Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ বনাম মানুষের স্বার্থ এই দ্বন্দ্বের করুণতম ছবি ফের উঠে এল তামিলনাড়ুর সত্যমঙ্গলম টাইগার রিজার্ভ থেকে (Elephant Rescued)। মাত্র দুই বছর বয়সি এক হস্তিশাবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, মানুষের অসচেতনতা ও নিষ্ঠুরতা কীভাবে নির্বাক প্রাণীদের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। বুনো ফল ভেবে গিলে ফেলা একটি বোমার বিস্ফোরণেই শেষ হয়ে গেল এক শিশুহাতির জীবন যে এখনও প্রকৃতির কোলে খেলাধুলা করার বয়সেই ছিল।

জঙ্গলের নীরবতায় রক্তাক্ত শাবক (Elephant Rescued)
দিন কয়েক আগে নিয়মিত টহলের সময় বনদপ্তরের আধিকারিকদের নজরে পড়ে জঙ্গলের ভেতরে পড়ে থাকা একটি হাতির দেহ। কাছে গিয়ে তাঁরা দেখেন, সেটি একটি হস্তিশাবক তার শুঁড় ও মুখমণ্ডল রক্তে ভেসে যাচ্ছে। দৃশ্যটি ছিল এতটাই হৃদয়বিদারক যে সঙ্গে সঙ্গে পশু চিকিৎসকদের খবর দেওয়া হয়। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়। চিকিৎসকদের রিপোর্টে স্পষ্ট হয়ে যায় ভয়াবহ সত্য শাবকটি কোনও রোগে বা দুর্ঘটনাবশত নয়, একটি বিস্ফোরকের আঘাতেই প্রাণ হারিয়েছে। গিলে ফেলা বোমাটি মুখের ভেতরেই ফেটে গিয়ে মুহূর্তের মধ্যে তার মৃত্যু ঘটায়।
কেন জঙ্গলে বোমা পুঁতে রাখা হয়? (Elephant Rescued)
বনদপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সত্যমঙ্গলম টাইগার রিজার্ভ সংলগ্ন এলাকাগুলিতে প্রায়ই হাতির পাল লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় বহু কৃষক হাতিদের তাড়াতে অবৈধ ও বিপজ্জনক পথ বেছে নেন। কখনও বুনো ফল বা খাবারের মধ্যে বোমা লুকিয়ে রাখা হয়, কখনও আবার হাতিদের চলাচলের পথে বিস্ফোরক পুঁতে রাখা হয়। এই ঘটনাতেও তেমনই কিছু ঘটেছিল বলে অনুমান। হাতিদের যাতায়াতের পথে রাখা একটি বোমাকে বুনো ফল ভেবে গিলে ফেলে ওই হস্তিশাবক। মানুষের উদ্দেশ্য ছিল হাতিদের ভয় দেখানো, কিন্তু তার ফল হল এক নিষ্পাপ প্রাণীর মৃত্যু।

গ্রেপ্তার কৃষক, কিন্তু দায় কার? (Elephant Rescued)
এই ঘটনায় বনদপ্তর কালিমুথু (৪৩) নামে স্থানীয় এক কৃষককে গ্রেপ্তার করেছে। আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেই জানানো হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় শুধু একজন কৃষকই কি দায়ী? নাকি এই ঘটনা আমাদের সমাজের বৃহত্তর ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি? যেখানে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থানের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা, সচেতনতা এবং বিকল্প ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, সেখানে বারবার বোমা ও ফাঁদের মতো নিষ্ঠুর পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে কেন?
কেরালার ঘটনার ভয়াবহ স্মৃতি (Elephant Rescued)
এই ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়। ২০২৪ সালে কেরালায় একই ধরনের একটি ঘটনা গোটা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। বুনো শুয়োর তাড়াতে কুমড়োর মধ্যে বোমা লুকিয়ে রেখেছিলেন এক কৃষক। সেই কুমড়ো খেতে গিয়েই ১৫ বছরের এক হাতির মুখের ভেতর বিস্ফোরণ ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাতিটিকে নন্দনকানন চিড়িয়াখানায় নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। একই ধরনের নৃশংসতা বারবার ঘটছে, তবু আমরা যেন শিক্ষা নিচ্ছি না।
আরও পড়ুন: SIR: এবার এসআইআর শুনানিতে ডাক দুই প্রাক্তন সাংসদ টুটু বোস-সৃঞ্জয়কে!
মানুষ ও প্রকৃতির ভবিষ্যৎ কোথায়?
ভারতের বনভূমিতে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান আজ চরম সংকটের মুখে। একদিকে মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রশ্ন, অন্যদিকে নির্বাক প্রাণীদের অস্তিত্বের লড়াই। এই দ্বন্দ্বের সমাধান বোমা বা বিস্ফোরকে নয় সমাধান রয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারের সক্রিয় ভূমিকার মধ্যে। হাতির জন্য করিডর তৈরি, ফসল রক্ষার নিরাপদ প্রযুক্তি, ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় মানুষকে বন সংরক্ষণের অংশীদার করা এই পথেই হয়তো আরেকটি হস্তিশাবকের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।



