Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জ্ঞানবাপী মামলার রেশ এখনও দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে (Saraswati Puja 2026)। তার মধ্যেই ফের শিরোনামে উঠে এল মধ্যপ্রদেশের ধার শহরের বহুচর্চিত ভোজশালা। শতাব্দীপ্রাচীন এই বিতর্কিত সৌধকে কেন্দ্র করে হিন্দু ও মুসলিম দু’পক্ষের ধর্মীয় দাবি দীর্ঘদিনের। সেই আবহেই বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত, সুপ্রিম কোর্ট।

জুম্মার নমাজের অনুমতি (Saraswati Puja 2026)
সূত্রের খবর, আগামী শুক্রবার একই দিনে পড়েছে বসন্ত পঞ্চমী (Saraswati Puja 2026) ও জুম্মার নমাজ। এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য অশান্তি এড়াতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, নির্দিষ্ট সময় ও নির্দিষ্ট স্থানে দুই সম্প্রদায়ই নিজেদের ধর্মীয় উপাসনা করতে পারবেন ভোজশালার চত্বরে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দুপুর ১টা থেকে ৩টে পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট অংশে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ জুম্মার নমাজ আদায় করবেন। নির্ধারিত সময় শেষ হলেই তাঁরা ওই বিতর্কিত স্থান ত্যাগ করবেন। একই ভাবে, সরস্বতী পুজোর অনুষ্ঠান শেষ হলে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদেরও ভোজশালার চত্বর ছেড়ে চলে যেতে হবে।

প্রশাসনের উপর বাড়তি দায়িত্ব (Saraswati Puja 2026)
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, এই নির্দেশ কার্যকর করতে সমস্ত রকম উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে স্থানীয় প্রশাসনকে। সূত্রের খবর, শান্তিপূর্ণভাবে দুই ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা যাতে কোনওভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে দিকেই প্রশাসনের বিশেষ নজর থাকবে।
ভোজশালা বিতর্কের ঐতিহাসিক পটভূমি (Saraswati Puja 2026)
মধ্যপ্রদেশের ধার শহরে অবস্থিত ভোজশালা একটি হাজার বছরের পুরোনো সৌধ বলে দাবি করা হয়। মুসলিম সম্প্রদায়ের মতে, এটি একটি প্রাচীন মসজিদ। অন্যদিকে হিন্দুদের দাবি, এই সৌধটি রাজা ভোজ নির্মিত সরস্বতী মন্দির। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সপ্তাহের নির্দিষ্ট দু’দিন দুই ধর্মের মানুষই এখানে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার পালন করেন। তবে বাকি দিনগুলিতে সাধারণ প্রবেশাধিকার থাকলেও পুজো বা নমাজ আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয় না।
নিয়ম বদলের দাবি ও আদালতের দ্বারস্থ হওয়া (Saraswati Puja 2026)
সূত্রের খবর, এই নিয়মের পরিবর্তন চেয়ে ২০২২ সালে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। হিন্দু পক্ষের আইনজীবী হরিশংকর জৈন আদালতে দাবি করেন, ২০০৩ সালের একটি সরকারি নোটিসের মাধ্যমে মুসলিমদের ভোজশালায় নমাজের অধিকার দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁদের বক্তব্য, প্রকৃতপক্ষে এটি একটি হিন্দু মন্দির এবং সেখানে শুধুমাত্র হিন্দুদের উপাসনার অনুমতি দেওয়া উচিত।

এএসআই সমীক্ষা ও নতুন বিতর্ক
বিতর্ক চরমে উঠতেই আদালতের নির্দেশে ভোজশালায় বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা চালায় ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া বা এএসআই)। সদ্য প্রকাশিত সেই রিপোর্ট নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। সূত্রের খবর, এএসআই-এর সমীক্ষায় ভোজশালার চত্বরে একাধিক ঐতিহাসিক নিদর্শনের পাশাপাশি ৯৪টি মূর্তি উদ্ধার হয়েছে। এর পরই হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির তরফে দাবি করা হয়, ভোজশালার জমির নিচে হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি এবং মন্দিরের অস্তিত্বের প্রমাণ মিলেছে।



