Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মুঘল স্থাপত্যের ইতিহাসে এক অনন্য (Taj Mahal) বিস্ময় হলো তাজমহল। ভালোবাসার স্মারক হিসেবে পরিচিত এই সৌধটি শুধু আবেগের নয়, ব্যয়ের নিরিখেও মুঘল আমলের সবচেয়ে মূল্যবান নির্মাণ হিসেবে ধরা হয়। সম্রাট শাহজাহান তাঁর প্রিয় স্ত্রী মমতাজ মহলের স্মৃতিতে এই সমাধিসৌধ নির্মাণের নির্দেশ দেন, যা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হয়ে ওঠে স্থাপত্যকলার চরম নিদর্শন।
তাজমহলের নকশা তৈরি (Taj Mahal)
তাজমহলের নকশা তৈরি করেছিলেন শাহজাহানের প্রধান (Taj Mahal) স্থপতি ওস্তাদ আহমেদ লাহৌরি। ইন্দো-ইসলামিক, পারস্য ও তুর্কি স্থাপত্যরীতির অপূর্ব মেলবন্ধনে তৈরি এই সৌধ আজও বিশ্ববাসীকে মুগ্ধ করে। বিশাল সাদা গম্বুজ, সুসজ্জিত মিনার, নিখুঁত প্রতিসাম্য-সব মিলিয়ে এটি নিছক একটি সমাধি নয়, বরং এক জীবন্ত শিল্পকর্ম। এই সৌধের কেন্দ্রীয় গম্বুজটির উচ্চতা প্রায় ৭৩ মিটার। চারটি মিনার সামান্য বাইরে দিকে হেলে নির্মাণ করা হয়েছিল, যাতে ভবিষ্যতে কোনও ভূমিকম্প হলে মূল সমাধির উপর ধসে না পড়ে। সেই সময়কার প্রকৌশল জ্ঞান যে কতটা উন্নত ছিল, তা এখান থেকেই স্পষ্ট।

ব্যয়বহুল দিক (Taj Mahal)
তাজমহলের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দিক ছিল (Taj Mahal) এর নির্মাণসামগ্রী। পুরো কাঠামোটি তৈরি করা হয় রাজস্থানের মাকরানা থেকে আনা উন্নতমানের সাদা মার্বেল দিয়ে। এর পাশাপাশি, সৌন্দর্য বাড়াতে ব্যবহার করা হয় প্রায় ২৮ ধরনের মূল্যবান ও আধা-মূল্যবান পাথর। ফিরোজা আনা হয়েছিল তিব্বত থেকে, ল্যাপিস লাজুলি এসেছে আফগানিস্তান থেকে, চিন থেকে জেড ও ক্রিস্টাল এবং শ্রীলঙ্কা থেকে নীলা। এত দূর-দূরান্ত থেকে পাথর আনার খরচই ছিল বিপুল।
আরও পড়ুন: Fatty Liver: ফ্যাটি লিভার থেকে ক্যান্সারের সম্ভাবনা?
২০ হাজার কারিগর, শিল্পী
এই বিশাল প্রকল্পে প্রায় ২০ হাজার কারিগর, শিল্পী, ক্যালিগ্রাফার ও রাজমিস্ত্রি দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করেছিলেন। ভারী পাথর পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল হাজারের বেশি হাতি। শ্রমিকদের থাকার জন্য তৈরি হয়েছিল অস্থায়ী বসতি, যা প্রকল্পের খরচ আরও বাড়িয়ে দেয়। যমুনা নদীর তীরে নির্মিত হওয়ার কারণে তাজমহলের ভিত্তি ছিল বিশেষভাবে জটিল। মাটি শক্ত করতে কূপ, কাঠ ও বিশেষ ইটের ভারা ব্যবহার করা হয়। বাঁশের বদলে ইটের ভারা ব্যবহার করাও সেই সময়ের এক অভিনব সিদ্ধান্ত ছিল।

তাজমহল নির্মাণে ব্যয়
ইতিহাসবিদদের মতে, তাজমহল নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৩২ মিলিয়ন মুঘল রুপি। আধুনিক মুদ্রামানের হিসেবে এই অঙ্ক কয়েক হাজার কোটি টাকার সমান। ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো তাজমহলকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের স্বীকৃতি দেয়। শতাব্দী পেরিয়েও তাজমহল আজও প্রমাণ করে-মুঘলদের স্থাপত্য শুধু সৌন্দর্যের নয়, ব্যয়ের দিক থেকেও ছিল অতুলনীয়।


