Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতীয় জনতা পার্টির সংগঠন রাজনীতিতে মঙ্গলবার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হল (Nitin Nabin)। দীর্ঘদিন সর্বভারতীয় সভাপতি পদে থাকা জেপি নাড্ডার স্থলাভিষিক্ত হলেন বর্ষীয়ান অথচ তুলনামূলকভাবে তরুণ নেতা নীতিন নবীন। দলের সদর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে এই ঘোষণা শুধু একটি সাংগঠনিক রদবদল নয়, বরং বিজেপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখার স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবেই ধরা হচ্ছে। ৪৫ বছর বয়সি নীতিন নবীনের হাতে দলের সর্বোচ্চ সাংগঠনিক দায়িত্ব তুলে দিয়ে বিজেপি কার্যত প্রজন্মগত পরিবর্তনের বার্তা দিল যেখানে অভিজ্ঞতা ও তরুণ নেতৃত্বের মেলবন্ধনই আগামী দিনের কৌশল।

কেন নীতিন নবীন? (Nitin Nabin)
দলীয় সূত্র ও নীতিন নবীনের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করা নেতাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে তাঁর রাজনৈতিক চরিত্রের কয়েকটি মৌলিক দিক। তাঁকে পরিশ্রমী, সংগঠনমুখী এবং ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার ঊর্ধ্বে উঠে ‘পার্টি ফার্স্ট’ নীতিতে বিশ্বাসী নেতা হিসেবেই দেখা হয়। মাঠে নেমে কাজ করা, কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখা এবং নেতৃত্ব ও তৃণমূলের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলাই তাঁর রাজনৈতিক শক্তি। সহজলভ্যতা ও সমন্বয়ের রাজনীতিতে বিশ্বাস এই দুই গুণই তাঁকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।
২০২৯-এর লক্ষ্যেই সংগঠনের পুনর্গঠন (Nitin Nabin)
নীতিন নবীনের নিয়োগের সময়কাল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সামনে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, অসম, উত্তরপ্রদেশ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন এবং তার পরেই ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন। এই পরিস্থিতিতে সংগঠনের ভিত আরও মজবুত করা বিজেপির কাছে সর্বাধিক অগ্রাধিকার। জাতীয় সভাপতির ভূমিকায় নীতিন নবীনের দায়িত্ব হবে বুথ স্তর থেকে জাতীয় স্তর পর্যন্ত সংগঠনকে একই সুরে বাঁধা। বিজেপির অন্দরমহলের মতে, আগামী দিনে প্রচার ও নির্বাচনী কৌশলের চেয়ে সংগঠন পরিচালনাই হবে তাঁর প্রধান ফোকাস।
সাফল্যের পরীক্ষিত নকশা (Nitin Nabin)
নীতিন নবীনের রাজনৈতিক দক্ষতার বড় প্রমাণ হিসেবে বারবার উঠে আসে ২০২৩ সালের ছত্তিশগড় বিধানসভা নির্বাচন। ভূপেশ বাঘেলের নেতৃত্বে কংগ্রেস সেখানে শক্ত ভিত গড়ে তুলেছিল এবং প্রায় সব সমীক্ষাই কংগ্রেসের জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিল। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতে বিজেপির প্রচারের দায়িত্ব পেয়ে নীতিন নবীন সংগঠনের পুনর্গঠন, বুথ স্তরের সমন্বয় এবং তৃণমূল পর্যায়ে পরিকল্পিত কাজের মাধ্যমে চমকপ্রদ সাফল্য এনে দেন। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিজেপি, যা তাঁর সাংগঠনিক ক্ষমতাকে জাতীয় স্তরে প্রতিষ্ঠিত করে।
আরও পড়ুন: Mumbai: মুম্বইয়ে ফের রিসর্ট রাজনীতি: বিএমসি জিততে প্রতিনিধিদের পাঁচতারা হোটেলে পাঠাল শিন্ডে শিবসেনা
কংগ্রেসের সঙ্গে তুলনা
নীতিন নবীনের নিয়োগকে কংগ্রেসের বর্তমান নেতৃত্ব কাঠামোর সঙ্গে তুলনা করে দেখছেন অনেকেই। যেখানে বিজেপি ৪৫ বছর বয়সি নেতাকে জাতীয় সভাপতির দায়িত্ব দিচ্ছে, সেখানে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি পদে রয়েছেন ৮৪ বছর বয়সি মল্লিকার্জুন খাড়গে। এই তুলনাই বিজেপির রাজনৈতিক বয়ানে ‘পরিবর্তন বনাম স্থবিরতা’ তত্ত্বকে আরও জোরালো করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।



