Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের পুর এলাকাগুলিকে আরও পরিচ্ছন্ন, আধুনিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হল ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’ (Swachh App)। নগর পরিষেবা ব্যবস্থাকে ডিজিটাল মাধ্যমে আরও কার্যকর করে তোলা এবং নাগরিকদের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। রাজ্য সরকারের আশা, এই অ্যাপ চালুর ফলে শহরাঞ্চলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষার কাজ আরও সহজ ও দ্রুত হবে।

প্রথম পর্যায়ে ১০টি পুরসভায় পরিষেবা (Swachh App)
প্রাথমিক পর্যায়ে রাজ্যের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পুরসভায় এই অ্যাপ পরিষেবা চালু করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে আসানসোল, দুর্গাপুর, বসিরহাট, পূজালী, তুফানগঞ্জ, কাঁথি (কন্টাই), কৃষ্ণনগর, বৈদ্যবাটি, মধ্যমগ্রাম এবং নলহাটি। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের কার্যকারিতা মূল্যায়নের পর ধাপে ধাপে রাজ্যের সমস্ত নগর স্থানীয় সংস্থায় এটি চালু করা হবে। ভবিষ্যতে মোট ১২০টি নগর স্থানীয় সংস্থা বা আরবান লোকাল বডির আওতায় এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে প্রযুক্তির ব্যবহার (Swachh App)
‘স্বচ্ছ অ্যাপ’-এর মাধ্যমে নাগরিকরা শহরের বিভিন্ন পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত সমস্যা সরাসরি প্রশাসনের নজরে আনতে পারবেন। কোথাও আবর্জনা জমে থাকলে, ডাস্টবিন উপচে পড়লে কিংবা নিকাশি সংক্রান্ত কোনও সমস্যা দেখা দিলে সেই তথ্য দ্রুত অ্যাপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে যাবে। এর ফলে অভিযোগ নিষ্পত্তির সময় কমবে এবং প্রশাসনের জবাবদিহিতাও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে নাগরিক ও প্রশাসনের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের একটি আধুনিক মাধ্যম তৈরি হবে।

প্রথম তিন মাস জুড়ে সচেতনতামূলক অভিযান (Swachh App)
পৌর ও শহর উন্নয়ন দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, অ্যাপ চালুর পর প্রথম তিন মাস ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান চালানো হবে। সাধারণ মানুষকে নির্দিষ্ট স্থানে আবর্জনা ফেলার জন্য উৎসাহিত করা হবে এবং শহর পরিচ্ছন্ন রাখার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা হবে। সরকার মনে করছে, শুধুমাত্র প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনও পরিচ্ছন্নতা অভিযান সফল হতে পারে না। তাই জনসচেতনতার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
প্রতি ১০০ মিটারে ডাস্টবিন বসানোর পরিকল্পনা (Swachh App)
শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে প্রতি ১০০ মিটার অন্তর ডাস্টবিন বসানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে পথচলতি মানুষ সহজেই আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে পারবেন এবং রাস্তা বা জনসমক্ষে ময়লা ফেলার প্রবণতা কমবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত সংখ্যক ডাস্টবিনের অভাব অনেক সময় শহর অপরিচ্ছন্ন হওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই উদ্যোগ সেই সমস্যার অনেকটাই সমাধান করতে পারে।
যেখানে-সেখানে ময়লা ফেললে জরিমানা (Swachh App)
শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রকাশ্যে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা, থুতু ফেলা কিংবা পানের পিক ফেলার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপ করা হবে। প্রয়োজনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে। প্রশাসনের মতে, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দূষণ কমাতে বৈদ্যুতিক পরিবহণে জোর
শহর উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ক্রমবর্ধমান দূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে বৈদ্যুতিক পরিবহণ ব্যবস্থার প্রসার অত্যন্ত জরুরি। তিনি মনে করেন, পরিবেশবান্ধব গণপরিবহণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ হলে একদিকে যেমন বায়ুদূষণ কমবে, তেমনি জ্বালানি খরচও হ্রাস পাবে। তবে এই ক্ষেত্রে কেন্দ্র সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পে জটিলতা কাটল
শহর পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক খবর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ জটিলতা ইতিমধ্যেই মিটে গিয়েছে। এর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হয়েছে। মেট্রো রেল পরিষেবার সম্প্রসারণের মাধ্যমে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার যাতায়াত ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মাঝারি শহরেও মেট্রো পরিষেবার সম্ভাবনা
কেন্দ্রীয় স্তর থেকেও নতুন পরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ জনসংখ্যার শহরগুলিতে মেট্রো পরিষেবা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরি করে দিল্লিতে পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে আধুনিক গণপরিবহণ ব্যবস্থার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।

আরও পড়ুন: Smart Border: স্মার্ট বর্ডার প্রকল্পে জোর শাহের, ‘প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করতে হবে’
পরিবেশবান্ধব নগরায়ণের পথে পশ্চিমবঙ্গ
‘স্বচ্ছ অ্যাপ’ চালুর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের শহর প্রশাসন ডিজিটাল রূপান্তরের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। পরিচ্ছন্ন শহর, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নাগরিক অংশগ্রহণ, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহণ এই পাঁচটি স্তরকে সামনে রেখে রাজ্য সরকার আগামী দিনের শহর উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করছে।



