Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা হঠাৎ করেই ভয়াবহ রূপ নিল সাম্প্রতিক যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় (Middle Eastern Crisis)। অভিযোগ উঠেছে , ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আক্রমণে তেহরান কেঁপে ওঠে এবং সেই হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি । এই ঘটনার পর গোটা অঞ্চল জুড়ে যুদ্ধের আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক কূটনীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি সব ক্ষেত্রেই এর গভীর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

দীর্ঘদিনের শত্রুতা ও উত্তেজনা (Middle Eastern Crisis)
ইরান ও ইজরায়েলের সম্পর্ক বহু দশক ধরেই বৈরিতায় পরিপূর্ণ। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে তার প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইজরায়েল বরাবরই উদ্বেগ প্রকাশ করে এসেছে। অপরদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিরুদ্ধে নানা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে তেহরানে হামলা কেবল একটি সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই হামলায় ইরানের সামরিক ও কৌশলগত ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করা হলেও ব্যাপক প্রাণহানির খবর সামনে এসেছে। সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইর মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া ও যুদ্ধের আবহ (Middle Eastern Crisis)
হামলার পরপরই ইরান কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দেয়। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পায়, এবং পারস্য উপসাগর সংলগ্ন এলাকায় সতর্কাবস্থা জারি করা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইরান পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ নিজেদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। ফলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। আঞ্চলিক সংঘাত যে বৃহত্তর যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, সেই আশঙ্কা এখন প্রবল।

আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে ধাক্কা (Middle Eastern Crisis)
যুদ্ধাবস্থার জেরে একাধিক দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ভারত-সহ বহু দেশের বিমান পরিষেবায়। ভারতের বিমান সংস্থাগুলিও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পরিষেবা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। Air India, IndiGo, SpiceJet মধ্যপ্রাচ্যগামী একাধিক ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। বিশেষ করে দুবাই, দোহা, আবুধাবি ও সৌদি আরবগামী রুটে ব্যাপক প্রভাব দেখা যায়।
যাত্রী ভোগান্তি ও উত্তেজনা (Middle Eastern Crisis)
এই আন্তর্জাতিক সংকটের প্রভাব পড়ে কলকাতাতেও। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী একাধিক বিমান বাতিল করা হয়। এর মধ্যে ছিলএমিরেটস-এর দুবাইগামী বিমান, Qatar Airways-এর দোহাগামী বিমান, Etihad Airways-এর আবুধাবিগামী বিমান, Air Arabia-এর নির্ধারিত উড়ান, যাত্রীদের অভিযোগ, আগাম কোনও স্পষ্ট বার্তা না পাওয়ায় বিমানবন্দরে পৌঁছে তারা চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েন। টিকিট বাতিল, রিফান্ড, পুনর্নির্ধারণ সব মিলিয়ে চাপে পড়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও। কিছু ক্ষেত্রে উত্তেজনাও ছড়িয়ে পড়ে বলে খবর।

আরব আমিরশাহিতে ভারতীয়দের উদ্বেগ (Middle Eastern Crisis)
মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক বিমানবন্দরে বহু ভারতীয় যাত্রী আটকে পড়েছেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে United Arab Emirates-এর বিভিন্ন শহরে ভারতীয়দের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। Abu Dhabi-স্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও বিমান সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছে। জরুরি সহায়তার জন্য হেল্পলাইন নম্বরও সক্রিয় করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: US Iran: ইরানে সামরিক অভিযান আমেরিকার, আত্মসমর্পণের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্য বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারী অঞ্চল। যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বাণিজ্যিক রুটেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। ভারতীয় প্রবাসীদের জন্যও এটি উদ্বেগের কারণ, কারণ মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত লক্ষাধিক ভারতীয় এই পরিস্থিতির প্রত্যক্ষ প্রভাব অনুভব করছেন।



