Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শিশুদের জীবন নিয়ে কি ছেলেখেলা চলছে গ্রামীণ চিকিৎসকদের একাংশের হাতে? পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সুলতানপুর এলাকার সাম্প্রতিক ঘটনাটি ফের সেই বড় প্রশ্ন তুলে দিল। জ্বরে আক্রান্ত এক শিশুকে ভুল এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ (Expired Medicine) দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠল এক গ্রামীণ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ওই চিকিৎসকের ক্লিনিকে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।
জ্বর ও পেটের যন্ত্রণায় ভুগছিল শিশু
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুলতানপুরের বাসিন্দা অপর্ণা জানার ৭ বছরের পুত্র সুরোজ গত কয়েকদিন ধরে প্রবল জ্বর ও পেটের যন্ত্রণায় ভুগছিল। ছেলেকে সুস্থ করতে অপর্ণা স্থানীয় গ্রামীণ চিকিৎসক তিলক পাত্রের কাছে যান। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কিছু ওষুধ লিখে দেন এবং নিজের চেম্বার থেকেই সেই ওষুধগুলি পরিবারের হাতে তুলে দেন। বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যরা সরল বিশ্বাসে সেই ওষুধ শিশুকে খাইয়ে দেন।
প্রতিটি ওষুধই মেয়াদ উত্তীর্ণ! (Expired Medicine)
ওষুধ খাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। সন্দেহ হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা ওষুধের ফয়েল ও শিশিগুলি ভালো করে পরীক্ষা করেন। দেখা যায়, দেওয়া প্রতিটি ওষুধই ছিল মেয়াদ উত্তীর্ণ (Expired Medicine)। ক্ষুব্ধ পরিবারের সদস্যরা অবিলম্বে ওই চিকিৎসকের চেম্বারে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। অভিযোগ, ভুল স্বীকার করার বদলে অভিযুক্ত চিকিৎসক তিলক পাত্র মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধগুলো কেড়ে নিয়ে দূরে ছুড়ে ফেলে দেন এবং তড়িঘড়ি নতুন ওষুধ দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
আরও পড়ুন: Howrah Station: হাওড়া স্টেশন চত্বরে উচ্ছেদ অভিযান, রাতভর চলল বুলডোজার
চিকিৎসকের এই ঔদ্ধত্য এবং প্রমাণ লোপাটের চেষ্টায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে উত্তেজিত জনতা। পরিবারের দাবি, “চিকিৎসকের এই গাফিলতিতে যদি শিশুটির প্রাণহানি ঘটত, তবে তার দায় কে নিত?” বিক্ষোভের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় থানার পুলিশ। জনরোষ থেকে বাঁচাতে চিকিৎসককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং তার চিকিৎসা কেন্দ্রে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে (Expired Medicine)। স্থানীয়রা ওই চিকিৎসকের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


