Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের কাছে ভারত (Iran Warship Sinking) মহাসাগরে ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। সমুদ্রের আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান। বিপদ সঙ্কেত পাওয়ার পরপরই নিখোঁজ নাবিকদের খোঁজে বিমান ও জাহাজ পাঠিয়ে তল্লাশি শুরু করেছে ভারতীয় নৌবাহিনী।
শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনর উদ্ধার অভিযান (Iran Warship Sinking)
মঙ্গলবার ভোরে ইরানের ফ্রিগেট (Iran Warship Sinking) IRIS Dena থেকে পাঠানো বিপদ সঙ্কেত পৌঁছায় Colombo-র মেরিটাইম রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন সেন্টারে। সমুদ্রে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে এই কেন্দ্রই উদ্ধার অভিযানের সমন্বয় করে থাকে। সেখান থেকেই দ্রুত বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে জানানো হয় এবং উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনী উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতও দ্রুত সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ভারতীয় নৌবাহিনী তৎক্ষণাৎ বিমান ও জাহাজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

বিস্তীর্ণ এলাকায় তল্লাশি (Iran Warship Sinking)
৪ মার্চ সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ একটি দূরপাল্লার (Iran Warship Sinking) সামুদ্রিক টহল বিমান দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশে পাঠানো হয়। এই বিমানটি সমুদ্রের উপর ভাসমান ধ্বংসাবশেষ, লাইফবোট বা সম্ভাব্য জীবিত নাবিকদের সন্ধানে নজরদারি চালাতে থাকে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানোর জন্য লাইফ র্যাফ্ট বহনকারী আরেকটি বিমানও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। এদিকে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি এলাকায় থাকা ভারতীয় পালতোলা প্রশিক্ষণ জাহাজ INS Tarangini-কে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিকেল প্রায় ৪টার মধ্যে জাহাজটি দুর্ঘটনাস্থলের কাছে পৌঁছে যায় এবং সমুদ্রের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি শুরু করে। তার আগেই শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনী ও স্থানীয় সামুদ্রিক উদ্ধার সংস্থাগুলি উদ্ধারকাজ শুরু করেছিল। বিভিন্ন নৌযান ও উদ্ধারকারী দল সমুদ্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালাতে থাকে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে পরে কোচি থেকে (Iran Warship Sinking) ভারতীয় নৌবাহিনীর জরিপ জাহাজ INS Ikshak-কেও ঘটনাস্থলের দিকে পাঠানো হয়। এই জাহাজটি সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি ও অনুসন্ধানের কাজে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে সেটি ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থান করে নিখোঁজ নাবিকদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে এবং সমুদ্রের নিচে ধ্বংসাবশেষের অবস্থান খুঁজে দেখার কাজ করছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কার গালে উপকূল থেকে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, একটি মার্কিন সাবমেরিন থেকে ছোড়া টর্পেডোর আঘাতে ডুবে যায় ইরানের যুদ্ধজাহাজটি। বিস্ফোরণের পরপরই জাহাজটিতে ভয়াবহ ক্ষতি হয় এবং দ্রুত পানি ঢুকতে শুরু করে।

জাহাজের নাবিকরা ভোরে বিপদ সঙ্কেত পাঠালেও (Iran Warship Sinking) উদ্ধারকারী জাহাজ পৌঁছানোর আগেই যুদ্ধজাহাজটি সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে যায় বলে জানা গেছে। ওই জাহাজে প্রায় ১৩০ জন নাবিক ও কর্মকর্তা ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। ফলে অনেক নাবিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জানা গেছে, যুদ্ধজাহাজটি ভারতের বিশাখাপাতনাম-এ অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সামরিক মহড়ায় অংশ নেওয়ার পর ইরানের উদ্দেশ্যে ফিরছিল। সেই সময়েই ভারত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই ঘটনার জেরে কূটনৈতিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগছি এই ঘটনাকে “সমুদ্রে নৃশংসতা” বলে তীব্র ভাষায় নিন্দা করেছেন। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক জলসীমায় কোনও সতর্কতা ছাড়াই একটি যুদ্ধজাহাজে হামলা চালানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন ও যুদ্ধনীতি—দুটিরই লঙ্ঘন। অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পেটে হেগসথ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, টর্পেডো হামলার মাধ্যমে জাহাজটি ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ইরানকে ঘিরে চলা বৃহত্তর সংঘাতের প্রেক্ষিতেই এই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে।
এই ঘটনার ফলে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা। বিশেষ করে এই অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে বহু দেশ। এদিকে শ্রীলঙ্কা সরকার এই সংঘাতে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার কথা জানিয়েছে। শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে ইরানের আরেকটি যুদ্ধজাহাজ IRIS Bushehr শ্রীলঙ্কার জলসীমার দিকে এগিয়ে আসছে বলে জানা গেছে। ওই জাহাজে প্রায় ৩০০ জন নাবিক ও ক্যাডেট রয়েছেন। ফলে ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক জলসীমায় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও অন্যান্য সংস্থার যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে এই ঘটনার কূটনৈতিক ও সামরিক প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।


