Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যসভা নির্বাচনের আবহে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ব্যস্ততা ছিল বিধানসভা চত্বরে (Koel Mullick– Rajiv Kumar)। সূত্রের খবর, নির্ধারিত সময়ের আগেই একে একে পৌঁছে যান তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির প্রার্থীরা। মনোনয়ন পেশের দিনটি তাই কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি ছিল রাজনৈতিক বার্তা, নতুন যাত্রার অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যতের ইঙ্গিত।

তৃণমূলের চার প্রার্থী, নতুন মুখ কোয়েল (Koel Mullick- Rajiv Kumar)
কয়েক দিন আগেই চারটি রাজ্যসভা আসনের জন্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছিল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সেই চার প্রার্থী মনোনয়ন পেশ করতে বিধানসভায় যান। এই তালিকায় অন্যতম চর্চিত নাম টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রীকোয়েল মল্লিক। এই প্রথমবার বিধানসভায় পা রাখলেন তিনি। স্বামী নিসপাল সিংকে সঙ্গে নিয়ে প্রবেশের সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কোয়েল বলেন, “একটা নতুন যাত্রা। সবার ভালোবাসা, আশীর্বাদ পেলে যাত্রা সফল হবে। এটা একটা অনেক বড় দায়িত্ব। আমি জানি আমি দায়িত্ব নিয়েছি যখন, সফল হব। মানুষের জন্য কাজ করব।” রাজনীতির ময়দানে তাঁর এই আনুষ্ঠানিক প্রবেশকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল ছিল। সূত্রের দাবি, দলের তরফে সাংস্কৃতিক জগতের জনপ্রিয় মুখকে সামনে আনার কৌশল হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের আগেই রাজীব কুমার (Koel Mullick- Rajiv Kumar)
ঘড়ির কাঁটায় সকাল ১০টা ৪৪ মিনিট নাগাদ বিধানসভায় পৌঁছে যান রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই এসে পরিষদীয় দপ্তরের সচিবালয়ে একাই অপেক্ষা করতে দেখা যায় তাঁকে। নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি মাদার টেরিসার উক্তি টেনে বলেন, “আমি জানি ভগবান আমাকে এমন কোনও দায়িত্ব দেবে না যা আমি পালন করতে পারব না।” সূত্রের খবর, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সংসদের উচ্চকক্ষে সক্রিয় ভূমিকা নেবেন তিনি এমনটাই দলের অন্দরের বার্তা।
মেনকা গুরুস্বামীর সংক্ষিপ্ত বার্তা (Koel Mullick- Rajiv Kumar)
এদিন মনোনয়ন পেশ করতে এসে নিজের সঙ্গীকে নিয়ে হাজির হন অনুসরণ। সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “আমি গর্বিত, সম্মানিত।” আইনজগতের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি যে উচ্চকক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন, সেই সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।

বিজেপির প্রার্থী রাহুল সিনহা (Koel Mullick- Rajiv Kumar)
অন্যদিকে, বিজেপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেশ করতে বিধানসভায় যান রাহুল সিনহা। বাংলার পাঁচটি আসনের মধ্যে একটি বিজেপির দখলে। সেই আসনেই প্রার্থী হয়েছেন দলের অন্যতম পুরনো নেতা রাহুল। সূত্রের খবর, আটের দশকে আরএসএসের হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ তাঁর। ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি বিজেপির রাজ্য সভাপতি ছিলেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হাবড়া কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও পরাজিত হন। তারপর দীর্ঘ সময় কোনও স্থায়ী সাংগঠনিক পদে না থাকলেও, এবার ফের তাঁকে দিল্লির রাজনীতিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল।রাজনৈতিক মহলের মতে, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক এই দুই কারণেই তাঁকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: US Iran: ইরানে সামরিক অভিযান আমেরিকার, আত্মসমর্পণের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের সম্ভাবনা
সূত্রের খবর, আগামী ১৬ মার্চের ভোটে অধিকাংশ প্রার্থীই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে পারেন। সংখ্যার অঙ্ক বলছে, শাসকদল ও প্রধান বিরোধী দলের মনোনীত প্রার্থীদের জয় কার্যত নিশ্চিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রাজ্যসভা নির্বাচন কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয় এটি আসন্ন জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ। সাংস্কৃতিক জগত, প্রশাসন ও আইন অঙ্গন তিন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে তৃণমূল যেমন বহুমাত্রিক বার্তা দিতে চেয়েছে, তেমনই বিজেপিও পুরনো সংগঠককে সামনে এনে অভিজ্ঞতার উপর ভরসা রেখেছে।



