Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সংসদীয় নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে নেপালের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেস (এনসি) বড় ধরনের ভাঙনের মুখে পড়েছে(Nepal)। দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বে এনসি স্পষ্টভাবে দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে যায়। একদিকে রয়েছেন গগন থাপা ও বিশ্ব প্রকাশ শর্মা, অন্যদিকে দলের বর্তমান সভাপতি ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা।
দুপক্ষের আলোচনা ব্যর্থ (Nepal)
দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা আলোচনা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হওয়ার পরই এই ভাঙন প্রকাশ্যে আসে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থাপা-শর্মা শিবির দাবি করেছে যে দলের জাতীয় প্রতিনিধিদের প্রায় ৬০ শতাংশ একটি আলাদা সম্মেলনে অংশ নেন। ওই সম্মেলনেই গগন থাপাকে দলের সভাপতি, বিশ্ব প্রকাশ শর্মা ও গুরু ঘিমিরেকে সাধারণ সম্পাদক এবং ফারমুল্লাহ মানসুরকে সহ-সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে। এই শিবির নিজেদেরই ‘প্রকৃত নেপালি কংগ্রেস’ বলে দাবি করছে।
‘প্রকৃত নেপালি কংগ্রেস’ কারা?
অন্যদিকে, দেউবা শিবিরও একই দাবি করছে। ফলে কোন শিবিরই আসল দল এই প্রশ্নে বিষয়টি এখন নেপালের নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসি যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, তা সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ হওয়া প্রায় নিশ্চিত।
৫ মার্চ নেপালের প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচন
আগামী ৫ মার্চ নেপালের প্রতিনিধি পরিষদের (নিম্নকক্ষ) নির্বাচন হওয়ার কথা। গত বছর যুব নেতৃত্বাধীন গণআন্দোলনের জেরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির সরকার পতনের পর সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।
গগন থাপা ও বিশ্ব প্রকাশ শর্মাকে বহিষ্কার (Nepal)
দেউবা শিবির এনসি’র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক ডেকে গগন থাপা ও বিশ্ব প্রকাশ শর্মার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট-এর খবর অনুযায়ী, তাঁদের দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে।
পাল্টা দাবি থাপা-শর্মা শিবিরের (Nepal)
তবে থাপা-শর্মা শিবিরের দাবি, তাঁদের ডাকা সম্মেলনেই দেউবার কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ফলে সেই কমিটির কোনও সিদ্ধান্তই বৈধ নয়। পাল্টা যুক্তিতে দেউবা শিবির বলছে, বহিষ্কৃত নেতাদের নেওয়া কোনও সিদ্ধান্তই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
দলের ভিতরে অসন্তোষ বহুদিন (Nepal)
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, দেউবার নেতৃত্ব নিয়ে দলের ভিতরে অসন্তোষ বহুদিন ধরেই জমছিল। বিশেষ করে তিনি একতরফাভাবে কেপি শর্মা অলির সিপিএন-ইউএমএল-এর সঙ্গে জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সেই ক্ষোভ আরও তীব্র হয়। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যুব আন্দোলনের মাধ্যমে ওই সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়।



