Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মধ্যপ্রদেশের ভোপাল শহরে ঘটে যাওয়া গোরক্ষা-বিরোধী এই ঘটনা দেশব্যাপী শোরগোল সৃষ্টি করেছে (Madhya Pradesh)। রাজ্যটি যেখানে ২০০৪ সাল থেকে গোরক্ষা আইন কঠোরভাবে প্রযোজ্য এবং বর্তমানে ২০২৪-২৫ সালে গোরক্ষা বছর পালন করছে, সেখানে রাজধানী সচিবালয়ের নাকের ডগায় ২৬০টিরও বেশি গরু হত্যার অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে।

কষাইখানায় ধনাঢ্য কনটেইনারের রহস্য (Madhya Pradesh)
সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর ভোপালে এক হিন্দু সংগঠন ২৬.৫ টন মাংস সহ একটি কনটেইনার বাজেয়াপ্ত করে (Madhya Pradesh)। স্থানীয় প্রশাসনের প্রাথমিক দাবি ছিল, মাংসটি মহিষের। রাজ্য সরকারের নিয়ম অনুযায়ী ওই কষাইখানায় সর্বাধিক ৮৫টি মহিষ জবাই করার অনুমতি রয়েছে, যার ফলে অনুমোদিত মাংসের পরিমাণ হতে পারত সর্বোচ্চ ১২.৭৫ টন। কিন্তু বাজেয়াপ্ত মাংসের পরিমাণ ছিল দ্বিগুণেরও বেশি। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রথমে মাংসটি মহিষের মাংস বললেও, পরে তিনজন সরকারি ডাক্তার ও পশুচিকিৎসকদের দল এটি মহিষের মাংস ঘোষণা করে কনটেইনারটি ছাড়িয়ে দেয়। এক সপ্তাহের মধ্যে, মথুরার এক ল্যাব পরীক্ষায় দেখা যায়, মাংসটি গোমাংস। কিন্তু ততক্ষণে কনটেইনার মুম্বই পৌঁছে গিয়েছে এবং বিদেশে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারি (Madhya Pradesh)
এই ঘটনায় পুলিশ কষাইখানার পরিচালক আসলাম কুরেশি এবং এক গাড়ি চালককে গ্রেপ্তার করে। তবে, জিজ্ঞাসাবাদের পরিবর্তে তাদের সরাসরি জেল হেফাজতে পাঠানো হয়। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি অভিযোগ করছে, এটি কেবল লোক দেখানো গ্রেপ্তারি, প্রকৃতপক্ষে গো-হত্যা ও পাচারের একটি বৃহৎ চক্রকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী, কষাইখানায় ৪ থেকে ৮ বছর বয়সী সুস্থ, দুগ্ধবতী গাভী জবাই করা হচ্ছিল, যা আইনত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়াও অভিযোগ আছে, মৃত পশু সংগ্রহের জন্য ভোপাল পুরসভা ও কষাইখানার মধ্যে চুক্তি রয়েছে, যা অবৈধভাবে গরু পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
আরও পড়ুন: Indo UAE: সংক্ষিপ্ত ভারত সফরে আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট, উষ্ণ অভ্যর্থনা প্রধানমন্ত্রীর
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনার প্রতিবাদে মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেস সরব হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জিতু পাটোয়ারি বলেছেন, “একদিকে সরকার গো-সেবার ভিডিও প্রকাশ করছে, অন্যদিকে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে গো-হত্যা চলছে।” তিনি আরও প্রশ্ন তুলেছেন, কেন কষাইখনার সিসিটিভি ফুটেজ বাজেয়াপ্ত করা হয়নি? কেন ডিএনএ পরীক্ষা তাড়াহুড়ো করে চালানো হচ্ছে না? এছাড়াও প্রশ্ন উঠেছে, এই অপরাধ কি দুজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে একটি বড় চক্র, এবং কাকে বা কাদের রক্ষা করতে এত মরিয়া হয়ে উঠেছে পুলিশের পদক্ষেপ।



