Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালের ম্যাচে ভারত যেতে ৭ রানে। ইংরেজদের বিরুদ্ধে শেষ ওভার বল করেন শিবম দুবে, কিন্তু শেষ ওভার বলা করা কতটা চ্যালেঞ্জ ছিল সেই নিয়ে কথা বললেন দুবে (Shivam Dube)।
বেথেলের সামনে নার্ভাস দুবে? (Shivam Dube)
ক্রিকেট বিশ্বে একটি প্রচলিত শব্দ হলো নার্ভাস নাইন্টি। বহু তাবড় তাবড় ক্রিকেটার ৯০-এর ঘরে আউট হয়েছেন, হাতছাড়া হয়েছে সেঞ্চুরি। ৯৮ এবং ৯৯ রানের ঘরে আউট হওয়া ব্যাটারদের সংখ্যাও কম না। যার মধ্যে শচীনের নামও রয়েছে। ২২ গজের পরিস্থিতি যেকোন সময় বদলে যেতে পারে আবার সবথেকে আত্মবিশ্বাসী প্লেয়ারও নার্ভাস হয়ে যেতে পারেন। কিছু ম্যাচ বা ইনিংস হয়ে যায় সম্পূর্ণ নার্ভের খেলা, যে ম্যাচে চাপ বা প্রত্যাশা বেশি থাকে সেই ম্যাচেই দেখা যায় নার্ভ ফেল করতে। আর এমন ঘটনার থেকে শিবম দুবের ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে করা শেষ ওভার চর্চায় রয়েছে (Shivam Dube)।
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারত ২৫৩ রানের টার্গেট সেট করে দেয় কিন্তু বেথেলের ঝড়ে সেই রানও কম মনে হয় তখন স্কোর বোর্ডে। তবে খেলার মোড় নিজেদের দিকে আনেন বুমরা। তাঁর সৌজন্যে ইংল্যান্ডের জেতার জন্য শেষ ওভারে দরকার ৩০ রান। সূর্য বল তুলে দেন শিবম দুবের হাতে। কারণ ততক্ষণে বুমরার স্পেল শেষ। ২২ গজে অপেক্ষা করছেন বেথেল। যার সেঞ্চুরি ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ। আর সেই শেষ ওভারে দুবে খরচ করলেন ২২ রান। ভারত জিতলো সাত রানে।

প্রসঙ্গত ওই ম্যাচে এর আগে বল হাতে হাত আসেননি দুবে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শেষ ওভারের দায়িত্ব যখন তাঁর হাতে তখন নার্ভাস হওয়াটা কি স্বাভাবিক নয়? শেষ ওভার দলের জন্য রান আপ নিতে যাওয়া দুবেও ভয় পেয়েছিলেন? সেই নিয়েই এবার মুখ খুললেন ভারতের এই অলরাউন্ডার (Shivam Dube)।

ব্যাটিংয়ে অবদান রাখলেও তাঁর বোলিং এবং গতিবেগ নিয়ে এর আগেও সমালোচনা হয়েছে। তবে মর্নি মর্কেলের তত্ত্বাবধানে নিজেকে ধীরে ধীরে তৈরি করছেন এই অলরাউন্ডার। তবে দলও তাঁর উপর ভরসা রেখেছে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁর সেই ভরসার দাম চাইছে সমগ্র ভারতীয় সমর্থকরা। সেই সময় ভয় পেলেও সেটা যাতে কোনও ভাবে ব্যাটার না বুঝতে পারেন সেটাই একজন বোলারের প্রধান চেষ্টা কারণ নাহোলেই বিপক্ষ ব্যাটার চেপে বসবেন। আর সেখানে অপেক্ষা করছেন সেঞ্চুরি করা ব্যাটার। তবে শিবম জানিয়েছেন ভয় পেলেও নিজের উপর বিশ্বাস হারাননি দুবে।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এক ভিডিও-তে শিবম জানিয়েছেন ‘ততক্ষণে ঠিক হয়ে গিয়েছিল যে, শেষ ওভারে আমাকে বল করতে হবে। ভয়ে কাঁপছিলাম। কারণ, ম্যাচে তার আগে বল করিনি। কিন্তু পাশাপাশি নিজের উপর বিশ্বাস রেখেছিলাম। জানতাম, ৩০ রান আটকাতে পারব (Shivam Dube)।’
