Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ইডির ভূমিকা নতুন নয় (Suvendu Adhikary)। তবে আইপ্যাকের অফিসে ইডির হানা ঘিরে যে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা আবারও রাজ্য-রাজনীতিকে এনে ফেলেছে প্রকাশ্য রাজপথের সংঘাতে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই পথে নেমে প্রতিবাদ করেছেন, অন্যদিকে সেই একই ইস্যুকে হাতিয়ার করে যাদবপুর থেকেই মিছিল নামালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই প্রেক্ষাপটেই চন্দ্রকোণা রোডে শুভেন্দুর কনভয়ে হামলার অভিযোগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে রাজনৈতিক লড়াইয়ে।

আইপ্যাকের অফিসে ইডির হানা (Suvendu Adhikary)
আইপ্যাক একটি রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির আক্রমণের কেন্দ্রে। সেই সংস্থার অফিসে ইডির তল্লাশি শুরু হতেই রাজ্য রাজনীতিতে ঝড় ওঠে। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দমন করতে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই তল্লাশির প্রতিবাদে শুক্রবার রাজপথে নামেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আইন-শৃঙ্খলার নামে কেন্দ্র রাজ্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ করছে এবং ভয় দেখানোর রাজনীতি করছে।
যাদবপুর থেকে দেশপ্রিয় পার্ক (Suvendu Adhikary)
রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, মুখ্যমন্ত্রীর সেই রাজপথের আন্দোলনের পরই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও মিছিলের ডাক দেন। যাদবপুর থেকে দেশপ্রিয় পার্ক পর্যন্ত তাঁর মিছিল শুধু আইপ্যাকের অফিসে ইডির তল্লাশির প্রতিবাদেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এর সঙ্গে যুক্ত হয় আরও একটি গুরুতর অভিযোগ ফাইল ছিনতাই এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাস। শুভেন্দুর দাবি, রাজ্যে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতে প্রশাসনকে ব্যবহার করা হচ্ছে, আর তারই প্রতিবাদে এই মিছিল।

চন্দ্রকোণা রোডে কী ঘটেছিল? (Suvendu Adhikary)
শনিবার সন্ধ্যায় পুরুলিয়ায় জনসভা সেরে ফেরার পথে শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় চন্দ্রকোণা রোডের কাছে পৌঁছতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিজেপির অভিযোগ, সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন দলের কর্মীরা, যারা বিরোধী দলনেতাকে অভ্যর্থনা জানাতে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু কনভয় পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গেই সংঘর্ষ শুরু হয়। বিজেপির দাবি, তৃণমূল কর্মীরা আচমকা হামলা চালায়। লাঠি ও বাঁশ দিয়ে কনভয়ের গাড়িতে আঘাত করা হয়, ভাঙচুর করা হয় গাড়ির কাচ।
“আমাকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা হয়েছে” (Suvendu Adhikary)
ঘটনার পর শুভেন্দু অধিকারী নিজেই ভয়াবহ অভিযোগ তোলেন। তাঁর কথায়, “১০-১২ জন লোক, সামনে ৮-১০ জন পুলিশ। কাঠের বাটাম, মোটা বাঁশ দিয়ে আমার সামনের গাড়ি আর পরের দুটো কালো স্করপিওর ওপর দমাদম মারছিল। পেট্রোল আর কেরোসিনের জার এনে গাড়ির ওপর ঢেলে দেশলাই মারার চেষ্টা হয়েছিল। আমাকে হত্যা করার চেষ্টা হয়েছে।” এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন ফেলে দেয়।
পুলিশ বিট হাউসে রাতভর অবস্থান (Suvendu Adhikary)
ঘটনার পর দীর্ঘক্ষণ পুলিশ বিট হাউসে বসে থাকেন শুভেন্দু অধিকারী। বাইরে বিক্ষোভ চালাতে থাকেন বিজেপি কর্মীরা। থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন বিরোধী দলনেতা। কিন্তু শুভেন্দুর অভিযোগ, পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে জামিনযোগ্য ধারা দিয়ে অভিযুক্তদের আড়াল করছে। তাঁর দাবি, হত্যাচেষ্টার অভিযোগে কঠোর ধারা দেওয়া হয়নি। তিনি স্পষ্ট বলেন, “আমি বলেছি জার এনেছিল, পুড়িয়ে মারার চেষ্টা হয়েছে। ১০৯ না দিলে FIR নেব না। এরা সবাই তৃণমূলের। পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।” এই মন্তব্যে পুলিশ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

আরও পড়ুন : Bangladesh: বিএনপির চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমান: নির্বাচনের আগে পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ, দাবি রাজনৈতিক মহলের
মমতার পাল্টা সুর
এর আগেই আইপ্যাক ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও তদন্ত সংস্থার ভূমিকা নিয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “মিটিং করলে চারপাশে পুলিশ, সিআরপিএফ, বিএসএফ সব দিয়ে এলাকা ঘিরে ফেলা হচ্ছে। এটা কি আইন-শৃঙ্খলা? আমার আত্মরক্ষা করার অধিকার আছে।” মমতার এই বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলছেন।



