Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রবিবার আজ বাঙালির শুধুই সান-ডে নয় আজ ‘ডার্বি’-ডে। ঐতিহ্যের এই লড়াইয়ে মুখোমুখি দুই প্রধান (Kolkata Derby)। টিফোয় টুটু বসু ও পল্টু দাসকে এই মহারণের আগে শ্রদ্ধা জানায় মোহনবাগান।
ড্র কলকাতা ডার্বি (Kolkata Derby)
ঐতিহাসিক যেকোন ম্যাচের আগে ইতিহাস ছুঁয়ে দেখার লোভ মানুষের চিরন্তন আর সেই কারণেই শুরুতে একটু ইতিহাসের স্মরণ নেওয়া। বর্তমানে যেকোন বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে যে শব্দ বারবার কানে বাজে সেটা হল ডার্বি। ফুটবল থেকে ক্রিকেট, সব জায়গায় যেন এই শব্দের অবাধ বিচরণ। এমনকি বাদ নেই আইপিএল-ও। তবে কলকাতার মানুষ আকছার যে ম্যাচের আগে এই ‘ডার্বি’ শব্দটা ব্যবহার করে থাকেন সেটা হল দশক প্রাচীন ইস্টবেঙ্গল–মোহনবাগান দ্বৈরথ। এছাড়াও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড–ম্যানচেস্টার সিটি, ইন্টার মিলান–এসি মিলান, এই দলগুলির ম্যাচের আগেও এই পরিচিত শব্দ ব্যবহার করা হয়। ‘ডার্বি’ মানেই টানটান উত্তেজনা আর এক বুক আবেগের বিস্ফোরণ। যেখানে ময়দানের লড়াই ‘ইন্ডিয়ানা জোন্স-এর’ রুদ্ধশ্বাস অ্যাডভেঞ্চারের থেকে কোনও অংশে কম না (Kolkata Derby)।
তবে রবিবারের ছুটির আমেজে যে ম্যাচ উত্তেজনার হাওয়া দিয়েছে সেই ম্যাচের কথায় ঢোকার আগে এই ‘ডার্বি’ শব্দের ব্যুৎপত্তি একটি জেনে নেবো। ইতিহাস বলছে এই পরিচিত শব্দ জন্ম হয় আঠেরো শতকে, ইংল্যান্ড শহরে। ১৭৮০ সালে এডওয়ার্ড স্মিথ-স্ট্যানলি, দ্বাদশ আর্ল অব ডার্বি, ইংল্যান্ডের ইপসামে শুরু করলেন এক ঘোড়দৌড় আর তার নাম ছিল ‘ইপসাম ডার্বি’। সেখান থেকেই কালক্রমে এই শব্দ জায়গা করে নিয়েছে যেকোন সম্মানরক্ষার ম্যাচের আগে। ‘ডার্বি’ বলতেই মানুষ বুঝতে শুরু করে মর্যাদাপূর্ণ, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই।
তবে এই শব্দের সঙ্গে ভারতের পরিচয় কিন্তু হয় কলকাতার ময়দানে। হ্যাঁ, ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগানের ম্যাচে। আর এই দুই প্রধানের ম্যাচ এই শব্দকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। প্রথম এই দুই দলের দ্বৈরথ ২৮ মে ১৯২৫, কলকাতা ফুটবল লিগে। যে ম্যাচে মোহনবাগান ১-০ গোলে ম্যাচ জিতে নেয়। একদিকে স্বাধীনতার স্বাদ আর অন্যদিকে দেশভাগের ক্ষত, সেই সময়ে এই দুইয়ের মিশেলে কলকাতার ময়দানে যে ঝাঁঝ তৈরি হয়েছিল আজ সেই ঝাঁঝই যেন এই মহারণের প্রতীক (Kolkata Derby)।
আরও পড়ুন: CBSE Syllabus: সিবিএসই-র সিলেবাসে বড় পরিবর্তন, নবম-দশমে বাধ্যতামূলক ৩ ভাষা
রবিবার যেমন বাঙালির ছুটির আমেজ তেমন আজ ‘ডার্বি’-ডে। ঐতিহ্যের এই ম্যাচে আজ ময়দানে মুখোমুখি হয় দুই দল। সেই সময় গ্যালারিতে কান পাতা দায়। লাল-হলুদ সমর্থকরা যেমন হুঙ্কার ছাড়ছেন তেমন তার পাল্টা হুঙ্কার ছাড়ছেন সবুজ-মেরুন সমর্থকরা। রেফারির বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে যখন খেলা শুরু হয় তখন সেই উত্তেজনা যেন আকাশ ছুঁয়েছে। ছবিটা এমনই তো হওয়ার কথা ছিল আর এমনই হল তবু বারবার যেন এক অজানা মনখারাপ গ্রাস করছিল ময়দানের উত্তেজনাকে। ‘মোহনবাগান রত্ন’ টুটু বসুর প্রয়াণ যে এক অদ্ভুত শূন্যতা তৈরি করেছে (Kolkata Derby)।
