Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে প্রস্তাবিত (India EU Deal) মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি ঘিরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। এই চুক্তিকে ঘিরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই। ‘ইন্ডিয়া এনার্জি উইক ২০২৬’-এর মঞ্চ থেকে তিনি জানান, এই সমঝোতা শুধু একটি বাণিজ্যিক চুক্তি নয়, বরং দুই মহাদেশের মানুষের জন্য ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দেবে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, এই চুক্তি ভারতের বিপুল জনসংখ্যা এবং ইউরোপের দেশগুলির কোটি কোটি নাগরিকের অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়াবে।
নতুন খাতে গতি, সম্পর্ক হবে দৃঢ় (India EU Deal)
মোদির মতে, এই এফটিএ কার্যকর হলে ভারতের উৎপাদন (India EU Deal) ক্ষেত্র, শিল্প এবং সংশ্লিষ্ট পরিষেবা খাতে নতুন গতি আসবে। একই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে, যার প্রভাব পড়বে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক আস্থার উপরও। সম্প্রতি ইউরোপীয় কমিশনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর বৈঠকে এই চুক্তির নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকের পর ভারতীয় বাণিজ্য দফতরও ইঙ্গিত দিয়েছে যে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

প্রজাতন্ত্র দিবসের বিশেষ অতিথি (India EU Deal)
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতৃত্ব এ বছর (India EU Deal) ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেই সময়ই ইঙ্গিত মিলেছিল যে বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যেই এই সফর। ইউরোপীয় নেতাদের বক্তব্যেও উঠে এসেছে, একটি শক্তিশালী ভারত বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
প্রায় বিনা শুল্কে রফতানির সুযোগ
চুক্তি কার্যকর হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশে ভারতের বিপুল পরিমাণ পণ্য প্রায় বিনা শুল্কে রফতানির সুযোগ পাবে। একইভাবে ইউরোপের পণ্য ভারতীয় বাজারে আরও সহজে প্রবেশ করতে পারবে। এতে দুই পক্ষের প্রায় ১৯০ কোটি ভোক্তা সরাসরি উপকৃত হবেন। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে চলতি বছরের শেষ দিকে বা আগামী বছরের শুরুতেই এই ঐতিহাসিক চুক্তি বাস্তবায়িত হতে পারে। তাই অনেকেই একে ভারতের বাণিজ্য ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী অধ্যায় বলে মনে করছেন।

“মাদার অফ অল ডিলস”
চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে বলেন, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে এমন এক সমঝোতা সৃষ্টি হয়েছে, যাকে বিশ্বজুড়ে “মাদার অফ অল ডিলস” বলা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, এই চুক্তি শুধু দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নয়, বরং বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির মধ্যে এক অনন্য অংশীদারিত্বের নিদর্শন। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, এই চুক্তির আওতায় বিশ্ব মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের প্রায় ২৫ শতাংশ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধিত্ব করবে, যা আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

আরও পড়ুন: FIFA World Cup Boycott: ট্রাম্প জমানায় নিরাপত্তা সংশয়, আমেরিকায় বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক
একই সঙ্গে কূটনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, ভারত-ইইউ এই ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক জোটের ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য রাজনীতিতে আমেরিকা কার্যত কিছুটা কোণঠাসা হতে পারে। কারণ, ইউরোপের সঙ্গে ভারতের সরাসরি ও শুল্কমুক্ত বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে উঠলে বহু ক্ষেত্রেই আমেরিকার উপর নির্ভরতা কমবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি ভবিষ্যতে বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।


