Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠা যুদ্ধ পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই নয় (Iran Conflict), আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকেও গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে বিমান চলাচলে এর সরাসরি ও তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব পড়েছে। ইরান-আমেরিকা-ইজ়রায়েল সংঘাতের জেরে একাধিক দেশের আকাশসীমা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শত শত আন্তর্জাতিক উড়ান বাতিল বা রুট পরিবর্তনে বাধ্য হয়েছে। ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহণ ব্যবস্থাও তার বাইরে নেই।

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহ (Iran Conflict)
বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ এলএনজি এই হরমুজ় প্রণালী দিয়েই যায়। ফলে এই রুটে সামান্য বিঘ্নও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধাক্কা আনতে সক্ষম। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় একাধিক আন্তর্জাতিক তেল উৎপাদনকারী সংস্থা ও ট্রেডিং হাউস অনির্দিষ্টকালের জন্য এই পথে পরিবহণ স্থগিত করেছে। বিশ্বখ্যাত ট্যাঙ্কার সংগঠন ইন্টারটেনকো জানিয়েছে, মার্কিন নৌসেনা তাদের সতর্ক করে দিয়েছে বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ় ও সংলগ্ন এলাকায় ট্যাঙ্কারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন।
আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বিপর্যয় (Iran Conflict)
এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি, পরিবহণ ব্যয় এবং উৎপাদন খরচের উপর। ইতিমধ্যেই এশিয়া ও ইউরোপের একাধিক বাজারে তেলের ফিউচার দামে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। ভারত জ্বালানি আমদানি নির্ভর দেশ। দেশের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৫০ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ৬০ শতাংশেরও বেশি আসে হরমুজ় প্রণালী হয়ে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারত প্রতিদিন প্রায় ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল এই রুটে আমদানি করেছিল। চলতি বছরে সেই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬ লক্ষ ব্যারেলে।

জরুরি বৈঠক ও নজরদারি (Iran Conflict)
ভারতের প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলি হল ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কুয়েত। এই দেশগুলি থেকে আমদানির বড় অংশই হরমুজ় হয়ে আসে। ফলে রুটে বাধা মানেই সরাসরি সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ। পরিস্থিতি সামাল দিতে নয়াদিল্লি বিকল্প পথের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।যেমন, সৌদি আরব–এর ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইন (রেড সি অভিমুখে), সংযুক্ত আরব আমিরশাহী–এর আবু ধাবি ক্রুড অয়েল পাইপলাইন (ফুজ়াইরা হয়ে)। এছাড়াও বিকল্প উৎস হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে রাশিয়া, নাইজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ব্রাজ়িল, কলম্বিয়া এবং ভেনেজ়ুয়েলা।
ভারতের বিমানবন্দরগুলিতে প্রভাব (Iran Conflict)
তবে দূরবর্তী দেশ থেকে তেল আনতে হলে পরিবহণ ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। সেই সঙ্গে বাড়বে বীমা খরচ ও ডেলিভারি সময়। ফলে দেশের বাজারে পেট্রোল–ডিজেল ও গ্যাসের দামে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।হরমুজ় প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু ভারত নয়, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপের বহু দেশ বড়সড় জ্বালানি সংকটে পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে মুদ্রাস্ফীতি ফের মাথাচাড়া দিতে পারে।
আরও পড়ুন: US Iran: ইরানে সামরিক অভিযান আমেরিকার, আত্মসমর্পণের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি সাময়িক না হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন অস্থিরতার অধ্যায় শুরু হতে পারে।
হরমুজ় প্রণালী কেবল একটি সমুদ্রপথ নয় এটি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্র। সেখানে যুদ্ধের ছায়া মানেই বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ঝড়ের পূর্বাভাস। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে নয়াদিল্লি সহ বিশ্বের একাধিক দেশ। তবে অনিশ্চয়তা কাটার আগ পর্যন্ত তেলবাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকাই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞর



