Trump)
সিবিএস নিউজ়ের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দু’সপ্তাহের বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৩ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। তবে শনিবার রাতের সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।এই আবহে ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদের মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যারা বিক্ষোভে যোগ দেবেন, তাঁরা ইশ্বরের শত্রু। এই অপরাধের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।”
সামরিক হামলার ইঙ্গিত (Donald Trump)
এর আগেই ইরানের বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দমনপীড়ন চললে সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারিও শোনা গিয়েছিল তাঁর কণ্ঠে। শনিবারের ঘটনার পর নিউ ইয়র্ক টাইমসকে আমেরিকার এক কর্তা জানান, “ইরান সরকারের দমননীতির সবিস্তার রিপোর্ট প্রেসিডেন্টকে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি এমনই থাকলে সীমিত সামরিক হামলার বিষয়টি তিনি গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন।” এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা উসকে দিয়েছে।

আরও পড়ুন : Bangladesh: বিএনপির চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমান: নির্বাচনের আগে পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ, দাবি রাজনৈতিক মহলের
আমেরিকার দিকে কটাক্ষ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এখনও পর্যন্ত কোনও আপসের ইঙ্গিত দেননি। বরং বিক্ষোভকারীদের তিনি ‘দাঙ্গাবাজ’ ও ‘ষড়যন্ত্রকারী’ বলে কটাক্ষ করেছেন। একই সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও একহাত নিয়ে বলেন, “নিজের চরকায় তেল দিন।” কিন্তু ট্রাম্পও পিছু হটেননি। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি ইরানের আন্দোলনকে ‘স্বাধীনতা আন্দোলন’ আখ্যা দিয়ে লেখেন, “গত কয়েক দশকে ইরান কখনও স্বাধীনতার এত কাছে আসেনি। আমেরিকা সাহায্য করতে প্রস্তুত।”



