Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দীর্ঘদিনের দাবি অবশেষে মান্যতা পেল। উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটি-র প্রসিদ্ধ নৈহাটি বড়কালী মন্দির-এ বড়মার দর্শনে এবার থেকে আর সাধারণ লাইনে দাঁড়াতে হবে না এলাকার বাসিন্দাদের (Naihati Boro Maa)। মন্দির কর্তৃপক্ষের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন বহু নৈহাটিবাসী।

ভক্তসমাগমে নিত্যদিনের চিত্র (Naihati Boro Maa)
প্রতিদিনই বড়মার মন্দিরে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসেন মানত করতে, পুজো দিতে এবং দেবীর দর্শন পেতে। বিশেষ করে অমাবস্যা, কালীপুজো কিংবা বিশেষ তিথিতে ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অনেক সময় সেই সংখ্যা লক্ষ ছুঁয়েও যায়। নতুন মন্দির নির্মাণের পর থেকে ভক্তসংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দর্শনার্থীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করা যেন নিত্যদিনের চিত্র হয়ে উঠেছিল।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও দাবি (Naihati Boro Maa)
মন্দিরের একেবারে কাছেই যাঁদের বসবাস, সেই নৈহাটির বাসিন্দাদেরও এতদিন সাধারণ লাইনে দাঁড়িয়ে দর্শন করতে হত। এতে ক্ষোভ জমছিল এলাকার একাংশের মধ্যে। তাঁদের বক্তব্য ছিল নিজেদের এলাকার মন্দিরে পুজো দিতে গেলেও যদি দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়াতে হয়, তাহলে তা অত্যন্ত অসুবিধাজনক। স্থানীয়দের তরফে দাবি উঠেছিল, আলাদা ব্যবস্থা করা হোক। বিশেষ গেট বা পৃথক লাইন থাকলে ভিড়ও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে এবং এলাকাবাসীরাও স্বস্তিতে পুজো দিতে পারবেন।

অবশেষে বড় সিদ্ধান্ত (Naihati Boro Maa)
এই প্রেক্ষিতেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির পরিচালনাকারী ট্রাস্ট। নৈহাটি বড়কালী পুজো সমিতি ট্রাস্ট ঘোষণা করেছে, আগামী ১ মার্চ থেকে চালু হচ্ছে নতুন নিয়ম। এবার থেকে নৈহাটির বাসিন্দাদের জন্য থাকবে বিশেষ প্রবেশপথ। সচিত্র পরিচয়পত্র দেখাতে পারলেই তাঁরা সাধারণ লাইনে না দাঁড়িয়ে ওই বিশেষ গেট দিয়ে বড়মার দর্শন করতে পারবেন।
কারা পাবেন এই সুবিধা? (Naihati Boro Maa)
পুজো সমিতি ট্রাস্টের সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, যাঁদের বাড়ি ৭৪৩১৬৫ এবং ৭৪৩১৬৬ এই দুই পিন কোডের আওতায়, তাঁরাই এই বিশেষ সুবিধা পাবেন। তবে কিছু স্পষ্ট নিয়মও বেঁধে দেওয়া হয়েছে, এই সুবিধা শুধুমাত্র নৈহাটিবাসীদের জন্য। বাড়িতে অতিথি এলে বা বাইরের কাউকে সঙ্গে নিয়ে এই বিশেষ গেট ব্যবহার করা যাবে না। পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ, সুবিধা থাকবে, তবে তার অপব্যবহার ঠেকাতে কড়া নজরদারিও থাকবে।
বিশ্বাস, ভক্তি ও বড়মার মাহাত্ম্য (Naihati Boro Maa)
ভক্তদের বিশ্বাস বড়মা কাউকে খালি হাতে ফেরান না। মানত পূরণ হয়, বাসনা সিদ্ধ হয়। এই অটল আস্থার কারণেই বছরের পর বছর ধরে ভিড় ক্রমশ বেড়েই চলেছে। নতুন নিয়মের ফলে একদিকে যেমন স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি পাবেন, তেমনই সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্যও ভিড় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Suniti Kum ar Chatterjee: মহাগ্রন্থের শতবর্ষ! ‘ও-ডি-বি-এল’এই বই বাঙালির আত্মপরিচয়ের শিকড়
আবেগের সম্মান?
এই সিদ্ধান্ত কেবল ভিড় নিয়ন্ত্রণের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের আবেগ ও দাবির প্রতিফলন বলেই মনে করছেন অনেকে। মন্দির শুধু ধর্মীয় স্থান নয় এটি এলাকার সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিচয়ের অংশ। তাই স্থানীয়দের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়াকে অনেকেই ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।



