Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতায় ফের ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে (Earthquake)। শুক্রবার দুপুর ১টা ২২ মিনিটে কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় কম্পন টের পাওয়া যায়। রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৫। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়াতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে। ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। একে আটকানো যায় না, কিন্তু সঠিক সচেতনতা ও প্রস্তুতির মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। আতঙ্কিত না হয়ে কীভাবে সুরক্ষিত থাকবেন, তা নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

ভূমিকম্পের সময় শান্ত থাকা কেন জরুরি (Earthquake)
ভূমিকম্পের মুহূর্তে আতঙ্কই সবচেয়ে বড় শত্রু। অনেক সময় মানুষ ভয় পেয়ে হুড়োহুড়ি করে দৌড়তে গিয়ে পড়ে যান, সিঁড়িতে ঠেলাঠেলি হয়, বা ভুল সিদ্ধান্ত নেন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই প্রথম কাজ নিজেকে সংযত রাখা এবং দ্রুত কিন্তু ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
ঘরের ভিতরে থাকলে কী করবেন (Earthquake)
১. বিছানায় থাকলে
যদি ভূমিকম্পের সময় আপনি বিছানায় থাকেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে উঠে দৌড়বেন না। বালিশ দিয়ে মাথা ঢেকে নিন। সম্ভব হলে বিছানার পাশের শক্ত টেবিল, ডেস্ক বা মজবুত আসবাবের নিচে আশ্রয় নিন।
২. শক্ত জায়গায় আশ্রয় নিন (Earthquake)
বাড়ির পিলার, বিম বা শক্ত দেওয়ালের কোণ তুলনামূলক নিরাপদ (Earthquake)। কাঁচের জানলা, আলমারি বা ঝুলন্ত জিনিসপত্র থেকে দূরে থাকুন। ভারী আসবাব উল্টে পড়তে পারে এ কথা মাথায় রাখুন।
৩. রান্নাঘরে থাকলে (Earthquake)
রান্নাঘর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলির একটি। ভূমিকম্প টের পেলেই সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস বা উনুন বন্ধ করুন। আগুন বা গ্যাস লিক থেকে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারপর দ্রুত খোলা জায়গায় বেরিয়ে যান।

স্কুল-কলেজে থাকলে করণীয় (Earthquake)
স্কুল বা কলেজে থাকলে আতঙ্ক না ছড়িয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নির্দেশ মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। স্কুলব্যাগ মাথার উপর রেখে বেঞ্চ বা ডেস্কের নিচে বসে পড়ুন। জানলা ও আলমারি থেকে দূরে থাকুন। হুড়োহুড়ি করে সিঁড়ির দিকে দৌড়াবেন না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতা মহড়া (ড্রিল) থাকলে তা নিয়মিত করা উচিত।
বহুতল ভবনে থাকলে (Earthquake)
উঁচু বাড়ি বা ফ্ল্যাটবাড়ির উপরতলায় থাকলে কম্পন চলাকালীন লিফট ব্যবহার করবেন না। লিফট মাঝপথে আটকে যেতে পারে।
কম্পন থামা পর্যন্ত ঘরের ভেতরেই অপেক্ষা করুন এবং তারপর সিঁড়ি ব্যবহার করে ধীরে নামুন।

আরও পড়ুন: Supreme Court: এসআইআর নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ রাজ্য
গাড়ি চালানোর সময়
যদি গাড়ি চালানোর সময় ভূমিকম্প অনুভব করেন: সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামান। ব্রিজ, উড়ালপুল বা বড় বিলবোর্ডের নিচে দাঁড়ানো এড়িয়ে চলুন। গাড়ির ভেতরেই থাকুন যতক্ষণ না কম্পন থামে।
খোলা জায়গায় থাকলে
বাড়ির বাইরে থাকলে বৈদ্যুতিক খুঁটি, বড় গাছ, উঁচু বাড়ি বা সাইনবোর্ড থেকে দূরে থাকুন। এগুলো ভেঙে পড়ার ঝুঁকি থাকে। খোলা মাঠ বা ফাঁকা জায়গাই সবচেয়ে নিরাপদ।
বাজার বা সিনেমাহলে থাকলে
জনবহুল জায়গায় সবচেয়ে বড় বিপদ হলো ভিড়ের চাপে আহত হওয়া। ঠেলাঠেলি না করে ধীরে ধীরে বেরোনোর চেষ্টা করুন। শিশু ও বয়স্কদের আগে বের করে আনার চেষ্টা করুন। কর্মীদের নির্দেশ মেনে চলুন।
আফটারশক সম্পর্কে সতর্কতা
প্রথম কম্পনের কিছুক্ষণ পর আবারও কম্পন হতে পারে, যাকে আফটারশক বলা হয়। তাই প্রথম ঝাঁকুনি থেমে গেলেও সতর্ক থাকুন। সম্ভব হলে কিছু সময় খোলা জায়গায় অবস্থান করুন।
পূর্বপ্রস্তুতি ও সচেতনতা
ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে বসবাস করলে কিছু প্রস্তুতি আগেই রাখা ভালো: জরুরি ফোন নম্বর হাতের কাছে রাখা, একটি ‘ইমার্জেন্সি কিট’ রাখা (পানি, শুকনো খাবার, টর্চ, প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী) পরিবারের সকলকে নিরাপদ আশ্রয়ের জায়গা সম্পর্কে আগে থেকে জানানো



