Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতার ঐতিহ্যবাহী সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ঘটল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। কলেজের ছাত্র ইউনিয়ন রুমের একটি আলমারি থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ উঁইধরা নগদ টাকা (Surendranath College)। দুটি ব্যাগ ও বাক্সভর্তি অবস্থায় পাওয়া ওই টাকার পরিমাণ নিয়ে এখনও সরকারি ভাবে কিছু জানানো না হলেও প্রাথমিক অনুমান, সেখানে কয়েক লক্ষ থেকে ৫০-৬০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত থাকতে পারে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজ চত্বর থেকে শুরু করে রাজ্য রাজনীতিতেও তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

কীভাবে উদ্ধার হল টাকার ব্যাগ? (Surendranath College)
মঙ্গলবার কলকাতা পৌরনিগমের আধিকারিকরা কলেজ চত্বরে এসে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ইউনিয়ন রুম পরিষ্কারের উদ্যোগ নেন। সেই সময় রুমটির একটি আলমারির তালা ভাঙার প্রয়োজন হয়। অধ্যাপকদের অনুমতি নিয়ে সাফাইকর্মীরা আলমারির তালা ভাঙেন। তালা খোলার পরই সামনে আসে অবিশ্বাস্য দৃশ্য। আলমারির ভিতরে দুটি ব্যাগ ভর্তি নগদ টাকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকার কারণে টাকার বড় অংশই উঁইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই কলেজে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
ঘটনাস্থলে পুলিশ, শুরু তদন্ত (Surendranath College)
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় মুচিপাড়া থানার পুলিশ। উদ্ধার হওয়া টাকার ব্যাগগুলি নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। এরপর শুরু হয় তদন্ত। পুলিশের সামনে এখন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, এই বিপুল পরিমাণ টাকা কলেজের ইউনিয়ন রুমে এল কীভাবে? কারা এই টাকা সেখানে রেখেছিল? কতদিন ধরে ওই টাকা আলমারিতে পড়ে ছিল? টাকার প্রকৃত পরিমাণ কত? এই অর্থের উৎস কী? এর সঙ্গে কোনও দুর্নীতি বা আর্থিক অনিয়মের যোগ রয়েছে কি না? এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নগদের পাহাড়, উঠছে একাধিক প্রশ্ন
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ইউনিয়ন রুমে লক্ষ লক্ষ টাকা উদ্ধার হওয়ার ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সাধারণত কলেজের আর্থিক লেনদেন ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার কথা। সেখানে নগদে এত বিপুল অর্থ কেন সংরক্ষিত ছিল, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। কলেজের প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রছাত্রীদের একাংশও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাঁদের প্রশ্ন, ছাত্রছাত্রীদের ভর্তির ফি, অনুষ্ঠান বা অন্যান্য খাতের অর্থ কি কোনওভাবে নগদে জমা করে রাখা হয়েছিল? নাকি এর পেছনে অন্য কোনও আর্থিক লেনদেনের ইতিহাস রয়েছে?
রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক (Surendranath College)
ঘটনার পরপরই বিষয়টি রাজনৈতিক রূপ নিতে শুরু করেছে। বিরোধী দল বিজেপি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেছে। বরাহনগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ এই ঘটনাকে সামনে এনে রাজ্যের সাম্প্রতিক কয়েকটি আলোচিত অর্থ উদ্ধারের ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের মানুষ এর আগে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠের ফ্ল্যাট থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার হতে দেখেছে। আবার বিভিন্ন সময়ে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে যুক্ত স্থান থেকেও নগদ অর্থ উদ্ধারের অভিযোগ সামনে এসেছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল কলেজের ইউনিয়ন রুম।

সজল ঘোষের বিস্ফোরক অভিযোগ (Surendranath College)
সজল ঘোষ দাবি করেছেন, সুরেন্দ্রনাথ কলেজের বিভিন্ন ফান্ডে বিপুল অঙ্কের অর্থ রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি ও অন্যান্য খাতের অর্থের অপব্যবহার হয়ে থাকতে পারে। তিনি বলেন, “টাকা এমন পরিমাণে ছিল যে উঁইয়ে খেতে শুরু করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে এত নগদ অর্থ থাকার কোনও যৌক্তিকতা নেই। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে নিরপেক্ষ তদন্ত করা উচিত।” তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করা হয়নি।
উঁইধরা টাকা কি লুকিয়ে রেখেছিল বড় কোনও রহস্য?
ঘটনার সবচেয়ে রহস্যজনক দিক হল টাকার অবস্থা। নগদ অর্থের বড় অংশ উঁইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনুমান করা হচ্ছে, বহু বছর ধরে ওই টাকা আলমারির ভিতরে পড়ে ছিল। যদি তা-ই হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন উঠছে—কলেজ কর্তৃপক্ষ, ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এতদিন বিষয়টি জানতেন না কেন? তদন্তকারীরা এখন আলমারির ব্যবহার, ইউনিয়ন রুমের পূর্ববর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং পুরনো নথিপত্র খতিয়ে দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে সূত্রের খবর।

আরও পড়ুন: Pahalgam Pak: পহেলগাম হামলায় পাক যোগ! ৯/১১ হামলায় যুক্ত ব্যাঙ্কের নাম এল তদন্তে
তদন্তের দিকে তাকিয়ে রাজ্য
সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে বিপুল পরিমাণ উঁইধরা টাকা উদ্ধারের ঘটনায় শিক্ষা মহল, ছাত্রসমাজ এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। টাকার প্রকৃত পরিমাণ, উৎস এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।



