Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাঙালির পুজো মানেই শুধু বিশ্বাস আর ভক্তি নয়, তার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে নান্দনিকতা (Saraswati Puja), শিল্পচর্চা আর সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়ার মানসিকতা। দুর্গাপুজো বা কালীপুজোর মতো বৃহৎ উৎসবেই শুধু নয়, সরস্বতী পুজোতেও সেই বদলের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আগামী ২৩ জানুয়ারি সরস্বতী পুজো। আর তার আগেই কুমোরটুলিতে চোখে পড়ছে এক অভিনব প্রবণতা ‘কিউট’ সরস্বতী।

সাবেকি বাগদেবী থেকে আধুনিকা রূপান্তর (Saraswati Puja)
এতদিন বাঙালির মনে সরস্বতী মানেই ছিল শান্ত, গম্ভীর, শ্বেত বা পীতবসনা বিদ্যাদেবী হাতে বীণা, পায়ের কাছে রাজহাঁস, মুখে এক ধরণের অলৌকিক প্রশান্তি। কিন্তু সময় বদলেছে। আজকের প্রজন্ম শুধু দর্শক নয়, তারা অংশগ্রহণকারী। সেই প্রজন্মের রুচি, আবেগ আর আনন্দকে মাথায় রেখেই এবার কুমোরপাড়ায় রূপ নিচ্ছে একেবারে অন্যরকম সরস্বতী। এই নতুন সরস্বতীর গাল একটু ফোলা, নাক সামান্য চাপা, চোখে শিশুসুলভ কৌতূহল। ছোট ছোট হাতে ছোট্ট বীণা, খুদে পায়ের নিচে হাঁসের ছানা। দেবীর এই রূপে কোনও গাম্ভীর্য নেই, আছে ঘরোয়া মায়া, সহজ হাসি আর একধরনের আত্মীয়তা।
‘কিউট’ সরস্বতী কেন এত জনপ্রিয়? (Saraswati Puja)
মৃৎশিল্পীদের কথায়, এবছর কিউট সরস্বতীর চাহিদা চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ, পাড়ার ছোট পুজো কমিটি এবং পরিবারকেন্দ্রিক আরাধনায় এই মূর্তির কদর সবচেয়ে বেশি। কারণ এই রূপে দেবী যেন আর দূরের কোনও অলৌকিক সত্তা নন, বরং আমাদেরই ঘরের মেয়ে। শিশুদের কাছে এই সরস্বতী অনেক বেশি আপন। বিদ্যার দেবীকে ভয় বা দূরত্ব নয়, বরং বন্ধুত্ব আর আনন্দের প্রতীকে পরিণত করছে এই শিল্পরূপ।

দীপঙ্কর পালের তুলির টানে নতুন ইতিহাস (Saraswati Puja)
এই কিউট সরস্বতীর নেপথ্যে যাঁর নাম বারবার উঠে আসছে, তিনি কুমোরটুলির বিশিষ্ট মৃৎশিল্পী দীপঙ্কর পাল। কলকাতার বহু নামীদামি দুর্গাপুজোয় তাঁর তৈরি প্রতিমা ইতিমধ্যেই শিল্পের নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত। তবে সরস্বতী পুজোয় তাঁর সবচেয়ে বড় চমক এসেছিল গত বছর। মধ্য কলকাতার চোরবাগানের একটি ছোট সরস্বতী মূর্তিতেই প্রথম দেখা যায় এই কিউট রূপ। ছোট মুখাবয়ব, আলাদা ধাঁচের হাঁস, সম্পূর্ণ ঘরোয়া বীণাপানি সেই মূর্তি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। প্রশংসার বন্যায় ভেসে যান শিল্পীও।
ভাইরাল সংস্কৃতি ও মূর্তিশিল্প (Saraswati Puja)
আজকের সময়ে শিল্প শুধু মণ্ডপেই সীমাবদ্ধ থাকে না, তা পৌঁছে যায় মোবাইল স্ক্রিনে, সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিউট সরস্বতী তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ছবি ছড়িয়ে পড়তেই বদলে যায় মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি। অনেকেই সাবেকি ধারা ছেড়ে নতুন রূপে দেবী আরাধনায় আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এই প্রবণতা মৃৎশিল্পীদের কাছেও আশীর্বাদ। নতুন চিন্তা, নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ তৈরি হয়।
কিউট দুর্গা থেকে কিউট সরস্বতী (Saraswati Puja)
আসলে এই প্রবণতা একেবারে নতুন নয়। গত বছর আসানসোলের এক দুর্গাপুজোয় দেখা গিয়েছিল ‘কিউট দুর্গা’ সপরিবার দশভুজা, কিন্তু সম্পূর্ণ অন্য মেজাজে। সেই পরীক্ষাই যেন এবার আরও পরিণত রূপে ধরা দিল সরস্বতী পুজোয়। দুর্গা বা কালীপুজো যেখানে থিম আর বিশালতার দিক থেকে এগিয়ে, সেখানে সরস্বতী পুজো অনেকটাই ঘরোয়া। কিউট সরস্বতী সেই ঘরোয়া আবহকে আরও জোরালো করে তুলছে।
আরও পড়ুন: SIR: এবার এসআইআর শুনানিতে ডাক দুই প্রাক্তন সাংসদ টুটু বোস-সৃঞ্জয়কে!
জনপ্রিয়তার মধ্যেও পরিবর্তনের তাগিদ
তবে দীপঙ্কর পাল নিজে এই জনপ্রিয়তা নিয়ে খুব একটা উচ্ছ্বসিত নন। একজন সৃষ্টিশীল মানুষের মতো তাঁর বিশ্বাস, এক স্টাইলে বেশিদিন আটকে থাকা যায় না। কিউট সরস্বতী জনপ্রিয় হলেও তিনি আবার নতুন ছাঁচে কাজ করতে চান। কারণ শিল্প মানেই নিরন্তর পরিবর্তন। এই মনোভাবই কুমোরটুলির শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছে শতাব্দীর পর শতাব্দী।



