Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ৮৫ মিনিটের দীর্ঘ বাজেট ভাষণ। অথচ সেই দীর্ঘ সময় জুড়েও বাংলার জন্য কোনও নির্দিষ্ট প্রকল্প, আর্থিক বরাদ্দ কিংবা বিশেষ ঘোষণার নামগন্ধও নেই (Abhishek Banerjee)। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের পেশ করা এবারের বাজেট ঘিরে তাই স্বাভাবিকভাবেই আশাভঙ্গের সুর শোনা যাচ্ছে বঙ্গবাসীর মধ্যে। বাজেটের পরপরই তীব্র সমালোচনায় সরব হয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ এই বাজেটে বাংলা কার্যত উপেক্ষিত।

“ভাট বকে গেছেন অর্থমন্ত্রী” (Abhishek Banerjee)
বাজেট ভাষণের পর দিল্লিতে সংসদের বাইরে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “বাংলার জন্য কোনও বরাদ্দ নেই, কোনও প্রকল্প নেই। বাংলার কৃষক, শ্রমিক, তফসিলি কারও জন্য কিছু নেই। যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিয়েও কোনও কথা বলা হয়নি। ৮৫ মিনিট ধরে ভাট বকে কাটিয়ে দিয়েছেন। পুরনো কথা, পুরনো প্রতিশ্রুতি নতুন বোতলে পুরনো মদ।” অভিষেকের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বর্ষীয়ান সাংসদদের গলাতেও একই হতাশা (Abhishek Banerjee)
শুধু অভিষেক নন, তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদদের বক্তব্যেও একই ক্ষোভ ও হতাশার প্রতিফলন দেখা গেছে। সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ওরা জানে বাংলার কাছ থেকে কিছু পাওয়ার নেই। তাই বাংলার জন্য কিছুই করেনি।” অন্যদিকে সৌগত রায় সাফ জানিয়ে দেন, “এই বাজেটে কিছুই নেই। বাংলার নামটুকুও নেই।” তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই বাংলাকে বারবার আর্থিক ও উন্নয়নমূলক দিক থেকে বঞ্চিত করছে।

আমদানি শুল্কে রদবদল (Abhishek Banerjee)
এবারের বাজেটে কেন্দ্রীয় সরকারের মূল ফোকাস ছিল ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর ওপর। সেই লক্ষ্যেই কিছু পণ্যের আমদানি শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে দেশীয় উৎপাদন উৎসাহিত হয়। আবার শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত কিছু যন্ত্রাংশ ও কাঁচামালের ওপর শুল্ক কমানো হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন কিছু বিদেশি পণ্যের দাম বাড়তে পারে, তেমনই ভারতে তৈরি পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সরকার মনে করছে, দীর্ঘমেয়াদে এই নীতি দেশীয় শিল্পকে শক্তিশালী করবে।
নেশাদ্রব্যে দামের ঝাঁজ, ওষুধে কিছুটা স্বস্তি
এবারের বাজেটেও নেশাদ্রব্য ব্যবহারকারীদের জন্য কোনও সুখবর নেই। মদ, বিড়ি, সিগারেট এবং তামাকজাত পণ্যের উপর শুল্ক বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে এসব পণ্যের দাম আরও বাড়বে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর এসেছে চিকিৎসাক্ষেত্রে। বেশ কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বড় স্বস্তির ঘোষণা নেই (Abhishek Banerjee)
মধ্যবিত্ত করদাতাদের জন্য এবারের বাজেট বিশেষ আনন্দের কারণ হয়ে উঠতে পারেনি। বড় কোনও করছাড় বা আয়কর কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য রদবদলের ঘোষণা না থাকায় হতাশা স্পষ্ট। যদিও অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ১ এপ্রিল থেকে নতুন আয়কর আইন কার্যকর হবে। নতুন আইনে, সাধারণ করদাতারা ৩১ জুলাই পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন, অডিট হয়নি এমন ব্যবসায়িক সংস্থা বা ট্রাস্টের ক্ষেত্রে সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ আগস্ট করা হয়েছে, আয়কর ব্যবস্থাকে আরও সরল ও স্বচ্ছ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তবুও সার্বিকভাবে করদাতাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলেই মত অর্থনৈতিক মহলের।

আরও পড়ুন: Content Creator Lab: চাকরির গণ্ডি ভেঙে জেন জির ভবিষ্যৎ গড়ছে কন্টেন্ট ক্রিয়েশন!
বাংলার নজর এখন রাজ্য বাজেটের দিকে
কেন্দ্রীয় বাজেটে বারবার উপেক্ষার অভিযোগ তুলে ধরে এখন বঙ্গবাসীর দৃষ্টি ঘুরে যাচ্ছে রাজ্য বাজেটের দিকে। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের বাজেট পেশ হতে চলেছে। রাজ্য সরকারের কাছ থেকে বাংলার মানুষ আশা করছে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার পালটা হিসেবে রাজ্য বাজেটে থাকবে উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানের স্পষ্ট রূপরেখা।



