Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইরান বর্তমানে এক ভয়াবহ মানবিক ও রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি (Iran Crackdown)। দেশটিতে সাধারণ মানুষ দেশের অর্থনীতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং কট্টরপন্থী ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে। এই আন্দোলন যে মাত্রা নিয়েছে, তাতে পুরো আন্তর্জাতিক মহল উদ্বিগ্ন। সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, সরকারের হাতে হত্যার সংখ্যা খামেনেইয়ের দাবি অনুযায়ী ১ হাজার হলেও বাস্তব পরিসংখ্যান ১৬ হাজারেরও বেশি।

গণবিক্ষোভের পেছনের কারণ (Iran Crackdown)
ইরানের সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক অবস্থা, মূল্যবৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাখাতের দুরবস্থা এবং নাগরিক অধিকার হরণসহ নানা বিষয়ে ক্ষুব্ধ। বিশেষ করে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের শাসনের প্রতি দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এই বিক্ষোভকে ত্বরান্বিত করেছে। শিক্ষিত যুবক থেকে বৃদ্ধ নাগরিক পর্যন্ত সকলেই রাজপথে নেমেছে সরকারের নীতির বিরুদ্ধে।
মৃত্যুর ভয়াবহ পরিসংখ্যান (Iran Crackdown)
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’-এর প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানে বিক্ষোভ দমনের ফলে অন্তত ১৬ হাজার ৫০০ মানুষ মারা গেছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ৩ লক্ষ ৩০ হাজার। খামেনেইয়ের নির্দেশে নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করছে। রাইফেল ও মেশিনগানের গুলি চালানো হচ্ছে নির্বিচারে। এতে বহু মানুষের মাথা, বুক এবং কাঁধে ভয়াবহ আঘাত ঘটেছে। মৃতদের মধ্যে শিশুসহ অন্তঃসত্ত্বা মহিলারাও রয়েছেন।

চোখ হারানো ও স্বাস্থ্যসেবার সংকট (Iran Crackdown)
প্রতিবেদনে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. আমির পারাস্তার উল্লেখ করেছেন, গুলির আঘাতে ৭০০ থেকে ১ হাজার মানুষ চোখ হারিয়েছেন। হাসপাতালে রক্তের অভাব এবং রোগীর ভিড়ের কারণে আরও অনেকে প্রাণ হারাচ্ছেন। সরকারি দমননীতি এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার অভাব একত্রে পরিস্থিতিকে আরও মারাত্মক করে তুলেছে।
তথ্যপ্রবাহ ও যোগাযোগের নিয়ন্ত্রণ (Iran Crackdown)
গণবিক্ষোভকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরানে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এলন মাস্কের স্টারলিঙ্কের মাধ্যমে কিছু মানুষ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে সক্ষম হয়েছেন। এর মাধ্যমে বিক্ষোভের ভয়াবহ চিত্র ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকৃষ্ট হচ্ছে।

আরও পড়ুন: Narendra Modi: মোদির সিঙ্গুর সভা কি ছাব্বিশের ভোটের টার্নিং পয়েন্ট!
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ইরানের মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই রিপোর্ট বিশ্ব সম্প্রদায়কে উদ্বিগ্ন করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং সংবাদমাধ্যম সরকারের দমননীতি নিয়ে সমালোচনা করছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ইরানের কট্টরপন্থী শাসকের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে।