তাঁর একদিকে যেমন রান ডিফেন্ড করার দায়িত্ব তেমন তাঁর উপর নির্ভর করছে ভারতের ফাইনালের টিকিট। বুমরা নিজের কাজ দক্ষতার সাথে করে গিয়েছেন এই জায়গা থেকে ম্যাচ না বের করতে পারলে শিবমের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে। ক্রিকেটের পরিভাষা যতই পাল্টাক কিন্তু ৬ বলে ৩০ রান তোলা যে কোনও দলের জন্য সহজ না সেটা সেটাই কমবেশি জানে। কিন্তু ২৫৩ রান কম মনে করিয়েছেন যে ইংরেজ ব্যাটার সেই বেথেল তখন সেঞ্চুরি করে ২২ গজে অপেক্ষা করছেন দুবের জন্য। সেক্ষেত্রে প্রথম দুই বলই ভাগ্য নির্ধারণ করে দেবে দুই দলের আর সেটা দুবে ভাল করে জানেন। সেই কথাই জানালেন তিনি (Shivam Dube)।
প্রথম দুই বলের পরিবল্পনাই যে তাঁর ছিল সেই কথাই জানালেন শিবম দুবে। দুবে বলেন, ‘বেথেল শতরান করে খেলছিল। তাই জানতাম, বল করা সহজ হবে না। নিজেকে বুঝিয়েছিলাম, ভাল জায়গায় বল করতে হবে। আমি চেয়েছিলাম, প্রথম দুটো বল ভাল করতে। পুরো মনোযোগ প্রথম দুই বলের উপর ছিল। জানতাম, দুটো বলে রান না হলে ওরা চাপে পড়ে যাবে। সেটাই হয়েছে।’
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে দুবে ২৩ বলে ৪৫ রান করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন এবার তাঁর হাতে শেষ বল। সমর্থকদের নজর এখন তাঁর উপর। দলের জয়ে ভূমিকা নিতে প্রাণ পাত যে তাকেই করতে হবে। এর আগে অক্ষর প্যাটেল দুটি অনবদ্য ক্যাচ নিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে ভুল হওয়ার সুযোগ নেই। সেই কথাই বোধহয় তখন চলছিল দুবের মাথায়। শিবম বলেন, ‘‘সেমিফাইনালের মতো খেলায় দলের জয়ে যদি আপনার ১০ শতাংশ অবদানও থাকে, সেটাই অনেক। আমি সেটাই করতে চেয়েছিলাম। করতে পেরেছি (Shivam Dube)।’
আরও পড়ুন: Iran India: ইরান যুদ্ধের প্রভাব এড়াতে ভারসাম্যের কূটনীতি, সরু দড়িতে ব্যালান্সের খেলা ভারতের
শিবমের প্রথম বল সামনের দিকে মেরে দুই নেওয়ার চেষ্টা করেন বেথেল। কিন্তু হার্দিক পাণ্ডিয়ার থ্রোয়ে রান আউট হন তিনি। পরের দুই বলেও আসে দুটি সিঙ্গল। সেখানেই খেলা ইংল্যান্ডের হাত থেকে বেরিয়ে যায়। পরে একটি ওয়াইড করেন শিবম। তাঁর শেষ তিনটি বলে তিনটি ছক্কা মারেন জোফ্রা আর্চার। কিন্তু ততক্ষণে ভারত ফাইনালের টিকিট জোগাড় করে ফেলেছে (Shivam Dube)।


