Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নেমে এসেছে গভীর শোক। জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি)-র প্রধান ও মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার আর নেই। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে মুম্বই থেকে বারামতির উদ্দেশে রওনা দেওয়া একটি বেসরকারি বিমানের দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। বিমানটিতে মোট পাঁচজন ছিলেন, যার মধ্যে কেউই বেঁচে নেই বলে জানিয়েছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA) (Ajit Pawar)।
‘মানুষের নেতা অজিত পওয়ার’ (Ajit Pawar)
লিয়ারজেট ৪৫ বিমানটি বারামতি বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বিমানে অজিত পওয়ার ছাড়াও ছিলেন তাঁর পিএসও, একজন সহকারী এবং দুই ক্রু সদস্য পাইলট ও ফার্স্ট অফিসার। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অজিত পাওয়ারকে “মাটির কাছাকাছি থাকা, মানুষের নেতা” হিসেবে স্মরণ করেন।
অল্প বয়সেই রাজনীতিতে পা (Ajit Pawar)
১৯৫৯ সালের ২২ জুলাই আহমেদনগর জেলার দেওলালি প্রবরা গ্রামে জন্ম অজিত পওয়ারের। কৃষিভিত্তিক সমাজে বড় হওয়ায় রাজ্যের কৃষক ও গ্রামীণ সমস্যার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে ওঠে। রাজনীতি ছিল তাঁর রক্তে এনসিপি প্রতিষ্ঠাতা শরদ পাওয়ারের ভ্রাতুষ্পুত্র অজিত পওয়ার অল্প বয়সেই রাজনীতিতে পা রাখেন।
একাধিকবার বিধায়ক নির্বাচিত (Ajit Pawar)
১৯৯১ সালে বারামতি থেকে প্রথম লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হলেও পরে রাজ্য রাজনীতিতে মনোনিবেশ করেন। ১৯৯৫ সাল থেকে একাধিকবার বিধায়ক নির্বাচিত হন এবং সেচ, বিদ্যুৎ, অর্থ, গ্রামোন্নয়ন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব সামলান। ২০১০ সালে প্রথমবার মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হন অজিত পওয়ার। মহারাষ্ট্রের রাজনীতিকে দশকের পর দশক ধরে নানা পরিবর্তনের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিলেন পওয়ার। ভালবেসে তাঁকে মারাঠা রাজনীতির দাদা বলে ডাকা হত।
আরও পড়ুন: Ajit Pawar: বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পওয়ারের মৃত্যু, শোকাহত মমতা ও প্রধানমন্ত্রী মোদি
একাধিকবার দলীয় সংঘাত ও বিদ্রোহে জড়ান (Ajit Pawar)
চাচা শরদ পওয়ারের ছায়া থেকে বেরিয়ে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় গড়তে গিয়ে একাধিকবার দলীয় সংঘাত ও বিদ্রোহে জড়ান তিনি। ২০১৯ ও ২০২৩ সালে এনসিপিতে ভাঙন ধরানোর মধ্য দিয়ে তিনি মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলেন। ২০২৪ বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে এনসিপি অভূতপূর্ব সাফল্য পায় এবং তিনি ষষ্ঠবার উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদে ফেরেন। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল বারামতির এই শক্তিশালী নেতার। তবে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব ও উত্তরাধিকার বহুদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।



