Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণ কলকাতার অভিজাত আবাসন এলাকায় ফের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা শহরবাসীকে নতুন করে ভাবাচ্ছে (Saheb Chatterjee)। সার্দান এভিনিউয়ের ‘আনন্দ’ বহুতলে আচমকা আগুন লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল থেকেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এই আবাসনেই থাকেন জনপ্রিয় অভিনেতা সাহেব চট্টোপাধ্যায়। যদিও সৌভাগ্যবশত বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো গিয়েছে, তবুও পরপর টলি তারকাদের আবাসনে আগুন লাগার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।

অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত (Saheb Chatterjee)
মঙ্গলবার হঠাৎই বহুতলের একাংশ থেকে পোড়া গন্ধ পেতে শুরু করেন আবাসিকেরা। প্রথমে কেউ স্পষ্ট বুঝে উঠতে না পারলেও অল্প সময়ের মধ্যেই ধোঁয়া দেখা যায়। তখনই সকলে সতর্ক হয়ে ফ্ল্যাট ছেড়ে নিচে নেমে আসেন। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা আবাসনে। সূত্রের খবর, কোথা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দমকল জানিয়েছে, সমস্ত বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং সংশ্লিষ্ট অংশ পরীক্ষা করে দেখা হবে।
বড় বিপদ এড়ানো গেল (Saheb Chatterjee)
অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকলের তিনটি ইঞ্জিন। তৎপরতার সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। দমকল কর্মীদের দক্ষতায় বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে বলে মনে করছেন আবাসিকেরা। উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর নেই। এমনকি আবাসনের পোষ্য প্রাণীদেরও নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি। আগুনে ঠিক কতটা সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
টলিপাড়ায় পরপর অগ্নিকাণ্ড (Saheb Chatterjee)
চলতি মাসেই টলি তারকাদের একাধিক আবাসনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি ইএম বাইপাস সংলগ্ন একটি বিলাসবহুল আবাসনে আগুন লাগে, যেখানে থাকেন অভিনেত্রী পায়েল সরকার ও লহমা ভট্টাচার্য। তার কিছুদিন আগেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী ছিল অভিনেতা যশ দাশগুপ্ত ও সাংসদ-অভিনেত্রী নুসরত জাহান–এর আবাসন। পরপর এমন ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে এ কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি শহরের বহুতলগুলিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি রয়েছে? নিয়মিত ফায়ার সেফটি অডিট কি হচ্ছে? বৈদ্যুতিক লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ কতটা সঠিকভাবে করা হচ্ছে?

আরও পড়ুন: Suniti Kum ar Chatterjee: মহাগ্রন্থের শতবর্ষ! ‘ও-ডি-বি-এল’এই বই বাঙালির আত্মপরিচয়ের শিকড়
প্রয়োজন সচেতনতা ও কঠোর নজরদারি
দক্ষিণ কলকাতার মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও অভিজাত এলাকায় একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিছক কাকতালীয় বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বহুতল আবাসনে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র, ফায়ার এক্সিট, অ্যালার্ম সিস্টেম সবকিছুর নিয়মিত পরিদর্শন অত্যন্ত জরুরি। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে তা সচল থাকে না। আবার বাসিন্দাদেরও অগ্নিকাণ্ডের সময় কী করণীয়, সে বিষয়ে সচেতনতার অভাব থাকে। এই ঘটনাগুলি সেই ঘাটতির দিকেই আঙুল তুলছে।