আইএসএল-এর প্রথম ডার্বি দেখতে মাঠে হাজির ছিলেন হেভিওয়েটরা। এই মহারণ দেখতে মাঠে এলেন রাজ্যের নতুন ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। এছাড়াও ছিলেন সঞ্জীব গোয়েঙ্কা, কল্যাণ চৌবে। চমক ছিল এই দিন, খেলা দেখতে মাঠে হাজির ছিলেন নিউ জিল্যান্ড তারকা কেন উইলিয়ামসন।
ইস্টবেঙ্গল চোট আঘাতের সমস্যা নিয়ে মাঠে নামে এই মহারণে। কার্ড সমস্যার কারণে এই ম্যাচে ছিলেন না সৌভিক চক্রবর্তী। আগেই ছিটকে গিয়েছিলেন নওরেম সিং। অন্যদিকে সবুজ মেরুনের এমন কোনও সমস্যা নেই। প্রথম একাদশে এজেজারির না থাকাটা কিছুটা বিস্মিত করেছে সমর্থকদের।
ম্যাচ শুরুর প্রথম থেকেই বিপক্ষকে চাপে রাখার রণকৌশল নিয়ে খেলা শুরু করে সবুজ মেরুন ব্রিগেড। তবে পাল্টা আক্রমণে ওঠেন ইস্টবেঙ্গলের পিভি বিষ্ণু। তবে বিপক্ষের ডিফেন্সে আটকে যান বিষ্ণু (Kolkata Derby)।
প্রথমার্ধের বিচারে ইস্টবেঙ্গল শুরুটা ধীরে করলে প্রত্যাবর্তন খুব ভাল ভাবে করে তবে নিশ্চিত তিনটি সুযোগও হাতছাড়া করেন আন্তন সয়বার্গ, বিপিন সিং ও পিভি বিষ্ণু। অন্যদিকে সবুজ মেরুন ব্রিগেডের হয়ে মনবীর সিং, সাহল আব্দুল সামাদ কয়েকটা সুযোগ তৈরি করলেও গোল হয়নি। প্রথমার্ধ থাকে গোল শূন্য (Kolkata Derby)।
৬৩ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের জোড়া বদল করেন অস্কার। মাঠে নামলেন এডমুন্ড পিভি বিষ্ণুর জায়গায়। আন্তনকে তুলে নামানো হলো ইউসেফ এজেজারিকে। এরপর খেলার গতি বাড়ান ইস্টবেঙ্গল প্লেয়াররা। ক্রমাগত আক্রমণ শানাতে থাকে লাল হলুদ ব্রিগেড।
অবশেষে এডমুন্ডের গোলে এগিয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল। গ্যালারিতে তখম উৎসব। এজেজারির বাড়ানো বল মিগুয়েল পাস দেন এডমুন্ডকে আর সেই বল জালে জড়িয়ে দিতে কোনও ভুল করেননি এই তারকা।
তবে এই উৎসব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৯০মিনিটের মাথায় দিমিত্রি পেত্রাতোসের কর্নার থেকে বল পান জেসন কামিন্স। তিনি বলটা পেয়ে ব্যাক হেডে অসাধারণ গোল করে ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনেন। অতিরিক্ত ৭ মিনিট যোগ হলেও আর কোনও গোল আসেনি। কলকাতার ডার্বি ড্র। নিজেদের রেকর্ড ধরে রাখল মোহনবাগান আর অনেক সুযোগ মিসের খেসারত দিয়ে নতুন রেকর্ড লেখা হল না ইস্টবেঙ্গলের।
তবে আজ এই টানটান ম্যাচেও যেন ময়দান ভারাক্রান্ত। কারণ তাঁরা হারিয়েছেন সদ্য তাঁদের বটবৃক্ষ, মোহনবাগান রত্ন টুটু বসুকে। যার কাছে মোহনবাগান ছিল জীবনের আরেক নাম (Kolkata Derby)। তাঁর অভিধানে ‘ম’ মানেই মোহনবাগান আর মোহনবাগান মানেই ‘ম’। ‘ডার্বি’ তাঁর কাছে আবেগ ছিল, এর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে কত কান্না, হাসি, আবেগ। আজ তিনি এই ময়দানে না থেকেও যেন থেকে গেলেন রাজার মত আর দূরে কোথাও সেই পরিচিত কণ্ঠে বলে গেলেন ‘The Show Must Go On’.


