Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতীয় শেয়ার বাজারে টানা পতনের পেছনে একাধিক আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্যাক্টর রয়েছে বলেই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা (Stock Market)।
টানা পতনের কবলে দালাল স্ট্রিট (Stock Market)
সপ্তাহের প্রথম ট্রেডিং সেশনেই পতনের কবলে দেশের শেয়ার মার্কেট। শেষ ক্লোজিংয়ের থেকে লোয়ার পয়েন্টে ওপেনিং হয়েছিল দুই ইনডেক্সের। বেলা গড়ানোর সাথে পতনও বাড়তে থাকে। বাজার বন্ধের আগে যদিও কিছুটা সামলে নেয় সেনসেক্স ও নিফটি৫০। সপ্তাহের শুরুতে এই পতনের জেরে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে লিস্টেট সংস্থাগুলির ২.৪২ লক্ষ কোটি টাকা ভ্যালুয়েশন কমেছে (Stock Market)।
সোমবারের ট্রেডিং সেশনে সেনসেক্স ৬২৯ পয়েন্ট পর্যন্ত নেমেছিল। তবে মার্কেট বন্ধের সময় বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক রয়েছে ৮৩ হাজার ২৪৬ পয়েন্টে। একই ছবি দেখা গিয়েছে নিফটি৫০-তে। সোমবারের ট্রেডিং সেশনে এই সূচক নেমেছিল ২৫ হাজার ৫৮৫ পয়েন্টে নীচে। তবে বাজার বন্ধের আগে কিছুটা হলেও এই ছবি পাল্টায়। দুই বেঞ্চমার্ক ইনডেক্সের পাশাপাশি মিড ক্যাপ ও স্মল ক্যাপ সূচকও ডাউন ছিল। বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে মিড ক্যাপ ও স্মল ক্যাপ সূচকের পয়েন্ট কমেছে যথাক্রমে ০.৪৩ শতাংশ এবং ১.২৮ শতাংশ। এর পাশাপাশি অধিকাংশ সেক্টরাল ইনডেক্সেরর পয়েন্ট কমেছে সোমবারের ট্রেডিংয়ে।
পতনের পিছনে একাধিক কারণকে চিহ্নিত করেছেন এক্সপার্টরা
ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপের আটটি দেশের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেছেন। সেই শুল্কের পরিমাণ ১০ শতাংশ। ১ জুন থেকে এই শুল্ক বেড়ে হবে ২৫ শতাংশ এবং ‘গ্রিনল্যান্ডের সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তি’ না হওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে বলে জানান তিনি। যার প্রভাব পড়েছে বিশ্ব শেয়ার বাজারের (Stock Market)।
ফিনানশিয়াল রিপোর্টে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: চলতি অর্থবর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ভারতের কর্পোরেট সংস্থাগুলির মিক্সড ফিনানশিয়াল রিপোর্টে সামনে আসার পর থেকেই দেশের শেয়ার মার্কেটে ঋণাত্মক প্রভাব পড়েছে। বাজারের প্রত্যাশা ছিল শক্তিশালী বৃদ্ধি কিন্তু আইটি ও ব্যাঙ্কিংয়ের মতো হেভিওয়েট সেক্টরে খুব বড় বৃদ্ধি দেখা যায়নি। আমেরিকার শুল্ক হুমকি ও ভূ-রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যে এই দুর্বল ফিনানশিয়াল রিপোর্ট আরও চাপের মুখে এনে দাঁড় করিয়েছে শেয়ার মার্কেটকে।
বিদেশি লগ্নি বেরিয়ে যাওয়া: বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক লগ্নিকারীদের লাগাতার লগ্নি সরানো শেয়ার বাজারের উপর বড় চাপ তৈরি করেছে। জানুয়ারি মাসে এখনও পর্যন্ত ক্যাশ সেগমেন্টে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি শেয়ার বিক্রি করেছেন ফরেন ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টররা।

আরও পড়ুন: Netanyahu Warns Iran: ইরান–ইজরায়েল উত্তেজনা সীমা ছাড়াবে
বাজেটের আগে সতর্ক মনোভাব: ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশ করবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। সেটা নিয়ে লগ্নিকারীদের মধ্যে দেখা গিয়েছে সতর্ক মনোভাব। সরকারি ব্যয় অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পিছনে বড় শক্তি কিন্তু এই অনিশ্চিয়তার বাজার স্টক মার্কেটের উপর প্রেসার তৈরি করেছে (Stock Market)।
(শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ সংক্রান্ত কোনও মত আমাদের নেই, এই লেখাটা শুধু তথ্যের জন্য। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ একটি ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়। এতে আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে তাই বিনিয়োগ করার আগে মার্কেট সম্পর্কে ভাল করে জেনে নেওয়া দরকার। তাছাড়াও বিনিয়োগের আগে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।)


